আমি যদি যাই বনে
মহুয়া ফুলেরা আমাকে পেয়েই
ঝরে পড়ে অকারণে।
বাতাবিলেবুর ঘ্রাণ ভেসে আসে
পুবের বাগান থেকে
ইমলি পাতার ঝুরুঝুরু হাওয়া
আমাকে নেয় যে ডেকে।
পশ্চিমে ডাকে ঝুনুঝুনু সুরে
গুটগুটিয়ার মায়া
উত্তরে নীল আমঝুপি তরু
বিছিয়ে রেখেছে ছায়া।
কোনদিকে যাবো আমি
বনে গেলে আমি শতবৃক্ষের
শুরু হয় পাগলামি।

দখিনে নিঝুম আমলকী বন
পাশঘেঁষে কাউয়াঠুঁটি
নিম-পিপুলের বনে শুরু হয়
বাতাসের হুটোপুটি।
ডানে ডাকে ওট, গামারির সারি
উড়িআম থাকে চেয়ে.
পথ বেঁধে রাখে বেতসের ঝোপ
ঝিল্লীরা ওঠে গেয়ে।
ঝরঝর করে পাতা ঝরে পড়ে
বুনো হাওয়া যায় ছুঁয়ে;
হঠাৎ ঝাঁপানো বুনো বৃষ্টিতে
আমি পড়ি বনে শুয়ে।

ভেজাপাতা থেকে জল চুয়ে পড়ে
মন হয় উলোঝুলো
চোখজুড়ে ঘুম নামতেই ডাকে
বৃষ্টির পাখিগুলো।
পিউপাখিদের পিউপিউ ডাকে
সোহেলির মধুসুরে
আমি চলে যাই মেঘরাজ্যের
অচেনা স্বর্গপুরে।
শতবিহগের পালক ছড়ানো
অপরূপ গিরিপথে
আমি যাই কোন অজানার খোঁজে
সাজানো পুষ্পরথে।

আমি যাই কোন বুনোপথ ধরে
যাই সব স্মৃতি ভুলে
হঠাৎ হাজারো বিহগের ডাকে
ঘুমুচোখ যায় খুলে।
একি বিস্ময় শত চেনাপাখি
আমাকে রেখেছে ঘিরে
আমি বসে আছি তরুলতা ঘেরা
আমার ছোট্ট নীড়ে।
দোয়েল কোয়েল সোহেলি শ্যামারা
শতসুরে মাখামাখি;
বলি আমি হেসে, আমি কি তোদের
কেউ হই ওরে পাখি?

বলি; ওই গাছ- ওই আমঝুপি
ওই ওট, তিন্তিড়ি
ওই নিম, ওই পিপুলের সারি
ওই ঝাউ ঝিরিঝিরি
ধারমারা, শটি, ওই জাওয়াঝাড়
ওই মহুয়ার বন
ওই বৃক্ষরা আমাকে কেন যে
ভাবিস আপনজন!
আমি পাখি নই, আমি গাছ নই
আমি মানুষের ছেলে
একথা জেনেও কেন তোরা এতো
ভালোবাসা দিস ঢেলে?

মন্তব্য করুন