কালের খেয়া

কালের খেয়া

আর্ট ক্যাম্প

পড়শি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯

দীপাঞ্জন চৌধুরী

পড়শি

কলকতার খুদিরামপল্লীর 'চাঁদের হাট' সম্প্রতি ৫ থেকে ১৪ মার্চ 'পড়শি' শিরোনামের একটি আবাসিক আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করে

কৃষ্ণচূড়ার চারদিকে আড্ডার অনুষঙ্গে আজ ভাটিয়ালির সুর মিলেমিশে যায় উত্তর আধুনিকতায়। প্রতিনিয়ত তৈরি হয় শিল্পের পরিসর। কিন্তু এ রকম ছিল না চিরকাল। গত পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তরুণদা, ভবতোষ, নির্মল, মল্লিকা, প্রদীপ, রাজুসহ অনেকের সাহচর্য, বাৎসল্যে গড়ে উঠেছে এই উচ্ছ্বাস, সৃষ্টির উদ্দীপনা। এই আমাদের চাঁদের হাট, মসিমাখা পূর্ণ শশী সন্ধান।

আমাদের কাছে শিল্প মাধ্যমের কোনো কৌলীন্য নেই। না আছে রসিকের জাত বিচার। তাই প্রথম দিন থেকেই ইট, কাঠ, পাথর, মাটি, লোহা, শোলা, ধূপ ও রঙ নিয়ে হাটে-মাঠে, গ্রামের পথে, চণ্ডীমণ্ডপে আমাদের অবাধ বিচরণ। বলা ভালো দিনযাপন। সমাজের কাছে এই দেনদারিই আমাদের কাজের আবশ্যিক শর্ত। 'মাটির বুকের মাঝে বন্দি যে জল ঘুমিয়ে থাকে', তাতে মন রাঙানোই আমাদের কাজ।

মন্দির বা গৃহসজ্জার প্রয়োজনেরও অতীত, উৎসবে, আনন্দে, জনপরিসরে আমাদের দেশীয় শিল্পের ব্যবহার আজম্মকাল। এদেশে সমাজের মিলনক্ষেত্রই শিল্পের বৃহৎ পরিসর। অথচ শিল্পীর কাজকে দ্বিধাহীনভাবে হতে পারছি না বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এই বোধে আমাদের উত্তরাধিকার। আজ দু-দশকেরও বেশি সময় পার করে, দুর্গা পূজায় চাঁদের হাট-এর সদস্যদের কাজের নিরিখে এটা বোধ হয় বলা সম্ভব; সামাজিক পরিসর, উৎসব প্রাঙ্গণ আজ শিল্প সৃষ্টির জন্য উন্মুক্ত, অনুকূল। দৈনন্দিন সৃজনকর্ম আবার মানুষের আগ্রহে নান্দনিকতায় ভরপুর। লোক মাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানিক শিল্পের মাঝে এক সেতু দৃশ্যমান। এই সেতুরই সামান্য অংশে আমাদের চাঁদের হাটও। ভাবনা ছিল পড়শিয়ানা।

যে পড়শির স্পর্শ আজ যুদ্ধ-বিগ্রহ, ঘৃণার পরিবেশে স্বপ্নাতীত। স্বমেহন থেকে বেরিয়ে এসে আজ যেন শুধু তারই অপেক্ষা। যার সাথে আসা-যাওয়া, মুখ দেখাদেখি, ভাগাভাগি, খিট্‌মিট্‌ বন্ধ, তারই আকাঙ্ক্ষায় যেন গত কয়েক দিন সেজবাতিতে তেল ঢালা, কামার ও কুমোরের একত্রে দিন যাপন, কাঠ ও পাথরের নৈকট্য, রাত জাগা।

অবশেষে ১৬-১৮ মার্চ আমাদের কাজের উপস্থাপনা, যার পোশাকি নাম প্রদর্শনী।