জাতিসংঘে চীনের ৫০ বছরপূর্তি হয়েছে গতকাল সোমবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় পিপলস রিপাবলিক অব চায়না (পিআরসি)। ঐতিহাসিক এ দিনটি উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বৃহত্তর বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বাস্তবতায় বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো নিয়ে জাতিসংঘ গঠিত হয়। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার সময় এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল চীন। জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষরকারী প্রথম ৫০ দেশের মধ্যেও তারা ছিল। ওই বছর থেকেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন। তখন চীনের নাম ছিল রিপাবলিক অব চায়না (আরওসি)। এই নামেই ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের সদস্য ছিল দেশটি।

১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবে মূলভূমিতে ক্ষমতায় আসে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। চীনের নাম আরওসি থেকে পরিবর্তন করে রাখা হয় পিআরসি। তারা অখণ্ড চীনে পিআরসির সার্বভৌমত্ব দাবি করে। তবে তাইওয়ানে তখনও ক্ষমতা ধরে রাখে আরওসি। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে পুরো চীনের সার্বভৌমত্বের জোরালো দাবি ছিল আরওসির। দুই পক্ষের এই বিরোধ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের বিরোধিতার কারণে পিআরসি জাতিসংঘে স্বীকৃতি পায়নি। সরাসরি বাধা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। অবশেষে ১৯৭১ সালে আরওসিকে বাদ দিয়ে পিআরসিকে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। ওই বছরের ২৫ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে পিআরসি হিসেবে চীনের নাম প্রস্তাব করে নামিবিয়া এবং সেটি পাস হয়। যে কারণে জাতিসংঘে কমিউনিস্ট চীনের আনুষ্ঠানিক যাত্রার ৫০ বছর পূর্তি হলো গতকাল।

দিনটি উপলক্ষে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং। জাতিসংঘে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারের প্রতিনিধিকে জাতিসংঘে চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধির স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল চীনের জনগণ ও বিশ্বের সব মানুষের জয়।'

ভাষণে জিনপিং বারবার বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে বহুপক্ষীয় সমাধান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি এমন সময় এই আহ্বান জানান যখন বিশ্বজুড়ে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

তিনি আরও বলেন, 'চীন দৃঢ়ভাবে সব ধরনের আধিপত্যবাদ, ক্ষমতার রাজনীতি, একতরফাবাদ ও সুরক্ষাবাদের বিরোধিতা করে।' তিনি বিশ্বের দেশগুলোকে শান্তি, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, স্বাধীনতার মতো মূল্যবোধগুলোর উন্নয়নের আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন