উত্তর কোরিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছেড়ে শর্তহীন আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। গতকাল রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এক বৈঠকে উত্তর কোরীয় বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক সাং কিম এ আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ফের নরম সুর দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। খবর আলজাজিরা ও এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো বন্ধের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক সাং কিম ফের আলোচনার শুরুর অনুরোধ জানান। সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম সিরিজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দুই বছরের মধ্যে এটি প্রথম পানির নিচ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। ওয়াশিংটন ও পিয়ং ইয়ংয়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক কূটনীতি দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়া এসব অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রতিবেশী দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতি নিয়ে রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেন উত্তর কোরীয় বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক কিম। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের উস্কানি ও অন্যান্য অস্থিতিশীল কার্যকলাপ বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতি কোনো শত্রুতাপূর্ণ উদ্দেশ্য পোষণ করে না। কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। গত মঙ্গলবার তারা পঞ্চম দফায় অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। সর্বশেষ তারা সাবমেরিন থেকে একটি নতুন উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানান, সাবমেরিন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি দৃশ্যত প্রাথমিক অবস্থার বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর এটাই এ ধরনের প্রথম পরীক্ষা। সাবমেরিন থেকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে তা আগেভাগে শনাক্ত করা খুব কঠিন। সাং কিম বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে যে রেজ্যুলেশন দেওয়া হয়েছে, এই অস্ত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তা বারবার লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা তাদের প্রতিবেশীদের এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। এ পরীক্ষাকে তিনি উদ্বেগজনক এবং কোরিয়ান দ্বীপাঞ্চলে টেকসই শান্তির প্রতি এক পাল্টা হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত যেসব দাবি জানিয়ে আসছে, দৃশ্যত তা প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। তারা অভিযোগ করে বলেছে, যখন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত ওয়াশিংটন ও সিউল। সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বলে গত বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া। তারা ওয়াশিংটনের আলোচনা প্রস্তাবের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দু'দফা আলোচনা হয়। কিন্তু সব আলোচনাই ভেস্তে গেছে। তবে বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে আবারও আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে আসছে দক্ষিণ কোরিয়াকে।

মন্তব্য করুন