ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাঁচ দিনের সফরে বর্তমানে ইসরায়েল রয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সেখানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তনি ব্লিনকেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। এ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। খবর এনডিটিভির।

আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যাওয়ার পর থেকে এশিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্রনীতিও যথেষ্ট জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে তালেবানের সঙ্গে চীনের সখ্য বাড়ায় দিল্লির পররাষ্ট্রনীতি কী হবে- তা নিয়ে যথেষ্ট জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রয়োজন এমন রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব, যারা সর্বদা ভারতের পাশে থাকবে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তা পাবে দেশটি। আর সেই বন্ধু দেশের নাম হিসেবে ইসরায়েলকে বেছে নিতে চাইছে ভারত।

সে লক্ষ্যেই বর্তমানে সফর করছেন ভারতের জয়শঙ্কর। তিনি হাইফার বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, এই মুহূর্তে ইসরায়েল ভারতের সব থেকে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য দেশ, যার ওপর যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্ভর করা চলে।

আর এ কারণে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও আমিরাতকে নিয়ে কোয়াড (চতুর্ভুজ) ফোরাম করছে ভারত।

সোমবারের সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক টুইটবার্তায় লিখেছেন, 'ইসরায়েলের ইয়ার লাপিদ, যুক্তরাষ্ট্রের ব্লিনকেন ও আমিরাতের এবি জায়েদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।' তিনি বলেন, বৈশ্বিক ইস্যু ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ কাজের দ্রুত ফলাফলের ব্যাপারেও সম্মত হয়েছেন তারা। তিনি আরও বলেন, আমাদের সবচেয়ে ঘণিষ্ঠ সম্পর্কের পর্যায়ে আপনারা তিনজন রয়েছেন, যদিও দূরত্বের দিক দিয়ে নিকটবর্তী নয়।

তিনি অ্যান্তনি ব্লিনকেনের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, এ ধরনের ফোরাম যে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। উদাহরণ হিসেবে করোনা মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এস জয়শঙ্কর বলেন, 'আমি মনে করি এটা খুবই পরিস্কার যে, আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ইস্যুগুলোতে আমরা সবাই একই রকমভাবে চিন্তা করি। এখন কাজ করার জন্য কিছু বাস্তবিক বিষয়ে একমত হতে পারলে উপকার হবে।' যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক বিবৃতিতে বলেন, ব্লিনকেন ও তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় বাণিজ্য, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, নৌ-নিরাপত্তা, জ্বালানি সহায়তাসহ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও করোনা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এক মন্তব্যে ভারত, আমিরাত ও ইসরায়েলকে গুরুত্বপূর্ণ তিন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্লিনকেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বিষয়টির সন্ধান করছি, তা হলো সমন্বয়। আর এই বৈঠকের পর আমরা এটাই করার চেষ্টা করব। এ বৈঠকে তিনি এমন একটি কোয়াড ফোরামের ওপর গুরুত্ব দেন, যারা বিশ্বে প্রকৃত বাণিজ্যকে কার্যকর করতে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এমন একটি ফোরামের জন্য ইয়ার লাপিদ ও ব্লিনকেনকে ধন্যবাদ জানান আমিরাতের শেখ

আল নাহিয়ান।

মন্তব্য করুন