ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


বিড়াল ও ইঁদুর

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

মুনতাক তাহমীদ তাহী

এক বাড়িতে অ্যানি নামের একটি মেয়ে ছিলো। অ্যানির একটি বিড়াল আছে এবং সেই বিড়ালের নাম হলো মিনি। অ্যানি মিনিকে খুব আদর করে। সবসময় মিনি অ্যানির কাছেই থাকে। মিনি বলে ডাকতেই চোখের পলকে এসে পড়ে। একদিন অ্যানি ও মিনি বিছানায় কম্বল গায়ে শুয়ে ছিলো। তখন শীতকাল। সেই শীতে খুবই ঠাণ্ডা, ঝড়ের মতো বাতাস বইছে। বাতাসের তোড়ে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। এই ঝড়ো হাওয়ায় এক ইঁদুর যাচ্ছিলো অ্যানিদের বাড়ির সামনে দিয়ে। ঠাণ্ডায় জড়োসড়ো ইঁদুর কাঁপছেও খুব। কাঁপতে কাঁপতে সে খেয়ালও করেনি পাশেই যে একটা বাড়ি। তো বাড়িটা দেখে সে খুশিতে বাড়িতে ঢুকে পড়লো। মনে মনে ভাবে, এই বাড়িতে সে বাসা বানিয়ে নেবে। দেয়ালের গোড়ায় গর্ত করে। দরজা বানিয়ে ভেতরে চেয়ার, টেবিল, বিছানা, আলমারি, আয়না, ফ্রিজ সব নিয়ে আসবে। ভাবতে ভাবতে সে একটা গর্তে ঢুকে পড়লো। ওমা, তার ভাবনার বাড়ি যেন এই গর্তটা! সে খুবই আরামে বিছানায় ঘুম দিলো। কিছুক্ষণ পর ইঁদুরটি নাক ডাকতে থাকলো। নাক ডাকা শুনেই হঠাৎ মিনি উঠে গেলো। খুঁজে দেখলো কে নাক ডাকে। একটা রুমেও পেলো না শব্দের খোঁজ। সে ভাবলো, এই শব্দ মনে হয় স্বপ্ন থেকেই আসছে। নিজের গায়ে একটা চিমটি কেটে সে ফের ঘুমাতে গেলো। অমনি তার চোখ গেলো দেয়ালের দিকে। দেখে, দেয়ালে একটি দরজা বানানো। সে দৌড়ে গিয়ে দেখল দরজার ভেতরে কী। একি; আলমারি আয়না চেয়ার টেবিল ফ্রিজ আর বিছানাসহ ছোট্টমোট্ট একটা ঘর। সেই ঘরের বিছানায় নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে একটা ইঁদুর। দেখার সাথে সাথে মিনির মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো। ঘুষি মেরে দেয়াল ভেঙে ফেললো। ইঁদুরটির ঘুমও ভেঙে গেলো। সে বিড়ালকে দেখে দৌড়ে পালালো। বিড়াল তাকে ধরতে গিয়ে সব জিনিস ফেলে দিলো। একেবারে টম অ্যান্ড জেরির মতো অবস্থা! শব্দ শুনে অ্যানি জেগে উঠল। সে মিনি মিনি ডাকতে লাগল। পরে গিয়ে দেখল মিনি ইঁদুর ধরতে গিয়ে সব কিছু ভেঙে ফেলছে। অ্যানি মিনিকে বকা দিয়ে বললো, বন্ধ কর এসব। সে ভাবলো মিনিকে ঠাণ্ডায় ঘরের বাইরে রেখে দেবে। পরে আবার ইঁদুর আর মিনিকে মিলিয়ে দিলো। তারপর তারা একসঙ্গে ঘরে বসবাস করতে থাকলো। বিড়াল আর ইঁদুরের গল্পটিও ফুরাল!

হ ৬ষ্ঠ শ্রেণি, দিবা শাখা, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা