ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিল বিল পাস হয়েছে। গতকাল সোমবার বিরোধীদের আলোচনার সুযোগ না দিয়ে মাত্র চার মিনিটেই এই বিল পাস করিয়ে নেন ক্ষমতাসীন বিজেপির এমপিরা। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা কৃষকদের আন্দোলনের মুখে এই আইন বাতিল করতে বাধ্য হয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। শুরুতেই আলোচনার দাবিতে পার্লামেন্টে স্লোগান দেন বিরোধীরা। পরে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান তারা। এতে পার্লামেন্ট অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। পরে সংক্ষিপ্ত সময়ে বিল পাস করায় তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূলের সাংসদরা। বিক্ষোভ করেছেন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় কংগ্রেসের এমপিরা। তবে সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক নেতারা। খবর এনডিটিভি ও দ্য হিন্দুর।

কৃষি আইন বাতিল বিল নিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূলসহ বিরোধীদের আলোচনার দাবির মধ্যে গতকাল দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে ফের অধিবেশন শুরু হয়। তখনই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল-২০২১ পেশ করা হয়। বিরোধী এমপিদের বিতর্কের সুযোগ না দিয়ে ১২টা ১০ মিনিটে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস করিয়ে নেন সরকারদলীয় এমপিরা। পরে রাজ্যসভায় সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বিলটি পাস হয়। রাজ্যসভার কংগ্রেস নেতা মল্লিখার্জুন খাগড়ে বলেছেন, সব দলই ওই বিলে সম্মতি দিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম আমলে (২০১৪-১৯) ২০১৭ সালে বাতিল ও সংশোধনী বিলও দ্রুত পাস হতো। ছয় এমপি আলোচনায় অংশ নিতেন। তবে কৃষি আইন বাতিল বিল-২০২১ তোলা হলো, পাস হলো। আলোচনার সুযোগ নেই। এমনকি কণ্ঠ গণতন্ত্রেরও না। নির্লজ্জ।' বিরোধীদের দাবি, কৃষিপণ্যের নূ্যনতম সহায়তা মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা এড়াতে বিতর্কের সুযোগ দেয়নি সরকার। গতকাল সকালে অধিবেশন শুরুর পরই এই দাবিতে স্লোগান দেন বিরোধীদলীয় এমপিরা। অধিবেশনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সব ধরনের প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আলোচনাই হয়নি। ওইদিন পার্লামেন্টের বাইরে রাহুল গান্ধী বলেছেন, আসল বিষয়টি এই ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রতিনিধিত্বকারী ভারতীয় জনগণের শক্তির মুখোমুখি হতে পারেনি সরকার। আমরা আলোচনা চেয়েছিলাম। তারা অনুমতি দেয়নি। এতে ইঙ্গিত করে সরকার ভীত।

পার্লামেন্টে তৃণমূলসহ বিভিন্ন দলের ১২ এমপি সাসপেন্ড :বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে শীতকালীন অধিবেশনের জন্য কংগ্রেস, তৃণমূল ও শিবসেনার ১২ এমপিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডুর প্রতি দুর্ব্যবহার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর আক্রমণ করে সংসদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বিরোধীরা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন