ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশার ওপর পরিচালিত যুগান্তকারী এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, ডেঙ্গু জ্বরের ঘটনা অন্তত ৭৭ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। এ গবেষণায় তারা একটি 'অলৌকিক' ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত মশা ব্যবহার করে দেখেছেন, এ ধরনের মশা ডেঙ্গুর বিস্তার করার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। খবর বিবিসির।

পরীক্ষাটি করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিয়াকার্তা শহরে। ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রকোপ কমানোর আশায় এখন এটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দি ওয়ার্ল্ড মসকিউটো প্রোগ্রাম টিম বলছে, এটাই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসের বিষয়ে একটি সমাধান নিয়ে আসতে পারে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড মেডিসিনের অধ্যাপক ডেভিড হ্যামার বলেন, এ পদ্ধতিটি মশাবাহিত অন্যান্য রোগ যেমন জিকা, ইয়েলো ফিভার কিংবা চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সম্ভাবনাময় হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মাত্র ৯টি দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। কিন্তু এখন বছরে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। ডেঙ্গুবিষয়ক এ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত মশা। গবেষকদের একজন ড. কেটি অ্যান্ডারস একে বর্ণনা করেছেন 'প্রাকৃতিকভাবে অলৌকিক' হিসেবে। ওলবাকিয়া মশার ক্ষতি করে না কিন্তু ডেঙ্গু ভাইরাসের জন্য দরকার হয় এমন একটি অংশকে শরীর থেকে সরিয়ে দেয়। ব্যাকটেরিয়াটি ডেঙ্গু ভাইরাস পুনরায় তৈরি হওয়াকে কঠিন করে তোলে। ফলে ওই মশাটি আবার যখন কাউকে কামড়ায় তখন তার আর আক্রমণ করার তেমন সক্ষমতা থাকে না। এ পরীক্ষায় ওলবাকিয়ায় আক্রান্ত ৫০ লাখ মশার ডিম ব্যবহার করা হয়েছে। ডিমগুলো দুই সপ্তাহে একবার করে শহরের একটি জায়গায় পানির পাত্রে রাখা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আক্রান্ত মশার সংখ্যা বাড়াতে ৯ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ইয়োগিয়াকার্তা শহরকে ২৪টি জোনে ভাগ করে অর্ধেক সংখ্যক মশা ছাড়া হয়েছিল। এর ফল নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ৭৭ শতাংশ কমেছে এবং আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার সংখ্যা ৮৬ শতাংশ কমেছে। ড. অ্যান্ডারস বলছেন, এ ফলাফল সত্যিই অভূতপূর্ব। এ পরীক্ষাটিকে একটি মাইলফলক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন