মিয়ানমারকে ছাড়াই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জোটের সদস্য ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে এ সংম্মেলন শুরু হয়। তবে এতে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হদ্মাইংকে আমন্ত্রণ না জানানোয় এ সম্মেলন বয়কট করেছে নেপিদো। খবর আলজাজিরার।

আসিয়ানের প্রেসিডেন্ট দেশ ব্রুনাইয়ের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এ ভার্চুয়াল সম্মেলন চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বা জোটের মহাসচিব মিয়ানমারকে বাইরে রেখে সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আঞ্চলিক শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানায়নি আসিয়ান। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর আসিয়ানের এক বৈঠকে জান্তাপ্রধানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে নজিরবিহীনভাবে একমত হয় জোটের সদস্যরা।

গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশটির ক্ষমতা দখল করেন মিন অং হদ্মাইং। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে টানা আন্দোলন চলছে। দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে গত এপ্রিলে এক বৈঠকে জান্তাপ্রধানের সঙ্গে পাঁচ দফা সমঝোতা হয় আসিয়ানের। এত দিনে তার একটিও বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাকে আমন্ত্রণ জানায়নি আঞ্চলিক জোটটি।

সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না আসিয়ান। তবে এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তাদের এই পদক্ষেপকে বিরল ও অত্যন্ত কড়া বলেই মনে করা হচ্ছে। আসিয়ানের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সম্মেলনে মিন অং হদ্মাইং আমন্ত্রণ না পাওয়ার পেছনে বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছে মিয়ানমার। এতে অরাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক চ্যান আই-ইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তিনি যোগ দেননি। তবে এ ভার্চুয়াল সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও অংশ নেবেন।

এদিকে, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিনিধি দুয়া লাশি লা ও জিন মার অংয়ের সঙ্গে সোমবার ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সলেভান।

মন্তব্য করুন