ঐতিহাসিক 'কানা রাজার সুড়ঙ্গ'

ইতিহাস

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

কামাল হোসেন

ঐতিহাসিক 'কানা রাজার সুড়ঙ্গ'

আঁধার মানিক বা কানা রাজার সুড়ঙ্গ

কক্সবাজারের রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনার দুর্গম এলাকায় রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য 'আঁধার মানিক' গুহা। সাড়ে তিনশ' বছরের পুরনো এই নিদর্শন স্থানীয়ভাবে 'কানা রাজার সুড়ঙ্গ' নামে পরিচিত। ৪০০ মিটার দীর্ঘ এই গুহা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত নানা কিংবদন্তি। জনশ্রুতি অনুযায়ী, আরাকান রাজা চিন পিয়ান ব্রিটিশদের কাছে রাজ্য হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবনের শেষ সময়গুলো এখানে কাটান। তাকে গ্রেফতার করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। আত্মরক্ষায় রাজা এই পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন। সেই কারণে এর নাম 'কানা রাজার সুড়ঙ্গ'।

কালের সাক্ষী এই গুহা বর্তমানে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে আছে। প্রচার না থাকা ও যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় মানুষ এটিকে ভুলতে বসেছে। কক্সবাজারের রামু উপজেলা সদর থেকে আনুমানিক ২৫ মিনিট দূরত্বে কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে এর অবস্থান। স্থানীয়দের অনেকে ওই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন। গ্রামের তেমন একজন প্রবীণ বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত গিয়েছিলেন। সেই সুড়ঙ্গের ভেতরে আছে একটি মঞ্চ, যাকে অনেকে বিশ্রামাগারও বলে। ভেতরে কিছুদূর গেলেই দেখা যেত তিনটি সুড়ঙ্গ পথের মোহনা। তার ধারণা, এ সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করে অন্য কয়েকটি সুড়ঙ্গ দিয়ে বের হওয়ার পথ ছিল। একসময় চৈত্রসংক্রান্তি উৎসবে মিয়ানমারসহ আশপাশের রাখাইন ও বৌদ্ধ নারী-পুরুষ এ সুড়ঙ্গ দেখতে আসত। কক্সবাজারের ইতিহাস গ্রন্থ ছাড়াও পাকিস্তান আমলে প্রকাশিত পর্যটন বিভাগের ট্যুরিস্ট গাইডে এই সুড়ঙ্গের কথা উল্লেখ ছিল। সম্প্রতি 'রামু সমিতি ঢাকা' প্রকাশিত একটি স্মারকগ্রন্থে 'আঁধার মানিক' নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্থানীয় কিছু তরুণ গুহাটি পরিদর্শনের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে নিয়ে রামুর সংবাদকর্মী, শিক্ষক ও চিত্রশিল্পীর একটি দল সেখানে যায়। মাটি ও জঙ্গল কেটে সুড়ঙ্গ পুনঃউন্মোচনের পর এর সামনে সবুজ প্রান্তরে চলে প্রাণবন্ত আড্ডা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বর্তমানে সুড়ঙ্গের মুখে মাটি জমে প্রবেশপথ ছোট হয়ে গেছে। প্রাচীন এ নিদর্শনে পর্যটক আকর্ষণে প্রাথমিকভাবে ভেতরে জমে থাকা মাটি সরিয়ে ফেলা জরুরি। নিবিড় অনুসন্ধানে এখানে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হলে ঐতিহাসিক এ স্থান দেখতে পর্যটকদের যাওয়ার পথ সুগম হবে।

সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে রামুর ঐতিহাসিক এ নিদর্শন উন্মোচন করতে পারে পর্যটনের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। কক্সবাজারের কাছেই এ গুহা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম দর্শনীয় স্থান হতে পারে।

অন্যান্য