ভারতে করোনা অব্যবস্থাপনা, নড়বড়ে অর্থনীতি, সীমান্ত সংকট ও কৃষক আন্দোলন সত্ত্বেও জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৬৩ শতাংশ ভারতীয় তাকে দক্ষ নেতা হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। তার অনেক পেছনে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপিবিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধী, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ সবাইকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশটির নিউজ ম্যাগাজিন ইন্ডিয়া টুডের জানুয়ারি সংখ্যায় 'মুড অব দ্য নেশন' (এমওটিএন) শীর্ষক এক জরিপে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতজুড়ে বিভিন্ন পেশার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবছর জানুয়ারি ও আগস্টে দু'বার প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইন্ডিয়া টুডে। আগামী মাসেই উত্তরপ্রদেশসহ দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে জরিপে উঠে আসা কিছু তথ্য যেমন বিজেপির কাছে কিছুটা স্বস্তির, তেমনি কিছু তথ্য অস্বস্তির কারণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডে ও সি-ভোটারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালত এ জরিপে অংশ নেওয়া ৫৮ শতাংশ মানুষ মোদি সরকারের কাজে অনেক বেশি সন্তুষ্ট বা মোটামুটি সন্তুষ্ট। ২৬ শতাংশ মানুষ তাদের কাজে অসন্তুষ্ট। প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষ যে কোনো কাজে মোদির ব্যক্তিগত দক্ষতা অসাধারণ বা ভালো রয়েছে বলে মনে করেন। যদিও গত ২০২০ সালের আগস্টে করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় করা এমওটিএনের এক জরিপে মোদির কাজকে সঠিক বলে মনে করেছিলেন ৭৮ শতাংশ মানুষ।

ভারতের পরবর্তী প্রধামন্ত্রী হিসেবে মোদির জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও কেউ নেই। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সাংসদ রাহুল গান্ধী রয়েছেন ৪৬ শতাংশ পেছনে। মতামত দানকারী ৫২.৫ শতাংশ মানুষ যেখানে মোদিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, সেখানে মাত্র ৬.৮ শতাংশ মানুষ এই পদে রাহুলকে চান। অন্যদের মধ্যে ৫.৭ শতাংশ মানুষ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, ৩.৫ শতাংশ মানুষ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ৩.৩ শতাংশ মানুষ কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ৩.১ শতাংশ মানুষ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ২.৬ শতাংশ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

তবে গোটা দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শীর্ষে আছেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। ওডিশার ৭১.১ শতাংশ মানুষ তার কাজে সন্তুষ্ট। রাজ্যের ৬৯.৯ শতাংশের সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মমতা।

জরিপে বলা হয়েছে, মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে রেকারত্ব, মুদ্রাস্ম্ফীতি, নোট বাতিল ও কৃষক আন্দোলনকে বিবেচনায় নিয়েছেন মতামত দানকারীরা।

২০২৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচন হবে। এ সাধারণ নির্বাচনে মোদির জনিপ্রয়তাকে পুঁজিকে তাকে বিজেপির ট্রাম্প কার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওই নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপিবিরোধী জোট করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এতে কে নেতৃত্ব দেবেন, তা এখনও পরিস্কার হয়নি। জরিপে বলা হয়েছে, মোদির বিরোধীমুখ হিসেবে সবচেয়ে বেশি মানুষ মমতাকে দেখতে চেয়েছেন। শতাংশের হিসাবে অনেক কম হলেও ১৭ শতাংশ মানুষের অভিমত বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মমতাই সেরা, ১৬ শতাংশের পছন্দ কেজরিওয়াল, ১১ শতাংশের পছন্দ রাহুল।

২০২১ সালের বিধানসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে বড় জয় পাওয়ার পর মমতাকে মোদির বিকল্প মুখ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল। পরে বিভিন্ন রাজ্যে ও ভার্চুয়াল জগতেও প্রচার চালায় দলটি। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত জরিপে বিরোধী মুখ হিসেবে তার জনপ্রিয়তা তালিকার শীর্ষে উঠে এলো।

মন্তব্য করুন