চারমাত্রা

চারমাত্রা

রসগোল্লা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

রসগোল্লা সাদা রঙের ছানার মিষ্টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রসগোল্লার আদি উৎপত্তিস্থল বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলে। বিশেষ করে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় পর্তুগিজদের সময় ময়রারা ছানা, চিনি, দুধ ও সুজি দিয়ে গোলাকার এক ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করেন, যা ক্ষীরমোহন বা রসগোল্লা নামে পরিচিত ছিল। এখানকার হিন্দু ময়রাদের বংশধরদের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতা কিংবা উড়িষ্যায় বিস্তার লাভ করে। ইতিহাসের বরাত দিয়ে বলা যায়, রসগোল্লার স্রষ্টা কলকাতার চিনি ব্যবসায়ী নবীন চন্দ্র দাস। প্রায় দেড়শ' বছর আগে রসে ভেজানো গোলাকার এই রসগোল্লা তৈরি করেন। নবীন চন্দ্র দাসের পঞ্চম প্রজন্ম ধীমান দাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৬৪ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোতে একটি মিষ্টির দোকান খোলেন নবীন চন্দ্র দাস। বেশিদিন দোকানটি চলেনি। ১৮৬৬ সালে কলকাতার বাগবাজারে আরেকটি দোকান দেন তিনি। এই দোকানের প্রধান মিষ্টি ছিল সন্দেশ। কলকাতার খানদানি বণিকদের সন্দেশে আশ মিটছিল না। তাই নবীন চন্দ্র নতুন মিষ্টি তৈরির কথা ভাবছিলেন। দুই বছরের মধ্যে তিনি তৈরি করেন রসগোল্লা।

রসগোল্লা নিয়ে রেষারেষি

যতদূর জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথম রসগোল্লা প্রস্তুত করা হয়েছিল। নবীন চন্দ্র দাস আধুনিক রসগোল্লার আবিস্কর্তা ছিলেন। রসগোল্লা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার বিরোধ বহুদিনের।

কোথায় প্রথম তৈরি হয় রসগোল্লা? পশ্চিমবঙ্গ, না উড়িষ্যায়? এ নিয়ে বেঁধেছিল গোল। স্বত্ব নিয়ে টানাটানি। আড়াই বছর পর মিলল সমাধান। রসগোল্লা কলকাতার! ২০১৫ সালের জুনে উড়িষ্যা থেকে রব ওঠে, রসগোল্লা প্রথম তৈরি হয় তাদেরই রাজ্যে। সেই থেকে শুরু দুই রাজ্যের দ্বন্দ্ব। তবে ভারত সরকার থেকে স্বীকৃতি পেল রসগোল্লা কলকাতারই সৃষ্টি। ভারতের রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড প্রোটেকশন আইনের আওতায় 'জিআই বা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ফর গুডস' পেটেন্ট ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তারা লাভ করে।

নাম

সুস্বাদু মিষ্টি রসগোল্লা বা বাংলার রসগোল্লা নামে বেশি পরিচিত ও বিখ্যাত। তবে উড়িষ্যায় ক্ষীর থেকে তৈরি শুস্ক প্রকৃতির মিষ্টিকে বলে উড়িষ্যার রসগোল্লা। রাজগোল্লা শব্দটি রস (মিষ্টি তরল) এবং গোল্লা (বল) শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়। রসগোল্লা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন উচ্চারণে উচ্চারিত হয় : রাশগুল্লা, রাশগোল্লা, রসোগোল্লা, রোশোগলা, রাজগোলার, রাসগোলার এবং রাশবরী বা রাশবাড়ি (নেপালি)।

আধুনিক জনপ্রিয়তা

১৯৩০ সালে নবীন চন্দ্রের ছেলে কৃষ্ণচন্দ্র দাসের ভ্যাকুয়াম প্যাকিংয়ের প্রবর্তনের ফলে ভারতের বাইরে রসগোল্লার বাজার তৈরি হয়। কৃষ্ণ চন্দ্রের ছেলে সরদার চরণ দাশ কে.সি. প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪৬ সালে। সরদার চরণের বন্ধুর ছেলে দেবেন্দ্রনাথকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দাস গ্রেডসন ইন ১৯৫৬। আজ প্লাস্টিকের ক্যানে ভরা রসগোল্লা ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশজুড়ে পাওয়া যায়, পাশাপাশি উপমহাদেশের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ার মুদি দোকানেও পাওয়া যায়। হ