ইউক্রেনে আক্রমণ করা হলে রাশিয়ার ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অবরোধ রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক এবং দেশটির মুদ্রা রুবলকে ডলার ও অন্যান্য মুদ্রায় রূপান্তর করার সক্ষমতার ওপর অবরোধ আরোপ করা হবে। এমন কঠিনতম অবরোধ দেওয়া হবে, যা আগে কখনও আরোপ করা হয়নি। ইউক্রেন সংকট নিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিনের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠকে কথা রয়েছে। এর আগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা এমন হুঁশিয়ারি দেন। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

সম্প্রতি ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখ ১৫ হাজার সেনা, ট্যাঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এর পরই দেশটিতে মস্কো হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এমন পরিকল্পনার প্রমাণ আছে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাস্তবে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করেছে কিনা, তা এখনও সুস্পষ্ট নয়। এমন প্রেক্ষপটে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে পুতিনকে ফেরাতে পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পুতিনের সঙ্গে ভার্চুয়াল কথোপকথনের আগে সোমবার ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জো বাইডেন। পশ্চিমা নেতারা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে কিনা এবং তাদের সেনাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকিতে মস্কো বিরত থাকবে কিনা- এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি হোয়াইট হাউস। তবে বৈঠকে পুতিনকে বাইডেন নিশ্চিত করবেন, সামরিক আক্রমণের দিকে অগ্রসর হলে বাস্তবিক, তাৎপর্যপূর্ণ ও অসীম মূল্য দিতে হবে রাশিয়াকে। তারা জানিয়েছেন, মস্কো আক্রমণ করলে তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা। তারা আরও বলেন, পুতিনকে এও নিশ্চিত করা হবে, পূর্বাঞ্চলীয় মিত্রদের থেকে অনুরোধ বাড়বে এবং অতিরিক্ত সেনা, সক্ষমতা ও মহড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়াকে উত্তেজনা হ্রাস এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের একমাত্র মাধ্যম তথা কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, আগামী জানুয়ারিতে বড় ধরনের আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকে অস্বীকার করে আসছে ক্রেমলিন। মস্কো পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, কৃষ্ণ সাগরে সামরিক মহড়ার জন্য পশ্চিমারা উত্তেজনা তৈরি করছে। এর আগে বাইডেন বলেছিলেন, বৈঠকের মাধ্যমে পুতিনের কাছে ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সত্যিকার পরিকল্পনা জানতে চাইবে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই বৈঠক থেকে যুগান্তরকারী কিছু আশা করছে না মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, যদিও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন অত্যন্ত দুঃখনজক অবস্থায় রয়েছে। তবুও কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ থেকে বড় সাফল্য আশা করা কঠিন।

মন্তব্য করুন