প্রান্তিক কৃষকের সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই হাতে ছিল লাঙলের হাল। তবে ভাবনার পরিধি কখনোই নিজের ক্ষেত-খামারে সীমাবদ্ধ রাখেননি পেদ্রো কাস্তিলিও। চিন্তায়-মননে বামপন্থি ঘরানার 'কৃষক' পেদ্রোই এবার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর। গত বুধবার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙলের বদলে দেশের হাল ধরলেন তিনি। ফ্রি পেরু পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল শপথ নেওয়ার পর পরই তিনি পেরুর জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

অভিষেক ভাষণেও একজন দরিদ্র কৃষকের সন্তান হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন পেদ্রো। ভাষণে তিনি বলেন, 'এই প্রথম পেরু একজন কৃষক দ্বারা পরিচালিত হবে। পেরুতে এখনও ঔপনিবেশিক ক্ষত গভীরভাবে রয়ে গেছে। আমি এই ক্ষত সারিয়ে তুলতে চাই।' ঔপনিবেশিক আমলে তাদের পূর্বসূরিদের শোষণ করা হয়েছে উল্লেখ করে পেদ্রো বলেন, 'ঔপনিবেশিক যুগে পেরুতে শ্রেণি ও বর্ণের ভেদাভেদ তৈরি করা হয়েছে। সেই ভেদাভেদ এখনও গভীরভাবে পেরুতে রয়ে গেছে। এই ভেদাভেদ, এই ক্ষত সারিয়ে তোলা হবে।' এ ছাড়া পেরুতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ব্যাপারেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

কৃষি কাজের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন পেদ্রো। সে অবস্থান থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট হলেন। ক্ষমতায় কৃষক ও শিক্ষক পেশার একজনের আসীন হওয়া দেশটির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক এলিটদের বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। নির্বাচনে পেদ্রোর প্রতিপক্ষ ছিলেন ডানপন্থি কিকো ফুজিমোরি। গত ৬ জুনের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগের সমাধা করতেই প্রায় দেড় মাস সময় লেগে যায়। তবে বিষয়টি শাপেবর হয়েছে পেদ্রোর জন্য। পেদ্রো এমন এক দিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যেদিন স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার ২০০তম বার্ষিকী পালন করছে পেরু। দিনটি নিয়ে দেশটির জনগণের মনে বিশেষ ধরনের আবেগ রয়েছে, যা দেশ পরিচালনায় পেদ্রোকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

পেরুর গ্রামীণ দরিদ্র ভোটারদের সমর্থনেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৫১ বছর বয়সী পেদ্রো। নির্বাচনী প্রচারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে পেরুর খনি ও হাইড্রোকার্বন খাত জাতীয়করণ করার কথা বলেছিলেন পেদ্রো। নির্বাচনে জয়ী হলে এক বছরে এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া অপরাধ মোকাবিলায় পেরুতে পুনরায় মৃত্যুদে র বিধান চালু করার পক্ষে তিনি।

নির্বাচনে পেদ্রো ৫০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পান। কিকো পান ৪৯ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। কিকোকে ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন কৃষকের সন্তান পেদ্রো। যদিও কিকো রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা একজন ঝানু রাজনীতিক। তার বাবা আলবার্তো ফুজিমোরি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট। তবে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আলবার্তো ২৫ বছরের কারাদ ভোগ করছেন।

মন্তব্য করুন