ইরানে ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে। মধ্যপন্থিদের কাছ থেকে ক্ষমতা যাচ্ছে অতি কট্টরপন্থিদের হাতে। শুক্রবারের নির্বাচনে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী হয়েছেন রক্ষণশীল নেতা ইব্রাহিম রাইসি। দেশটির পরমাণু চুক্তি পুনরায় সক্রিয় করা নিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তখন তেহরানের ক্ষমতা যাচ্ছে ডানপন্থি রাইসির হাতে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল। ইরানের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ব্যাপারেও সতর্ক করেন উগ্রপন্থি এই নেতা। ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তাই প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে সখ্য বাড়াচ্ছে ইহুদি রাষ্ট্রটি। এমন পরিস্থিতিতে দুই দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ। সেখানে স্থাপন করা হবে ইসরায়েলি দূতাবাস ও কনস্যুলেট। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে গড়ে তোলা হবে ইহুদিদের টিভি কার্যালয়। তৈরি হবে মিডিয়া হাব।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করে ইরান। চুক্তি মেনে দেশটি পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কথা জানায় পশ্চিমা দেশগুলো। তবে পরিস্থিতি বদলে যায় ২০১৮ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তিকে 'দেশবিরোধী' উল্লেখ করে তা থেকে নিজ দেশের নাম প্রত্যাহার করে নেন। তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি। এ ঘটনায় মধ্যপন্থি রুহানি নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছিলেন রাইসি। আগস্টে সেই রাইসি তেহরানের ক্ষমতায় বসছেন। ইরানের এই নতুন নেতাকে নিয়ে অতি সতর্ক তেল আবিব। রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইসরায়েলের নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা করেন বেনেট। তিনি বলেন, 'খামেনি (ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা) যে লোকগুলোকে বেছে নিতে পারতেন, তার মধ্যে তিনি তেহরানের ফাঁসিদাতাকে বেছে নিয়েছেন। ওই ব্যক্তির ইরান ও বিশ্বজুড়ে পরিচিতি হাজারো নিরীহ ইরানের নাগরিকের ফাঁসির হুকুমদাতা হিসেবে।' রাইসির বিরুদ্ধে অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।\হপরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি- এই ছয় পরাশক্তির সঙ্গে ইরানের আলোচনা গত এপ্রিলে শুরু হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বদলে পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করবে ইরান। সর্বশেষ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় রোববার ওই বৈঠক হয়। কূটনীতিকরা বলছেন, চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে শুরু থেকেই ওই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে ইসরায়েল। চুক্তিটি পুনরায় চালুর বিষয়েও ঘোর আপত্তি তাদের।\হএমন পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তৎপর হয়েছে তেল আবিব। ২০২০ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষের দিকে আমিরাত যাচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাপিদ।\হগত বছর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর এটাই হবে দুই দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২৯ ও ৩০ জুন দুই দিনব্যাপী বৈঠকের জন্য আমিরাত যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এতে পর্যটন, বিমান চলাচল ও অর্থনৈতিক সেবা বিষয়ে আলোচনা হবে। আবুধাবিতে ইসরায়েলি দূতাবাস ও দুবাইয়ে কনস্যুলেট উদ্বোধন করবেন তিনি। এদিকে, সোমবার ইসরায়েলভিত্তিক আই২৪ নিউজ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে দুবাইয়ে তাদের মিডিয়া কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছে।

আই২৪ নিউজ টেলিভিশনের নির্বাহী প্রধান ফ্রাঙ্ক মেলুল বলেন, দুবাই মিডিয়া সিটিতে এই কার্যালয় স্থাপন করা হবে। যা মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি হাবের প্রাণকেন্দ্র থেকে মধ্যপ্রাচ্যের খবর সম্প্রচারে আমাদের কৌশলগত সহায়তা দেবে। সম্প্রচারমাধ্যমের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। তথ্যসূত্র :এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স।

বিষয় : টার্গেট ইরান

মন্তব্য করুন