গ্রেটা টুনবার্গ। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দিনের পর দিন একাই আন্দোলন করে যাচ্ছেন এই কিশোরী। ধীরে ধীরে তার এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে। জাতিসংঘের সমাবেশে দাঁড়িয়েও জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতাদের কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সাহসী এই পরিবেশবাদী। এখন গ্রেটার বয়স ১৮। জলবায়ু নিয়ে সক্রিয় কার্যক্রমে ২০১৯ সালে হয়েছেন টাইম বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক নানা পুরস্কার। সাহসী, সংগ্রামী আর ভীষণ জেদি পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা কি ব্যক্তিগত জীবনেও একই রকম? সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন গ্রেটা নিজেই।

রাজপথে আন্দোলনরত গ্রেটা আর ঘরের গ্রেটার মধ্যে বিশাল তফাৎ রয়েছে এবং গ্রেটা চানও না, সেই গ্রেটাকে মানুষ জানুক। সুইডেন পার্লামেন্টের পাশে দিনের পর দিন প্ল্যাকার্ড হাতে বসে থাকা গ্রেটা নিজের জীবন নিয়ে বেশ উদাসীন। তিনি বলেন, 'গণমাধ্যমের সামনে আমি খুব রেগে থাকি, তবে ব্যক্তিজীবনে আমি এমন নই। আমি খুবই শান্তশিষ্ট। আমার বর্তমান জীবন, ভবিষ্যৎ একেবারেই আকর্ষণীয় নয়।' পরিবেশবাদী সেলিব্রেটি নয়, নিজেকে একজন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী হিসেবেই দেখতে চান গ্রেটা।

অনেকেই মনে করেন, পরিবেশ নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মধ্যেই আটকে থাকে। অনেকেই বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে যথেষ্ট কিছু হচ্ছে না, বরং এর সমাধানের বিষয়ে বিশ্বকে জানানো সহজ। সমালোচকদের এই দাবির বিষয়ে কী বলতে চান?- বিবিসির এমন প্রশ্নের উত্তরে গ্রেটা বলেন, 'এখানেই পরিবেশকর্মীর কাজ। সবাইকে একত্র করতে বক্তব্য দিতে হবে। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া আমাদের কাজ না।'

জলবায়ু আলোচনার জন্য কোন বিষয়টাকে সফল বলে মনে করেন? এর উত্তরে গ্রেটা বলেন, 'আন্দোলন তখনই সফল হবে, যখন মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে। যখন বুঝবে আমরা কত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার। তখনই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবাই সোচ্চার হবে, তবেই কাজটা সহজ হবে। অন্যথায় আন্দোলন করে কোনো সমাধান আসবে না।

মন্তব্য করুন