অন্তঃসত্ত্বা নারীদের করোনার টিকা দেওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো গবেষণায়ও এ ব্যাপারে জোর দিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্টেট্রিক সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম পরিচালিত একটি গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে গত শুক্রবার অন্তঃসত্ত্বা নারীদের করোনার টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।

ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, গত মে মাস থেকে করোনার ডেলটা ধরনের প্রভাবে হাসপাতালে ভর্তি অন্তঃসত্ত্বা নারীর অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেলটা ধরন তাদের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে। এ ধরনে আক্রান্ত হলে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা তুলনামূলক বেশি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। গত ২৫ জুলাই এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নারী স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যের দ্য রয়্যাল কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ান্স অ্যান্ড গাইনোকলজিস্টস (আরসিওজি) এবং রয়্যাল কলেজ অব মিডওয়াইফসও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এদিকে গবেষণার ফলাফল পাওয়ার পরই যুক্তরাজ্যের প্রধান ধাত্রী জ্যাকুলিন ডাঙ্কলে-বেন্ট অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা নিতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য দেশের সব ধাত্রী ও জেনারেল প্র্যাকটিশনারদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সব অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এতে তারা নিজেরা ও তাদের অনাগত সন্তানরা রক্ষা পাবে।

দেশটির পাবলিক হেলথ কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মডার্না বা ফাইজারের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে এতে ভয়ের কিছু নেই।

একই বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ডেলটা ওয়েভের সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্তঃসত্ত্বাদের নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। রোগের তৃতীয় ধাপে পৌঁছে রোগী শ্বাসকষ্টে ভোগে।

গবেষক দলের প্রধান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারিয়ান নাইট বলেন, হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। এ থেকেই ধারণা করা যায়, বৈশ্বিকভাবে ডেলটার প্রভাব কতটা ভয়ংকর।