একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকে বিশ্বজুড়ে শিশুশ্রম ষোলো কোটিতে পৌঁছেছে। চলমান করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যৌথ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আলজাজিরার।\হপ্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু গত চার বছরে প্রায় ৮৪ লাখ শিশুকে শিশুশ্রমের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং কভিড-১৯-এর কারণে ২০২২ সালের মধ্যে আরও ৯০ লাখ শিশু একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে আইএলওর মতে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, শিশুদের ব্যাপারে এখনই কার্যকর সামাজিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই সংখ্যাটি চার কোটি ৬০ লাখে পৌঁছাতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে আইএলও মহাপরিচালক জেনারেল গাই রাইডার বলেন, শিশুশ্রমের আনুমানিক এই সংখ্যা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমরা কোনোভাবেই আমাদের আগামী প্রজন্মকে এই বিপদে ফেলতে পারি না। এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে। সর্বশক্তি ব্যয় করে দারিদ্র্য ও শিশুশ্রমের এই দুষ্টচক্রকে সবাই মিলে ভাঙতে হবে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শিশুশ্রম নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিল। আইএলওর পরিসংখ্যান অনুসারে ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে শিশুশ্রম ৯ কোটি চল্লিশ লাখে নেমে এসেছিল। উদ্বেগজনকভাবে গত চার বছরে এ চিত্র পাল্টে গেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী যত সংখ্যক শিশুশ্রম দিচ্ছে তার অর্ধেকের বেশির বয়স পাঁচ থেকে ১১-এর মধ্যে। এ ছাড়া পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা বিপজ্জনক ও ক্ষতিকারক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মোট সংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১১ কোটি দুই লাখ শিশু কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে শিশুশ্রমের হার আশঙ্কাজনক। সাহারা অঞ্চলীয় আফ্রিকার দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, চরম দারিদ্র্য এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অভাব মাত্র চার বছরে অতিরিক্ত এক কোটি ৬৬ লাখ শিশুকে শিশুশ্রমের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাছাড়া করোনা মহামারির প্রভাব প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যে অগ্রগতি হয়েছে তা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ ও আইএলও।

মন্তব্য করুন