সুদানে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। গতকাল মঙ্গলবারও অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিতে সাতজন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাশাসনের বিরোধিতায় রাজপথে নামা বহু মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালানো হলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ কথা জানান। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

সোমবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার ও দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির পর প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। রাজধানী খার্তুমে সেনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় বিক্ষোভ আয়োজকদের গ্রেপ্তার করছে। এ অভ্যুত্থান বিশ্বব্যাপী নিন্দা কুড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ৭০ কোটি ডলারের একটি ত্রাণ সহায়তা স্থগিত করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী খার্তুমসহ অন্যান্য শহরে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে আসেন। বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। আহত এক বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের বলেন, সামরিক সদর দপ্তরের বাইরে তার পায়ে গুলি করেন সেনারা। সেনাসদস্যরা প্রথমে স্টা গ্রেনেড এবং তারপর সরাসরি গুলি চালান। আল-তায়েব মোহাম্মদ আহমেদ নামের একজন বলেন, আমার চোখের সামনে দু'জন লোকের মৃত্যু হলো। অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশের ক্ষমতা দখলের জন্য রাজনৈতিক কোন্দলকে দায়ী করেছেন। দুই বছর আগে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বেসামরিক নেতা ও সামরিক বাহিনীর নেতাদের নড়বড়ে এক ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল সুদান। দেশটিকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সামরিক-বেসামরিক সার্বভৌম পরিষদ। তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ বেড়েই চলছিল। ক্ষমতা গ্রহণের পর জেনারেল বুরহান ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন করতে চান। নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। 'সুরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষায়' সশস্ত্র বাহিনীর এ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল বলে দাবি করেছেন বুরহান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় মিলিত হতে পারে বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন