করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে। এই লম্বা সময়ে করোনা প্রতিরোধে টিকা ও মুখে খাওয়ার ওষুধ আবিস্কৃত হয়েছে। ভাইরাস থেকে বাঁচতে পরিবর্তন এসেছে ব্যক্তিগত জীবন পদ্ধতি থেকে জাতীয় জীবনে। তবু এখনও সমান দাপটে পৃথিবীকে নিত্যনতুন ভোগান্তিতে ফেলছে করোনা। এখনও প্রায় আগের মতোই প্রাণঘাতী রয়ে গেছে এই ভাইরাস। নিকট অতীতে করোনার শক্তিশালী ধরন ডেলটায় ভুগেছে বিশ্ব। সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি না পেতেই নতুন চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে করোনাভাইরাস। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় চিহ্নিত করোনার পরিবর্তিত ধরন ওমিক্রন আবারও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বিশ্ববাসীর মনে। ইতোমধ্যেই এই ধরন পৃথিবীর অর্ধশতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি ঠেকাতে উন্নত ও নিরাপদ দেশগুলো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই গবেষণাগারে পরাজিত হবে ওমিক্রন। তবে পূর্বের চেয়েও সংক্রামক ও প্রাণঘাতী নতুন কোনো ধরন যে অদূর ভবিষ্যতে আবারও পৃথিবীর বুকে হানা দেবে না, সে নিশ্চয়তা বিজ্ঞানীরা কোনোভাবেই দিতে পারছেন না। তারা বলছেন, ওমিক্রনের মতো আরও ধরন বা নতুন ভাইরাসের মধ্যেই সবাইকে বাঁচতে হবে। আপাতত 'দমন নয়, করোনা প্রতিরোধ' তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা এবার বলছেন, এখন পর্যন্ত করোনা মহামারির বিরুদ্ধে পুরোপুরি কার্যকর কোনো ওষুধ আবিস্কৃত না হলেও করোনাকে প্রতিরোধ করার 'অস্ত্র' পৃথিবীর মানুষের কাছে এখনই রয়েছে। শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এই 'অস্ত্র' এখনও কাজ করছে না।

একেবারে শুরু থেকেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এখন পর্যন্ত সেসব নির্দেশনা করোনাকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর বলেই প্রমাণিত হয়েছে। তবে এসব নির্দেশনা পৃথিবীর অনগ্রসর দেশগুলোর জনগণের কাছে কখনই সময়মতো সঠিকভাবে পৌঁছায়নি। একই অভিযোগ প্রযোজ্য আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন ও লকডাউনের মতো সামাজিক বিধিনিষেধের ক্ষেত্রেও। পর্যাপ্ত প্রচার ও বিধিনিষেধ আরোপে সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনাগ্রহ, সমন্বয় ও সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব করোনাকে বিশ্বব্যাপী আরও শক্তিশালী করেছে।

বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মহামারি শুরু হওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই করোনার বেশ কয়েকটি টিকা আবিস্কৃত হয়েছে। এসব টিকা কম-বেশি হারে করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর বলেও প্রমাণিত হয়েছে। টিকা আবিস্কার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনও বিশ্বের প্রতিটি মানুষের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়নি। পুরো জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ টিকা পায়নি এমন দরিদ্র দেশ আফ্রিকা ও এশিয়ায় এখনও বর্তমান। করোনার নতুন নতুন ধরনের অধিকাংশই এসব দরিদ্র দেশে চিহ্নিত হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনার পেছনে রয়েছে টিকা নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি ও আন্তর্জাতিক কূটরাজনীতি। করোনার বিরুদ্ধে এসব 'অস্ত্র' সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে নিশ্চিতভাবেই এতদিনে মহামারি পর্যুদস্ত হতো মানুষের কাছে।

ওমিক্রনের সর্বশেষ অবস্থা :ওমিক্রন নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইতোমধ্যেই দেশটিতে প্রবেশকারী বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য কঠোরভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এদিকে, করোনাভাইরাসের ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। এ ছাড়া ভারতের দিল্লিতে প্রথমবার ওমিক্রন আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ভারতে করোনার নতুন এ ধরনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে। সেনেগাল ও এশিয়ার লাওসে প্রথমবারের মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন