বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে আফগানিস্তান। গত আগস্টে তালেবান গোষ্ঠী দেশটির ক্ষমতা দখলের পর থেকে মানবিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে শুরু করেছে। এখন দেশটিতে খাদ্যের জন্য হাহাকার চলছে। খাদ্যাভাবে মৃত্যুর মুখে লাখ লাখ মানুষ। না খেয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু শিশু মারা গেছে। ক্ষুধার্ত আফগানরা এখন জীবন বাঁচাতে কন্যাশিশুদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এএফপির অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এ রকম অন্তত ১২টি পরিবার পেয়েছেন, যারা কেবল খাবারের প্রয়োজনে নিজেদের কন্যাশিশুকে বিক্রি করেছেন।

ফাতেমা (ছদ্মনাম) বর্তমানে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে বাস্তুচ্যুতদের জন্য কাঁচা ইটের তৈরি একটি ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। এএফপির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার পাশে বসেছিল ছয় বছরের ফারিস্তে ও ১৮ মাসের শখরিয়া। খাদ্যাভাবে তাদের বিয়ে দেওয়ার শর্তে অগ্রিম অর্থ নিতে বাধ্য হয়েছে তাদের পরিবার। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কান্না থামাতে পারছিলেন না তিনি।

ফাতেমা বলেন, 'আমার স্বামী বলেছিলেন, যদি আমরা আমাদের কন্যাশিশুদের বিলিয়ে না দিই, তাহলে সবাই মারা যাবে। কারণ, আমাদের খাবার কেনার মতো কিছুই নেই। আমরা অর্থের জন্য আমাদের মেয়েদের বিক্রি করেছি।'

আফগানিস্তানে পুরাতন রীতি অনুযায়ী, কনের জন্য তার পরিবারকে তিন হাজার ৩৫০ থেকে দুই হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হয় বরপক্ষের। এ চুক্তির সময় তাদের স্বামীরাও শিশু থাকে। কনে হয়ে ওই স্বামীর পরিবারে যাওয়ার আগে এই অর্থ কয়েক ধাপে দিতে হয় কন্যার পরিবারকে।

বাগদিস প্রদেশে বাস্তুচ্যুত ক্যাম্পের নেতারা বলেন, ২০১৮ সালে দুর্ভিক্ষ ও পরবর্তী খরার পর কন্যাশিশুদের বিয়ে-বিক্রি মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এ রকমভাবে বিক্রি করা এক শিশুর বাবা বলেন, আমার মেয়ে জানে না তার ভবিষ্যৎ কী হবে। জানি না সে এটাকে কীভাবে নেবে। কিন্তু আমাকে এটা করতে হয়েছে।

তাদের বিক্রির শর্তে বলা হয়েছে, শিশুটি হাঁটা শিখলে ক্রেতা তাকে নিয়ে যাবেন এবং তার ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেবেন। খবর এএফপির।

মন্তব্য করুন