ছোট্ট শিশুরা সারাদিন ছোটাছুটি ও খেলাধুলা করে। সন্ধ্যায় বা রাতে ঘুমানোর আগে তারা পায়ের ব্যথায় আক্রান্ত হয়। অনেকে ঘুমের মধ্যেই ব্যথার যন্ত্রণায় কেঁদে ওঠে বা ঘুম ভেঙে যায়। শিশুর এই পায়ে ব্যথার কারণ হলো 'গ্রোয়িং পেইন' নামক সাধারণ একটি সমস্যা।

ব্যথার নামটি 'গ্রোয়িং পেইন' হলেও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কেন শিশুরা এই ব্যথায় আক্রান্ত হয়, তা নিয়ে অনেক গবেষণা হলেও গ্রোয়িং পেইনের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে শিশুর সারাদিনের দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি ও খেলাধুলাকে গ্রোয়িং পেইনের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। অধিক সংবেদনশীল শিশুরা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। সব শিশুর ক্ষেত্রে গ্রোয়িং পেইনের তীব্রতা সমান হয় না, আবার একটি শিশু প্রতিদিনই এই ব্যথা অনুভব করে না। সাধারণত তিন বা চার বছর বয়স থেকে শিশুর গ্রোয়িং পেইন শুরু হয় এবং ৮-১২ বছর বয়স পর্যন্ত সে এই ব্যথা অনুভব করে। পরে ধীরে ধীরে ব্যথার মাত্রা কমে যায় বা ব্যথা আর হয় না। শিশুর গ্রোয়িং পেইন তার দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্ষতি করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রোয়িং পেইনের ব্যথা শিশুর ঊরুর সামনের বা পায়ের পেছনের মাংসপেশিতে হয়। কখনও কখনও হাতেও ব্যথা হতে পারে। তবে কখনোই এই ব্যথা হাত-পায়ের কোনো গিরাকে আক্রমণ করে না। এজন্য শিশুর হাঁটাচলা বা খেলাধুলাতে কোনো অসুবিধা হয় না। পায়ের ব্যথার সঙ্গে যদি কোনো গিরা ফুলে যায় বা জ্বর আসে অথবা যদি ব্যথার জন্য শিশু তার শরীরে হাত রাখতে না দেয় তাহলে তা কখনোই গ্রোয়িং পেইন নয় এবং এজন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

শিশুর 'গ্রোয়িং পেইনের' ব্যথা কমানোর জন্য তার পায়ের মাংসপেশি ম্যাসাজ করা যেতে পারে। এতে সে আরাম বোধ করবে। এ ছাড়া কাপড় হালকা গরম করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে, তবে শিশুর ত্বক যাতে পুড়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

[সহযোগী অধ্যাপক, এনআইসিভিডি]

মন্তব্য করুন