উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনকে পদ্ধতিগত গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ফরাসি পার্লামেন্ট। গতকাল শুক্রবার এই প্রস্তাব পাস করা হয়। গণহত্যার জন্য বেইজিংকে অভিযুক্ত করে এই প্রস্তাব পাস করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। ফ্রান্স এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নিল, যখন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন অলিম্পিকের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি রয়েছে। প্রস্তাবে উইঘুরদের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন কর্তৃক সংঘটিত সহিংসতাকে মানবতা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রায় এক মিলিয়ন উইঘুর মুসলিমকে জোরপূর্বক শ্রম শিবিরে রাখার জন্য বেইজিংয়ের সমালোচনা করা হয়েছে।

কানাডা, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন এবং বেলজিয়ামের পর ফ্রান্সের পার্লামেন্ট এমন প্রস্তাব পাস করল। এ ছাড়া পশ্চিম জিনজিয়াংয়ে উইঘুর গণহত্যার জন্য বহু আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে চীনকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীন এই ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ফরাসি আইনপ্রণেতাদের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, 'কোনো রকম তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই জিনজিয়াং নিয়ে ফরাসি পার্লামেন্টের এমন প্রস্তাব চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মতো। চীন দৃঢ়ভাবে এর বিরোধিতা করে।' খবর এএফপি ও রয়টার্সের।

বিরোধীদলীয় সমাজতন্ত্রীরা গতকাল শুক্রবার ফরাসি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে উইঘুর সম্পর্কে এই প্রস্তাবনাটি উপস্থাপন করে। তবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোনের দল রিপাবলিক অন দ্য মুভ (এলআরইএম) প্রস্তাবটি সমর্থন করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লিতে ১৬৯ ভোট পেয়ে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রস্তাবের বিপক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়ে। প্রস্তাবে জিনজিয়াং অঞ্চলের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে জনমত তৈরি এবং চীনের প্রতি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রনীতি পুনর্নির্ধারণে ফরাসি সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পার্লামেন্টে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান অলিভিয়ার ফাউর বলেন, 'চীন একটি মহান শক্তি। আমরা চীনা জনগণকে ভালোবাসি। কিন্তু আমরা এমন একটি শাসনের পক্ষে কাজ করতে রাজি নই যারা আমাদের কাপুরুষতার সুযোগে গণহত্যা ঘটিয়ে চলেছে।' এ সময় তিনি বেঁচে যাওয়া উইঘুর মুসলিমের কাছ থেকে শোনা চীনা নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা সবার সামনে তুলে ধরেন।

এদিকে ফরাসি সরকার উইঘুর সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের আচরণকে 'গণহত্যা' হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকার করেছে। সরকার জানিয়েছে, 'গণহত্যা' এমন একটি শব্দ যা শুধু বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে পারে। কিন্তু তদন্তের জন্য অঞ্চলটি পরিদর্শন করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের উপর্যুপরি অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং।

গত বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে যোগ দেওয়ার আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোনকে উইঘুরদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি জানান, বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উইঘুর প্রসঙ্গটি ফ্রান্স উপস্থাপন করেছে। এদিকে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, তারা জিনজিয়াংয়ে গণআটক, জোরপূর্বক শ্রম এবং জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের প্রমাণ পেয়েছে।

মন্তব্য করুন