পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বড় জয়ের পর ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব বেড়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে একের পর এক রাজ্যে দলের বিস্তার ঘটাতে মন দিয়েছেন মমতা।

সেই ধারাবাহিকতায় ত্রিপুরায় দলকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে। তবে এবার তিনি নজর দিয়েছেন পর্যটনের জন্য সুপরিচিত গোয়া রাজ্যে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা দলকে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে দিতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন। সে অনুযায়ী তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন বড় নেতা ও বিজেপির কয়েকজন নেতাকে এরই মধ্যে তৃণমূলে ভিড়িয়েছেন। তাদের নিয়ে দেশজুড়ে মাঠ গোছানোর কাজ করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়। এরই মধ্যে ত্রিপুরায় কয়েকটি বৈঠক ও সমাবেশ করেছেন তিনি। তাতেই নড়ে গেছে ত্রিপুরার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকার। এবার তৃণমূল গোয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা নিজেই ২৮ অক্টোবর গোয়ায় দলীয় প্রচারে যাচ্ছেন। তার এই সফরে থাকতে পারে একাধিক চমক। তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। যোগদানের তালিকায় নাম রয়েছে তিন সেলিব্রেটির। তারা হলেন- বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক ও সংগীত পরিচালক লাকি আলি, সাবেক সাঁতারু ও অভিনেত্রী নাফিসা আলি এবং রেমো ফার্নান্ডেজ। তারা তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন সাংসদ সৌগত রায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সালগাঁওকারের একাধিক ফুটবলারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। মমতার সফরের সময় এই যোগদান পর্ব সম্পন্ন হবে জানা গেছে।

লাকি আলি ও নাফিসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। নাফিসা বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বারবার মমতার প্রশংসা করে টুইট করেছেন।

প্রসঙ্গত, নাফিসার জন্ম কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতা থেকে ২০০৪ সালে মমতার বিরুদ্ধে ভোটে লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সেই নাফিসাই এখন 'বাঘিনী' বলে সম্বোধন করেছেন মমতাকে।

কয়েক মাস ধরে গোয়ায় মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে তৃণমূলের পক্ষে ভোট কৌশলী হয়ে কাজ করা সংগঠন আইপ্যাক। এই সংগঠনের প্রধান প্রশান্ত কিশোর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে তৃণমূলের জন্য মাঠ পর্যায়ে শক্তি জুগিয়েছিলেন। গোয়া নিয়ে আইপ্যাকের সমীক্ষায় দেখা গেছে, উপকূলবর্তী এ রাজ্যে বিজেপিবিরোধী হাওয়া রয়েছে। সেই হাওয়াকে কাজে লাগাতে চায় তৃণমূল।

মন্তব্য করুন