ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফেসবুকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা ফ্রান্সিস হাউজেন। স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারি সিলেক্ট কমিটির কাছে ফেসবুকের অনিয়মের হাজারো নথি তুলে দেন তিনি। এ তথ্য ফাঁসকারী বলেছেন, ফেসবুকের অ্যালগরিদম এমনভাবে সাজানো যাতে সহজে এর মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ও সহিংসতা উস্কে দেওয়া যায়। এ প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বেশি ব্যয়বহুল হওয়ায় মূলত সেদিকে আগ্রহ দেখায় না প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য সমাজে ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধে এবং ফেসবুকের ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরতে জরুরি নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান ফ্রান্সিস হাউজেন। খবর গার্ডিয়ানের।

ফ্রান্সিস হাউজেন ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ছিলেন। তিনি সম্প্রতি ফেসবুকের হাজারো অনিয়মের তথ্যসংবলিত নথি প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গুজব ও সহিংসতা ছড়ানোর পেছনে এর দায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণের বিধিমালা (অনলাইন সিকিউরিটি বিল) প্রণয়নের প্রস্তাব করেছে। যার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে দায়বদ্ধ করা যায়। এ বিষয়ে মতামত দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্য গেছেন ফেসবুকের সাবেক এই কর্মকর্তা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটির কাছে ফ্রান্সিস হাউজেন অভিযোগ করেন, ফেসবুক শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টিতে ইন্ধন জোগায়। এ ছাড়া এর অ্যালগরিদম এমনভাবে সাজানো যাতে গুজব বা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কন্টেন্ট খুবই দ্রুত এক শ্রেণির গ্রাহকদের কাছে সহজে পৌঁছায়, যা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। এর মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের বিস্তৃতি হয়। এ জন্য ফেসবুক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাকে 'অর্থ ব্যয় প্রকল্প' হিসেবে দেখে থাকে।

এদিন তিনি ব্রিটিশ এমপিদের সতর্ক করে বলেন, ফেসবুক বিশ্বজুড়ে আরও সহিংসতা উস্কে দিতে পারে। কারণ এর গ্রাহক বাড়ানোর জন্য প্ল্যাটফর্মটির তথ্য বিন্যাস ব্যবস্থাপনা এমনভাবেই সাজানো। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি কমিটির কাছে হাউজেনের এমন অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের অনিয়মের হাজারো নথি প্রথমে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের অনুসন্ধান টিমকে দিয়েছিলেন ফেসবুকের এই সাবেক কর্মকর্তা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ফেসবুকের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামও তরুণ-তরুণীদের জন্য বিপজ্জনক। এরপর গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটিকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণ-নথি দেন তিনি। তখন হাউজেন বলেছিলেন, ফেসবুক গ্রাহকের নিরাপত্তার চেয়ে লাভকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

সিনেট কমিটির সামনে হাজির হয়ে হাউজেন বলেছিলেন, 'নিজেদের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ করার ক্ষেত্রে ফেসবুক এমন কোনো পরিবর্তন করতে চায় না, যা তাদের লভ্যাংশে ক্ষতি বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।'

যদিও এসব অভিযোগ শুরু থেকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তিনি বলেছেন, সারাবিশ্বে ফেসবুকের ৩ বিলিয়ন গ্রাহকের অবস্থান অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও একতরফা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

মন্তব্য করুন