রাজপরিবারের সদস্যরাই রাজন্য। তবে ভালোবাসার জন্য রাজন্য থেকে সাধারণ হলেন জাপনের রাজকন্যা মাকো। রাজপ্রাসাদ ছেড়ে দীর্ঘদিনের সহপাঠী ও বন্ধু কেই কোমুরোকে গতকাল মঙ্গলবার বিয়ে করলেন মাকো। আর এর মধ্য দিয়ে রাজপরিবারে ফেরার রাস্তা চিরতরে বন্ধ হলো তার জন্য। ভালোবাসার জন্য এর আগেও রাজ্য ছেড়েছেন অনেকে। ডেইলি মেইল।

অষ্টম এডওয়ার্ড (ব্রিটেন) :ব্রিটেনের রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড। সিংহাসনের মায়া ত্যাগের মাধ্যমে প্রেমকে জিতিয়ে প্রমাণ করেন সিংহাসনের চেয়ে প্রেম বড়। ১৯৩৬ সালের ২০ জানুয়ারি এডওয়ার্ডের বাবা রাজা পঞ্চম জর্জ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর অষ্টম এডওয়ার্ড নাম ধারণ করে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী রাজ্য ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সিংহাসনে আরোহণ করেন তিনি। তবে ভালোবাসার কাছে হেরে যায় সে সিংহাসনের মায়া। ১৯৩৬ সালের ১০ ডিসেম্বর সিংহাসন ত্যাগ করেন অষ্টম এডওয়ার্ড। ১৯৩৭ সালের ৩ জুন প্রেমিকা ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামীর ঘর করার সময়ই ওয়ালিসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান অষ্টম এডওয়ার্ড। একজন ডিভোর্সি এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরনিকে বিয়ে নিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ব্রিটিশ চার্চ। কারণ অষ্টম এডওয়ার্ড ছিলেন ইংল্যান্ড চার্চের প্রধান। এ ঘটনা সে সময় পৃথিবীব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

সুলতান মুহাম্মদ পঞ্চম (মালয়েশিয়া) : মালয়েশিয়ার ইতিহাসে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রেমের জন্য সিংহাসন ত্যাগের ঘটনা এটি। মালয়েশিয়ার রাজা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই বছরের মাথায় পদ ছাড়েন রাজা সুলতান মুহাম্মদ পঞ্চম। রুশ মডেল মিস মস্কো ওকসানা ভয়েভোদিনাকে বিয়ে করে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি সিংহাসন ছাড়েন ৪৯ বছর বয়সী এ রাজা।

প্রিন্স হ্যারি (ব্রিটেন) :প্রেমের জন্য রাজপরিবার ত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারি। ডির্ভোসি অভিনেত্রি মেগান মার্কেলকে বিয়ের সময় থেকেই এ নিয়ে সারাবিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর গত ৮ ডিসেম্বর হঠাৎই রাজপরিবারের সামনের কাতারের সব দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান।

রাজকন্যা মাকো (জাপান) :সর্বশেষ ভালোবাসার জন্য রাজপরিবার ত্যাগ করলেন জাপানের রাজকন্যা মাকো। বাড়ি ছাড়ার আগে বাবা-মাকে সম্মান প্রদর্শন করেছেন তিনি। জড়িয়ে ধরেছেন বোন কিকোকে। তারপর গাড়ি করে বিয়ে করতে গেছেন নিজের দীর্ঘদিনের বন্ধুকে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিয়ে নিবন্ধনের জন্য টোকিওর বাসভবন ছাড়েন তিনি। জাপানের আইন অনুযায়ী রাজপরিবারের কোনো নারী সদস্য সাধারণ মানুষকে বিয়ে করলে তাকে রাজকীয় মর্যাদা ছেড়ে যেতে হয়। রাজপুত্রের ক্ষেত্রে অবশ্য সে নিয়ম খাটে না। রাজকন্যা চলে গেলে তাকে অর্থ সাহায্য করা হয়, যা দিয়ে তার পরবর্তী জীবন কাটবে। তবে মাকো সেই অর্থও নেননি। অর্থাৎ রাজকীয় তহবিলও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মন্তব্য করুন