করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন এ ধরনটির বারবার জিনগত রূপ বদলের কারণে এটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। বলা হচ্ছে, জিন বিন্যাসে পরিবর্তনের কারণে এ ভাইরাস অনেক বেশি দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখতে পারে। গবেষণাগারে এই ধরনের নাম বি.১.১.৫২৯ হলেও ডব্লিউএইচও ধরনটির নাম দিয়েছে 'ওমিক্রন'। এর আগে গত শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছিল অন্য ধরনগুলোর মতো এই ধরনটিরও একটি গ্রিক নাম দেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।

করোনার ধরনগুলোর নাম গ্রিক বর্ণমালার নামানুসারে রাখা হবে। চলতি বছরের মে মাসে নামকরণের এই পদ্ধতি ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। তবে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গণযোগাযোগ সহজ করতে ও বিভ্রান্তি কমাতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হলেও এই পদ্ধতি নিজেই এখন 'রাজনৈতিক সংকট' তৈরি করেছে।

কভিড-১৯ আবিস্কার হওয়ার পর শুরু থেকেই এটির নতুন ধরনগুলোকে নামকরণের জন্য গ্রিক বর্ণমালা অনুসরণ করা শুরু করে ডব্লিউএইচও। যেমন- আলফা, বেটা, গামা, ডেল্টা ইত্যাদি। নিয়ম অনুযায়ী এরপরের করোনা ধরনটির নাম হবে 'নিউ'। কিন্তু ইংরেজি 'নিউ' শব্দের সঙ্গে এটির সাদৃশ্য থাকায় এই নামটি বাদ দেওয়া হয়। তবে পরের নামটিতে গিয়ে আরও বড় 'রাজনৈতিক সংকট' তৈরি হয়েছে। গ্রিক বর্ণমালায় 'নিউ' বর্ণের পরের অক্ষর 'জাই'। যেটি চীনা ভাষায় উচ্চারণের দিক থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নামের বানানের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এমনিতেই করোনার উৎপত্তি নিয়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলোর স্নায়ুযুদ্ধ বেশ চরমে। এমতাবস্থায় করোনার নতুন ধরনের নাম 'শি' রাখা হলে নিশ্চিতভাবেই তা বিশ্বে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। এসব 'ঝামেলা' থেকে দূরে থাকতেই গ্রিক বর্ণমালার ১৫তম অক্ষর ওমিক্রনের নামে নতুন ধরনের নামকরণ করেছে ডব্লিউএইচও।

মন্তব্য করুন