চারমাত্রা

চারমাত্রা

সেই সব বৈশাখ

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

ফেরদৌসী রহমান

আমাদের শৈশবে পহেলা বৈশাখ ছিল অনেকটা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তখন প্রতি পরিবারেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হতো। সেই সময় আমি নিজে বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান করতাম। আর এই দিনকে কেন্দ্র করে মেলায় যাওয়া ছিল সেই সময়কার অন্যতম মজার ঘটনা। কারণ, সেই সময় বাঙালির নিজস্ব উৎসব বলতে পহেলা বৈশাখই পালন করত সবাই। বৈশাখী মেলায় যাওয়া, মাটির তৈরি নানা ধরনের জিনিসপত্র কেনা, নানা মজাদার খাবার খাওয়া, নাগরদোলায় চড়ার আলাদা এক মজা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। বর্তমানে বৈশাখ নিয়ে অনেক মাতামাতি হয়। অনেকের পহেলা বৈশাখে নতুন জামাকাপড় না কিনলে মন খারাপ হয়, বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস এই উপলক্ষে নতুন নানা কিছু নিয়ে আসে, তারা প্রচার করে। পহেলা বৈশাখ অনেকটা কমার্শিয়াল রূপ ধারণ করেছে। বাঙালি উৎসবপ্রিয় জাতি। যে কোনো উপলক্ষে তারা আনন্দ খোঁজে। সেই দিক থেকে বিচার করতে গেলে এই দিন উপলক্ষে কিছু আনন্দ করা যেতেই পারে। পহেলা বৈশাখ সর্বজনীন বাঙালি উৎসব। তাই এই দিনটিতে বিদেশি কিছু নিয়ে আসা, কখনও ভালো পরিবর্তন বলে মনে করি না। বাঙালি সংস্কৃতির এই উৎসবে যদি অন্য ভাষার গান গাওয়া হয়, অন্য দেশে তৈরি জিনিসপত্র কেনাকাটা হয় তবে তা বাঙালি সংস্কৃতির কোনো উন্নতি করবে না; বরং এই সংস্কৃতিকে ধ্বংস করবে। হ