নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আফগানিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে নিরাপত্তা ও শরণার্থী পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) সতর্ক করেছে তালেবান সরকার। গত মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও তালেবানের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। এরপর এক বিবৃতিতে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এভাবে পশ্চিমাদের সতর্ক করেন। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।

মুত্তাকির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমরা বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। যাতে ব্যাংকগুলো তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য গোষ্ঠী, সংস্থা এবং সরকার তাদের নিজস্ব রিজার্ভ ও বৈশ্বিক সহায়তার অর্থ থেকে তাদের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারে।' তালেবানের এই মন্ত্রী পশ্চিমা কূটনীতিকদের বলেন, নিষেধাজ্ঞা আফগান সরকারকে দুর্বল করবে, তাতে কারও লাভ হবে না। বরং এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর পড়বে এবং প্রকট হবে শরণার্থী সংকট। বৈদেশিক সহায়তানির্ভর দেশটিতে কট্টরপন্থিরা ক্ষমতায় আসায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তহবিল আটকে দেয়। এতে দেশটির আর্থসামাজিক অবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বীকৃতি আদায় ও দেশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে তৎপরতা চালায় তালেবান। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর সঙ্গে দোহায় বৈঠক করেন তালেবান নেতারা। এর আগে শনি ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করেন আফগান নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ নেতারা আলোচনায় সন্ত্রাস প্রতিরোধ, মানবিক বিপর্যয় এড়ানো, নারীদের মানবাধিকার রক্ষা ও দেশটিতে আটকে পড়াদের নিরাপদে প্রত্যাহারের মতো ইস্যুতে জোর দিয়েছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তালেবানের সঙ্গে মানবিক সহায়তা ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ জানায়, আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। তবে এ সহায়তা তালেবানের মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে দেবে তারা। এ আলোচনার অন্যতম উদ্যোক্তা কাতার আফগানিস্তানে মানবিক সংকটের বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত মুতলাক আল কাহতানি বলেন, অন্য দেশগুলোকে আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ হিসেবে তালেবান সরকারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে বিশ্বের প্রধান ২০টি অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশের জোট জি২০। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বলেছেন, আফগানিস্তানকে বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে দেওয়া উচিত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তানকে সহায়তা করতে হবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে। চীন, ইতালিসহ অন্য দেশগুলো দেশটিকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সম্মেলনে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ইইউ।

মন্তব্য করুন