চাকরি নিয়ে

চাকরি নিয়ে


হতে পারেন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

শরীফুল শাওন

হতে পারেন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ

এই পেশায় হতে হবে স্মার্ট ও পরিশ্রমী

একজন প্রার্থী খুব সহজেই এই পেশায় সফল হতে পারেন। পরিশ্রমী, সাহসী, স্মার্ট, উদ্যমী, বাকপটু এবং টার্গেট পূরণে সক্ষম ইত্যাদি গুণ অবশ্যই প্রতিটি মেডিকেল প্রমোশন অফিসারের থাকা প্রয়োজন

সুস্থতাই সকল সুখের মূল- এটা আমাদের সবারই জানা। তারপরও নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হই আমরা। এই ব্যাধিতে দৌড়ে যাই হাসপাতালে। চিকিৎসকের পরামর্শে দ্বারস্থ হই ওষুধপত্রের। এই যে নানা ধরনের রোগ নির্মূলের ওষুধ, তা আমরা খুব সহজেই ফার্মেসিতে পেয়ে যাই। ফার্মেসিতে এত সহজলভ্য কীভাবে হয়ে যায় ওষুধ, তা কি ভেবে দেখেছি?

ফার্মাসিস্ট তো নানা গবেষণার মধ্য দিয়ে ওষুধ তৈরি করেন। সেই ওষুধ দেশীয় শিল্পে বাজারজাত করা হয় নিয়মিত। এই বাজারজাতের একটি নিয়মিত ধাপ হলো রিপ্রেজেন্টেটিভ। ক্যারিয়ার হিসেবে এখন অনেকেই ওষুধ শিল্পের এই ধাপটিকে বেছে নিচ্ছেন। যদি আপনিও চান ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হতে তাহলে প্রস্তুতি নিতে পারেন এখনই।

এ পেশায় কাজের ধরন :মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ পদটি আসলে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির। এই পেশাজীবীদের মেডিকেল প্রমোশন অফিসারও বলা হয়ে থাকে। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে যারা আছেন, তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে তারা যেই কোম্পানির হয়ে কাজ করেন সেই কোম্পানির ওষুধগুলো বাজারে তুলে ধরা। তারা প্রথমে তাদের পণ্যগুলোকে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে পরিচয় করান এবং এর গুণাগুণ তুলে ধরেন। পরবর্তী ধাপ হলো- ওষুধগুলোকে কেমিস্টদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তা তাদের কাছে বিক্রি করা।

যোগ্যতা যেমন হওয়া দরকার : এ পেশায় যারা আগ্রহী এবং যারা এই পেশায় আসতে চান তাদের অবশ্যই শিক্ষাজীবনে বিজ্ঞান বিভাগ থাকতে হবে। এর সঙ্গে জীববিজ্ঞান এবং রসায়ন- এই দুটি বিষয়ও থাকতে হবে। সাধারণত নতুন ওষুধ কোম্পানিগুলো বিজ্ঞান শাখায় পাস করা এইচএসসি অথবা বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠিত বড় কোম্পানিগুলো সাধারণত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরদের নিয়োগ দিয়ে থাকে এবং তাদের জন্যও শিক্ষাগত যোগ্যতা একই। মনে রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো আবার দুই বছরের অভিজ্ঞতা চায়। নতুন কোম্পানিতে তা দরকার হয় না। তাই যারা এ পেশায় আসতে চান এবং যাদের এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা নেই তারা আসলে নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ভালো কোম্পানিতে খুব সহজেই জয়েন করতে পারবেন।

যেভাবে নিয়োগ :দুই পর্যায়ে এ পেশায় সাধারণত নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ট্রেনিং পরবর্তী পর্যায়। মৌখিক পরীক্ষা আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচন করা হয়। যারা প্রাথমিক পরীক্ষায় নির্বাচিত হন তাদের নিয়েই শুরু হয় ট্রেনিং। এই ট্রেনিং প্রক্রিয়া চলে এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত। ট্রেনিংয়ে এ পেশার ওপর যাবতীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। ট্রেনিং ধাপটি যারা সুন্দরভাবে পার করতে পারেন তাদের দেওয়া হয় স্থায়ী চাকরি। পোস্টিং দেওয়া হয় ট্রেনিংয়ের রেজাল্ট অনুযায়ী।

আরও যা দেখা হয় :পড়াশোনা। ট্রেনিংয়ে সফলতার পরে চাকরিটি হয়। কিন্তু এর সঙ্গে আরও কিছু যোগ্যতায় একজন প্রার্থী খুব সহজেই এই পেশায় সফল হতে পারেন। পরিশ্রমী, সাহসী, স্মার্ট, উদ্যমী, বাকপটু এবং টার্গেট পূরণে সক্ষম ইত্যাদি গুণ অবশ্যই একজন মেডিকেল প্রমোশন অফিসারের থাকা প্রয়োজন। তবে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, প্রার্থীকে বাংলাদেশের যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

চাকরির ক্ষেত্র :এই পদটিতে বাংলাদেশে এখন ক্যারিয়ার গড়া খুব কঠিন কিছু নয়। আমাদের এখানে বেশ কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত ওষুধ কোম্পানি রয়েছে। যেমন- বেক্সিমকো, এরিস্টোফার্মা, স্কয়ার, জেসন ফার্মা, এক্‌মি এভেনটিস ইত্যাদি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো পত্রিকার মাধ্যমে নিয়মিত লোকবল নেয়। যদি এই পেশায় আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে নিয়মিত পত্রিকার পাতায় চোখ রাখতে পারেন। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী পছন্দমাফিক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলতে পারেন আপনার সুন্দর কর্মজীবন।