হ্যালো আদিবা? হ্যালো? তুমি এখন কোথায়?

বাসায়।

গুড। দশ মিনিট পর বাসার নিচে নামবে। তোমার জন্য গোটা বিশেক কাঁঠাল, এক ঝুড়ি কাঁচা-পাকা আম, সাতটা লাল কবুতর, বারোটা ঝমাঝম ঝুমঝুমি, তিনটে পাকা-মিঠা বড় তাল, পৌনে এগারোটা করমচা আর দেড় বৈয়াম ব্যাঙের আচার পাঠাচ্ছি।

আবিদা কথা বলছো না কেনো?

এসব পাঠাচ্ছো কেনো মামা?

তুমি এখন একটুু অসুস্থ তো, তাই।

কীসে পাঠাচ্ছো এসব?

একটা সবুজ রঙের রিকশায়। আর শোনো, রিকশা চালাচ্ছে একটা সাদা রঙের কাক। পাঠানো খাবার-দাবার নিয়ে রিকশার গদিতে বসে আছে চারটে বাদামি কাক। কাকগুলো আবার লেখাপড়া জানে।

কাক রিকশা চালাচ্ছে?

হ্যাঁ।

কিন্তু ওরা তো ছোট। রিকশা চালাচ্ছে কেমন করে?

আমি ওদের রিকশা চালানো শিখিয়েছি।

কাকদের তো আইসক্রিম কাঠির মতো ছোট ছোট পা। ওই ছোট পা দিয়ে রিকশা চালাচ্ছে কীভাবে?

আমার কাক কারখানায় প্রায় হাজার আটেক কাক আছে। কাকদের আমি রিকশা চালানো শিখাই। ওরা স্কুলেও যায়। শোনো আদিবা, কাকেরা তোমাদের বাসায় যাওয়ার পর ড্রয়িংরুমে বসতে দিও।

অবাক আদিবা, কাকেরা সোফায় বসবে কী করে?

ওরা একদম মানুষের মতো পা ভেঙে সোফায় বসবে। আর আমার কাক কারখানার কাকেরা শিক্ষিত। ওদের চা-বিস্কুট আর চানাচুর খেতে দিও।

তোমার কাকেরা এসব খেতে পারে?

তুমি দিয়েই দেখো। বিস্কুট, চানাচুর খেয়ে পায়ের ওপর পা রেখে আয়েশ করে তোমার মতো চুমুক দিয়ে চা পান করবে। আর হ্যাঁ, ওরা কিন্তু সেলফি তুলতে দারুণ পছন্দ করে। তুমি ওদের সঙ্গে ছবি তুলে রেখো, কেমন?

ওকে মামা।

কিন্তু আদিবা কী করবে ভেবে পায় না। মন্টি মামা কাক পালে? কই, কখনও তো বলেনি! আবার রিকশা চালিয়ে কাক আসছে? মন্টি মামা যখন বলেছে, তখন হতেও পারে। মায়ের অফিসের কলিগ মন্টি মামা। মাঝে মাঝে অফিসে গেলে মন্টি মামা জিজ্ঞেস করে, আদিবা তোমার দাদাবাড়ি কোথায়?

পঞ্চগড়।

পঞ্চগড়ে সবুজ রঙের গরু পাওয়া যায়?

সবুজ রঙের গরু?

দেখোনি? খুব বিরক্তি প্রকাশ করে মন্টি মামা, তোমার বাবা-মা এ রকম কেনো? আমি যখন ছোট, তখনই আমাকে আমার বাবা পাশের গ্রাম উজানগাঁওয়ে নিয়ে সবুজ রঙের গরু দেখিয়ে এনেছে। বিশাল লম্বা, ঘোড়ার লেজের মতো লেজ, চওড়া নাক। চোখে ছিল কালো চশমা। গায়ে ছিলো উলের বোনা শাল।

শাল?

হ্যাঁ শাল, মানে চাদর। শীতকাল তো। মানুষের মতো গরুরও তো শীত করে, বলো করে না? গরুর যখন শীত করে, তখন শীতের কাঁথা গায়ে দিতে হবে না? অবশ্য বিদেশের গরুরা নাকি শীতের সময়ে কোট-টাই পরে।

মাসখানেক আগে, অফিস কেবল শুরু হয়েছে। নাজমা আর মন্টি পাশাপাশি টেবিলে কাজ করছে। মন্টির টেবিল জানালার পাশে। জানালায় চোখ রাখলে অফিসে কে আসে, কে যায় দেখতে পায়। অফিসটার মধ্যে বিশাল একটা মাঠ। মাঠের পাশে টলটলে পানির পুকুর। মনটা ভরে যায় মন্টির অফিসের চেয়ারে বসে সুন্দর দৃশ্য দেখে।

জ্বরে কাতর মন্টি দু'দিন পরে অফিসে এলে দেখা হয় আদিবার সঙ্গে, তোমাকে শুকনো শুকনো লাগছে মামা?

জ্বর হয়েছিলো।

আমাকে বলোনি কেনো?

বললে কী হতো?

আমি তোমাকে দেখতে যেতাম। জ্বরে মন্টির শরীর ক্লান্ত। কিন্তু আদিবার কথায় মনটা ভালো হয়ে যায়। আহা, নির্বাণ মেয়েটা কতো শুদ্ধ!

পরের দিন ছুটির দিন। মন্টি বাসায় টিভি দেখছে। ফোন বাজে।

আদিবার গলা, তুমি কেমন আছো মন্টি মামা?

আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?

আমি ভালো। মামা, তুমি কি বাসায়?

হ্যাঁ মামা, আমি বাসায়। টিভি দেখছি।

গুড। শোনো মামা, তুমি বাসা থেকে নিচে নেমে দাঁড়াও।

কেনো?

তোমার গায়ে জ্বর। তোমার জন্য আমি এক গাড়ি মিষ্টি কালারের রসগোল্লা পাঠাচ্ছি। তুমি তো রসগোল্লা খুব পছন্দ করো, তাই। জ্বরের পর মিষ্টি কালারের রসগোল্লা খেতে ভালো লাগবে। আর শোনো, সব রসগোল্লা একা একা খাবে না। পায়রা আপু, অরণ্য ভাইয়াকে নিয়ে খাবে। ঠিক আছে?

সবই ঠিক আছে, কিন্তু মিষ্টি কালারের রসগোল্লা জিনিসটা কী?

ওমা, তুমি মিষ্টি কালারের রসগোল্লা চেনো না? মিষ্টি কালারের রসগোল্লা মানে মিষ্টি কালারের রসগোল্লা। কালারটা এক্কেবারে মিষ্টির মতো। খেতে দারুণ মজা।

অবাক মন্টি আপন মনে বলছে, মিষ্টি কালারের রসগোল্লা মানে মিষ্টি কালারের রসগোল্লা! বাপের জনমে এমন ঘটনা কেউ শুনেছে?

মামা?

হ্যাঁ আদিবা, বলো।

তুমি চুপ মেরে কেনো?

এমনিই মা। তুমি তোমার মিষ্টি কালারের রসগোল্লা মানে মিষ্টি কালারের রসগোল্লা পাঠাচ্ছো কীসে?

কেনো, গাড়িতে পাঠাচ্ছি।

কী গাড়ি?

ও তোমাকে আসল কথাই বলা হয়নি। প্রায় এক হাজার মাটির হাঁড়িতে রসগোল্লা পাঠাচ্ছি, যাতে তুমি মন ভরে আর পেট পুরে মিষ্টি কালারের রসগোল্লা খেতে পারো। আর পাঠাচ্ছি একটা দশ টনি ট্রাকে। ট্রাকটা চালাচ্ছে দশ লাখ লাল পিঁপড়া। তোমার বাসায় যাওয়ার পর পিঁপড়ারাই রসগোল্লার সব হাঁড়ি বাসায় তুলে দেবে। তোমার একটুও কষ্ট করতে হবে না। ঠিক আছে?

ঠিক আছে!

মন্টি বিছানায় শুয়ে হো হো করে হাসতে থাকে, টিনটিনে মেয়েটার মাথায় তো দারুণ আইডিয়া। নিশ্চয়ই বড় হয়ে গল্প লিখবে।

মন্তব্য করুন