দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


আমরা আছি তোমাদের পাশে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০      

মীর হাসিব

সচেতন নাগরিক হিসেবে মানবতা বোধ থেকে করোনার এই যুদ্ধে সমাজের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে শুরু থেকে কাজ করছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী।

উদ্ভূত এই সংকট মোকাবিলায় সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এগিয়ে আসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (কুয়া), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (কুটা), হেল্প স্কোয়াড খুলনা, ভলান্টিয়ার অ্যাগেইনস্ট কন্টাজিউন (ভিএসি), বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তিপর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সাধ্যমতো এগিয়ে এসেছে।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে যায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিন, রসায়ন ডিসিপ্লিন ও কুয়ার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিনা লাভে সাধারণ মানুষের নিকট সরবরাহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী ধাপে ধাপে লকডাউন শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত অসচ্ছল বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষদের দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে কর্মরত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক, হোটেল মালিক, টং দোকানদার, ফুচকা-ঝালমুড়ি বিক্রেতা, ক্যাফেটেরিয়া ও হল ক্যান্টিনে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবন জীবিকা নির্বাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেই মুহূর্তে তাদের পাশে এগিয়ে আসে খুবির কুয়া, কুটা থেকে শুরু করে প্রায় সকল সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

কুয়ার ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাদাতের দেওয়া তথ্যমতে অসহায় এসব মানুষের মধ্যে তুলনামূলক সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় থাকা প্রায় পাঁচশ' পরিবারের নিকট ইতোমধ্যে প্রায় দশ দিনের অধিক প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সবার মাঝে সমানভাবে সাহায্য পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। কুয়ার এই ত্রাণসাহায্য কার্যক্রম খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় টিউশনি করে ও জীবন সংগ্রামের নানা চড়াই-উতরাই পার করে চলা অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। এ রকম প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে মাসে তিন হাজার টাকা প্রদানের লক্ষ্যে অনলাইনে ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিচয় গোপন রেখে সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে অতিদ্রুত এই অর্থ সাহায্য অসহায় শিক্ষার্থীর মাঝে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অর্থের কিছুটা সংকট রয়েছে যা অতিদ্রুত কাটিয়ে উঠতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করছেন।

কুয়া ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত ভিএসি এবং হেল্প স্কোয়াড খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হেল্প স্কোয়াড খুলনা এখন পর্যন্ত প্রায় ষাটের অধিক পরিবারের নিকট ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। হেল্প স্কোয়াড খুলনার দারুল জেনান জানান আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কিন্তু সময় যতো যাচ্ছে অর্থ সংগ্রহ ও জনবল জোগাড় করা তত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একমাত্র সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারব।

এ ছাড়া বিতর্ক বিষয়ক সংগঠন নৈয়ায়িক অনলাইন বিতর্ক কর্মশালা ও খুবি আর্ট সোসাইটি অনলাইন চিত্রকর্ম প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত অর্থ ত্রাণ সহায়তা কাজে প্রদান করেছে।

দেশব্যাপী সংকটাপন্ন অবস্থায় সর্বদা লড়ে যাওয়া এসব যোদ্ধার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে খুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, দেশের এই সংকটে সবার একসঙ্গে এগিয়ে আশা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর এই মুহূর্তে দুশ্চিন্তা মুক্ত থেকে মনোবল শক্ত রাখতে হবে এবং পরস্পরের খোজখবর রাখতে হবে। া