পুরান ঢাকার শতবর্ষী মন্দির

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সুমন দত্ত

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর থানার ৫১ নম্বর হূষিকেশ দাস রোডের বীর ভদ্রাশ্রমের শ্রীশ্রী কালী ও শিবমন্দির এ জনপদের ইতিহাসের সাক্ষী। যার নামে হূষিকেশ দাস রোডের নামকরণ তারাই এ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, ফরাশগঞ্জ, বানিয়ানগর, নারিন্দা ও স্বামীবাগ এলাকায় অসংখ্য প্রাচীন মন্দির রয়েছে। বীর ভদ্রাশ্রমে রয়েছে একটি কালী ও শিবমন্দির। বীর ভদ্রাশ্রমের জায়গাটি দান করেছেন প্রয়াত হূষিকেশ দাস। তার পিতা কৃষ্ণমোহন দাসের স্মরণার্থে তিনি এ জায়গায় মন্দির স্থাপন করেন। এ মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় হচ্ছে বাংলায় ২৪ শ্রাবণ, ১৩১৯ সনে। অর্থাৎ সে হিসেবে মন্দিরের বয়স ১০৬ বছর। এ মন্দিরের আদি ইতিহাস পাওয়া যায় লেখক যতীন্দ্রমোহন রায়ের ঢাকা বইয়ে।

এক সময় এই মন্দিরে শুধু বার্ষিক শ্যামাপূজা হতো। সে সময় ঐতিহাসিক মাইক ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠান কল-রেডির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত দয়াল ঘোষের উদ্যোগে এখানে যাত্রা অনুষ্ঠান হতো। অনেকে এ মন্দিরের স্মৃতি ধরে রেখেছেন ওই যাত্রা দেখা মন্দির হিসেবে। প্রতি মাসে অমাবস্যা তিথিতে পূজা হয়। আর বার্ষিক পূজা হয় বড় আকারে।

এক সময় সারাদেশে চলছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলন। এ সময় প্রতিবেশী ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় এই বীর ভদ্রাশ্রমে ভাংচুর চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এরপর ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বীর ভদ্রাশ্রম সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। এলাকার হিন্দুদের মনে এক ধরনের ভীতি কাজ করায় এ পরিস্থিতিতে মন্দিরের সংস্কার কাজে কেউ এগিয়ে আসেনি।

এক বছর পর তিন সনাতন ধর্মাবলম্বীর উদ্যোগে এর সংস্কার হয় তারা হচ্ছেন সুশীল কুমার দত্ত (সুশীল বাবু), নীতিশ গোবিন্দ দাশ (ডেলু বাবু) ও সুরত লাল দাস (শুনকু বাবু)। তাদের ছেলেমেয়েরা মন্দিরের খোঁজখবর রাখেন। ব্রিটিশ আমলে ঐতিহাসিক এ স্থানে শহীদ হয়েছিলেন কমরেড সোমেন চন্দ। তার স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর এ মন্দিরের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিপিবিসহ বাম সংগঠনের নেতারা।

পরবর্তী খবর পড়ুন : মৈশাসীর আলোকবর্তিকা

অন্যান্য