মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অভ্যুত্থানের ছয় মাস উপলক্ষে এর প্রতিবাদে গতকাল শনিবার মান্দালয়, ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। চলমান আন্দোলন ও বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার মুখে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। তার পরও অব্যাহত থাকা আন্দোলন দমাতে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ ও দমন-পীড়ন জারি রেখেছে জান্তা। সহিংসতার কারণে দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বেড়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য। এমন অচলাবস্থার মধ্যে শুরু হয়েছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। সার্বিক অব্যবস্থাপনার মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। কার্যত সামরিককালে দেশটি কিছুই পায়নি, বেড়েছে শুধু হত্যা, নিপীড়ন আর ক্ষুধা ও রোগ।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলে নেয়। আজ তার ছয় মাস পূর্তি হতে যাচ্ছে। এর এক দিন আগে মান্দালয়ে জান্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট কয়েকটি দল। এ সময় শিক্ষার্থীরা মোটরবাইক চালিয়ে লাল ও সবুজ রঙের পতাকা উড়িয়ে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর এর প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে জান্তার বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা টানা ধর্মঘটের কর্মসূচি দিলে আন্দোলন জোরালো হয়। এতে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের সেবা কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। এসব আন্দোলন দমাতে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সেনবাহিনী। দেশটির মানবাধিকার সংস্থা এএপিপি বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন ৯৩৯ গণতন্ত্রপন্থি। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলোর লঙ্ঘন উল্লেখ করে শনিবার মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'মিয়ানমারের জনগণের ওপর এসব হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ; যারা এর জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।'

জাতিসংঘ আগেই বলেছে, দেশটিতে সহিংসতার ফলে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বহু মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগছে। বেড়ে চলেছে দারিদ্র্য। এমন পরিস্থিতিতে শুরু হওয়া করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বেড়েছে। ডেলটা ধরনের সংক্রমণে দ্রুত গতি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এতে শুক্রবার মারা গেছেন ৩৯০ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ৫১২৭ জন।

মন্তব্য করুন