ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় সম্প্রতি ইসরায়েলের টানা ১১ দিনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মিসর ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হামাস ও তেল আবিবের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর থেকে সেখানে মানবিক সহায়তা পাঠাতে তৎপরতা চালায় আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো। এরই মধ্যে সেখানে নতুন করে দুই দফায় বিমান হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এদিকে, সোমবার বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাসের শেল, স্টান গ্রেনেড ও কামান থেকে পানি নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে এদিনই হামাসের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। ওই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানায় হামাস কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরা ও এএফপির।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর হামাস নেতা ইয়াহিয়া আল-সিনওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, 'এটা বাজে বৈঠক ছিল; সম্পূর্ণভাবে নেতিবাচক। তারা (জাতিসংঘের কর্মকর্তারা) আমাদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেও সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।' হামাসের সঙ্গে ওই বৈঠকে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিবিষয়ক বিশেষ দূত টর ওয়েনেসল্যান্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হামাসের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বদলে হামাসকে একের পর এক শর্ত বেঁধে দিচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি দখলদারদের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে গণপ্রতিরোধের বিকল্প দেখছে না সশস্ত্র সংগঠনটি। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক মাস পর সোমবার অবরুদ্ধ গাজা থেকে সীমিত আকারে বাণিজ্যিক পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এখনও গাজা থেকে মাছ রপ্তানির অনুমতি দেয়নি তেল আবিব। এমনকি উপকূলে মাছ ধরার সীমানা ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামাসের অভিযোগ, অবরুদ্ধ উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কোনো ইচ্ছা নেই ইসরায়েলের। জাতিসংঘ জানায়, ইসায়েলের ওই ১১ দিনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত এক হাজার ১৪৮টি বাড়ি বিধ্বস্ত এবং ১৫ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এরপর তা পুনর্নির্মাণে সহায়তার ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে মানবিক সহায়তা সেখানে পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে, পেপসিকো সোমবার গাজায় অবস্থিত তাদের একটি কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়। এ কারণে ২৫০ কর্মীকে ছাঁটাই করছে কোম্পানিটি। কারখানার এক ব্যবস্থাপক জানান, ৬০ দিন অপেক্ষার পরও কার্বন ডাই-অক্সাইড, সিরাপসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির অনুমতি পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করা নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার সন্ধ্যায় শেখ জারাহর কাছে পূর্ব জেরুজালেমে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা। এ সময় তাদের হটাতে মরিচ গুঁড়া, স্টান গ্রেনেড ও কামান ব্যবহার করে ইসরায়েলি পুলিশ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ওই বিক্ষোভের আগে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষ হয়। ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট বলছে, এতে ২০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের একজনকে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালিয়েছে। এ সময় এগুলো লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে তারা। গতকালও জোর করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ইহুদিরা। এসব নিয়ে সেখানে উত্তেজনা বাড়ছে।

বিষয় : জাতিসংঘ

মন্তব্য করুন