ক্যাঙ্গারুর লেজ দেখলেও কখনও হয়তো ভাবোনি, এদের লেজের কতোটা জোর! ক্যাঙ্গারু দৌড়ানোর সময় লেজ দিয়ে শরীরের ভারসাম্য রাখে।

নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হলে লেজের ওপর ভর দিয়ে দুই পায়ে একজন আরেকজনকে এমন জোরসে কিক দেয় যে, একজন মানুষের মাথার খুলি গুঁড়িয়ে যেতে পারে সেই কিক খেলে!

অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে, নিউগিনি, কুইন্সল্যান্ড এবং আশপাশের দ্বীপেই মূলত ক্যাঙ্গারুর বাস। ধারণা করা হয়, ক্যাঙ্গারুরা প্রায় ১৫ মিলিয়ন বছর আগে মায়োসিন যুগে অস্ট্রেলিয়ায় আসে।

আদি ক্যাঙ্গারুরা ছিলো বিশালাকার। লম্বায় ছিলো ১০ ফুট। ওজন ছিলো গড়ে ২০০ কেজি। তবে এখন যে ক্যাঙ্গারুর দেখা মিলে সেগুলো লম্বায় ২ মিটার এবং ৮৫ কেজি ওজনের হয়। এছাড়া পৃথিবীতে প্রায় ৪০ প্রজাতির ক্যাঙ্গারু আছে। এদের মধ্যে পাঁচটি প্রজাতি অন্যান্য ক্যাঙ্গারুর তুলনায় বেশ বড়। বিভিন্ন রঙের ক্যাঙ্গারু দেখতে পাওয়া যায়। তবে ধূসর ও লাল রঙের ক্যাঙ্গারু ১ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ৬ ফুট উঁচু হয়। এদের ওজন প্রায় ৪৫ কেজি বা ১০০ পাউন্ডের মতো।

হাঁটাহাঁটি তেমন পছন্দ করে না ক্যাঙ্গারু। লাফালাফিই হচ্ছে তাদের পছন্দের। ছোটখাটো লাফ দিয়ে চললেও তারা কিন্তু এক লাফে ৪৫ ফুট উঁচুতে লাফিয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া এরা ঘণ্টায় প্রায় ৪০ মাইল বেগে দৌড়াতে পারে আর অনায়াসে ডিঙাতে পারে উঁচু দেয়ালও।

ক্যাঙ্গারু ভয় পায় রোদ। তারা রোদ দেখলেই গাছের ছায়া খোঁজে। তাই এদের প্রায়ই গাছের নিচে বসে থাকতে দেখা যায়। শীতে আমাদের মতো ওরাও রোদ পোহায়। তবে রোদের তেজ যখন একেবারে কম থাকে কেবল তখনই রোদ মাখে গায়ে। কড়া রোদের মতো অতি বৃষ্টিও তাদের ভালো লাগে না। শুকনো, খোলামেলা তৃণ প্রান্তরে ছোটাছুটি করেই দিন কাটাতে ভালো লাগে তাদের।

সমভূমি আর মালভূমির ঘাসই তাদের প্রিয় খাবার। এসব খাবার কিন্তু তারা দিনে তেমন খায় না। রাতটাকেই খাবারের জন্য বেছে নেয়। তোমাদের মতো খাবারের ভেতর তাদের পানি খেতে হয় না। এমনকি তারা পানি না খেয়ে কয়েকদিনও কাটিয়ে দিতে পারে। পানি না খেয়ে ওরা ক্লান্তিহীন লাফাতেও পারে।

মা ক্যাঙ্গারু জন্মের পর তার ছোট্টমোট্ট বাচ্চাকে পেটের থলেতে ডুকিয়ে চলাফেরা করে। এক-দু'দিন নয়; মা তার পেটের থলেতে ছানাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় টানা ২৩৫ দিন।

ক্যাঙ্গারু দেখতে অনেকটা হরিণের মতো। মাথা অপেক্ষাকৃত ছোট। কান দুটিও ছোট এবং ওপরের দিকে খাড়া। দেহ ঢাকা থাকে ছোট ছোট লোম দিয়ে। পেছনের পা দুটি বেশ লম্বা আর শক্তিশালী। সেই তুলনায় সামনের পা দুটি নিতান্তই ছোট, যেন আস্ত দুটি হাত!

তাদের সৌন্দর্য আর গুণে মুগ্ধ হয়ে অস্ট্রেলিয়া তাদের জাতীয় পশুর মর্যাদা দিয়েছে ক্যাঙ্গারুকে। তবু কিছু খারাপ মানুষ তাদের ভয়-ভীতি দেখায়। তাই এরা মনে করে, নিচে মানুষ আর ওপরে উড়ে বেড়ানো ঈগলই তাদের প্রধান শত্রু।

মন্তব্য করুন