কালের খেয়া

কালের খেয়া


কবিতার জীবন

প্রচ্ছদ

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৯      

মহাদেব সাহা

আমরা যাকে আত্মজীবনী বা আমার জীবন বলি, সে কি নিজের জীবন না বহুজনের জীবন? আমার জীবন বলে কি কিছু আছে, না তাতে এসে মিশে গেছে বহুজনের জীবন বহুভাবে, আমার জীবন সে তো অন্যেরও জীবন; মানুষের নিজের জীবনের মধ্যেই মিশে যায় অন্যেরও জীবন, তাই নিজের জীবন শুধু নিজের জীবন থাকে না, তাকে আমার জীবন বলা যায় না। কতজনের কত অভ্যাস-আচরণ, দোষগুণ, ভালোমন্দ নিজের অজান্তেই ঢুকে যায় নিজের জীবনের মধ্যে, প্রভাবিত করে জীবনকে, এই তো জীবন, বহু চরিত্র, বহু জীবনের সংস্পর্শে গড়ে ওঠে একটি জীবন; বাল্য থেকে কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব কত অধ্যায় পার হতে হয় তাকে, কোথায় থেকে কোথায় তার নিজের চিন্তারও অগোচর, কত আলো, কত অন্ধকার, উপন্যাসের চেয়েও বিস্ময়কর, 'লাইফ ইজ স্ট্রেইঞ্জার দ্যান ফিকশন', শরৎচন্দ্রই বোধহয় বলেছিলেন, একজনের জীবনে যা ঘটে তা আরেকজনের জীবনেও ঘটতে পারে, কত অসম্ভব, কত বিচিত্র ঘটনা যে জীবনে ঘটে এমনকি কাহিনিতেও, তা দেখা যায় না। একেই আমরা জীবনী বলি। আমার কেমন অদ্ভুত মনে হয়। জীবনের মধ্যে এই যে এত উপজীবন, এত স্রোত, একে ঠিক মেলানোর উপায় নেই, মানুষ একেই নিজের জীবন বলে মেনে নেয়, কিন্তু 'এ জীবন আমার নয়'। সেই জীবনের কথা লিখতে হচ্ছে। জীবনের দিকে একবার ফিরে তাকানো যায়, কিছুই ফেরানো যায় না, 'মনস্তাপেও লাগবে না তাতে জোড়া', এই কঠিন ভয়ংকর সত্যের নাম জীবন।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনীমূলক রচনাগুলো দেখে আমরা কখনও বিস্মিত হই, কখনও ব্যথিত হই, কিন্তু তাতে সেইসব ঘটনা বা ইতিহাসের কোনো হেরফের হয় না, মানুষের জীবন অলক্ষ্যে বসে কে যেন এমনি করে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে, মানুষের কিছুই যেন করার নেই, গ্রিক ট্র্যাজেডিতে একেই বলে নিয়তি। নিয়তিবাদী না হয়েও এই মানুষই কোনো না কোনোভাবে যে নিয়তিবাদী তা অস্বীকার করা যায় না। কাফকা বা ভার্জিনিয়া উলফের ডায়েরিতে কত অসামান্য সত্যের ঝিলিক দেখি, মানব জীবনের কত নিদারুণ সত্যের প্রকাশ দেখি কত জীবনীগ্রন্থে, বিস্মিত হয়ে ভাবি, প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবন এক অন্তহীন বেদনার বই, তার সব পৃষ্ঠা তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মৌলানা আজাদ 'ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম' লিখতে গিয়ে বলেছিলেন, পৃথিবী নামক গ্রন্থটির প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে, কথাটি বোধহয় জীবন নামক গ্রন্থটির ক্ষেত্রেও বলা যায়। এসব কথা কোনো না কোনোভাবে হয়তো আগেও লিখেছি, তবুও বিশদ করতে হচ্ছে, করতেও হবে, না হলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে আমার উপলব্ধি। যখন যা অনুভব করব, তা-ই লিখব, টানা কোনো বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়, এ লেখা মন থেকে, স্মৃতি থেকে খুঁটে খুঁটে সংগ্রহ করা, খণ্ড খণ্ড অভিজ্ঞতা, একেকটি ঘটনা বা তার অংশ। বার্ট্রান্ড রাসেল এত দীর্ঘ অটোবায়োগ্রাফি লিখেছেন, কিন্তু তাও কি সম্পূর্ণ? জীবনী শেষ হয় কিন্তু সমাপ্ত হয় না, জীবনী মাত্রই অসমাপ্ত। জীবন এক বিচিত্র ব্যাপার তার কোনো সংজ্ঞাই শেষ কথা নয়। বঙ্কিমচন্দ্র সেই যে বলেছিলেন, 'এই জীবন লইয়া আমি কি করিব', কথাটি মর্মান্তিক সত্য। মানুষ এই জীবনকে ভালোবাসে। দস্তয়ভস্কি ঠিকই বলেছিলেন, 'মানুষের কাছে জীবনের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই'। কাম্যুর নায়কও তাই তো বলেছে,'গাছের ডালে থাকতে হলেও আমি বেঁচে থাকতে চাই'। এই জীবন, সুখ-দুঃখের, আনন্দ-বেদনার জীবন। এই জীবনও তার নিজের জীবন নয়, বহুজনের জীবন, কতভাবে প্ররোচিত, প্রভাবিত, আলোড়িত। কত রকমের ঘটনা তাকে এ পথ থেকে সে পথে নিয়ে যায়, কুমন্ত্রণা, কুদৃশ্য কতভাবে তাড়িত করে তাকে, কত সঙ্গ, কথা, কুপাঠ তাকে অন্য মানুষ করে তোলে, হারিয়ে যায় তার নিজের জীবন। একদিন যে নিষ্পাপ শিশুর জন্ম হয়, সেই শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না, সে বহু জীবনের সংস্পর্শে, বহু কামনা-বাসনার উত্তাপে ক্ষতবিক্ষত হতে হতে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই হারিয়ে ফেলে, হয়ে পড়ে অডম্যান। এই হয়তো মানব ভাগ্যের নিমর্ম পরিণতি। গোল্ডিং একটি নির্জন দ্বীপে একদল বালকের প্রতিহিংসার যে চিত্র তুলে ধরেন, তা থেকে তো এও মনে হয় যে, পরিবেশের প্রভাব ছাড়াও মানুষ নিজের জীবনের মধ্যেই বহন করে অপরাধ ও ধ্বংসের বীজ।

জীবনে দুঃখ যেমন পেয়েছি তেমনি সুখও পেয়েছি, সেই সুখ ও ভালোবাসাও মিথ্যা নয়, কখনও কখনও অভূতপূর্ব ঘটনাও জীবনে ঘটে, বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়, বলতে ইচ্ছে করে, 'যা দেখেছি যা পেয়েছি/ তুলনা তার নাই', এসব তো বিশদ করা যায় না, কত উষ্ণ ভালোবাসা, হার্দ অনুভূতি, মন ভরে যায়, মনে হয়, এই ছোট্ট জীবনে সেই বা কম কিসে। কত জ্যোস্না রাত, মুগ্ধ কণ্ঠ জীবনের নানা বিপর্যয়ের মধ্যেও মন স্পর্শ করে, যত দুঃখ-বঞ্চনাই থাক, মনে হয় জীবন সুন্দর। কতজনের কত সেবা, কত স্নেহস্পর্শ, প্রাণ-মন ছুঁয়ে যাওয়া মুগ্ধ দৃষ্টি সেও তো মিথ্যা নয়, কেউ কেউ একে বলতে পারেন রোমান্টিক ভাবনা, তরপরও কিন্তু সব উত্তর মেলে না, মেলা সম্ভব নয়; আমরা একটু বেশি রোমান্টিক বলেই কি পশ্চিমা পাঁচ সেরা রোমান্টিক ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, শেলি, কিট্‌স, বায়রন যা করেছেন রবীন্দ্রনাথ একাই তা করেছেন। এই যে দিনরাত এভাবে কবিতার জন্য মেতে থাকলাম, যেন দু'হাতে লিখলাম কবিতা, কবিতাই হয়ে উঠল জীবন, প্রায় অবিরল ধারায় এত কবিতা লিখলাম, প্রেরণা কথাটাকে অস্বীকার করবেন সুধীন্দ্রনাথ, তবে কী এমন নেশা, কী এমন ঘোর, যা আমাকে এভাবে মাতিয়ে রাখল, তবে কী সময়ই আমাকে দিয়ে যা লেখার লিখিয়ে নিলো, হয়তো তা-ই। এর বেশি ব্যখ্যা করতে পারব না আমি। এই লেখার কী কোনো অর্থ হয়, হয় না, তবু লিখছি আত্মকথা, আত্মজীবনের এই বিবরণ। কবিতার মধ্যে যে জীবন, এত শীত, গ্রীষ্ফ্ম, বর্ষা কোথায় দিয়ে চলে গেল, নিজের দিকে তাকানো হলো না, নিজের সাথে বসা হলো না, কথা হলো না, শুধু ওড়া, শুধু ছোটা। কত পাহাড়, কত অরণ্য, কত পথ পাড়ি দেওয়া, কত ঘাটের জল খাওয়া, এর নামই কি জীবন? হয়তোবা। সত্যি এই জীবন নিয়ে কিছুই করা যায় না, অঙ্ক কষা যায়, মেলানো যায় না। একদিন এই সত্য যখন বোঝা যায়, তখন আর করার থাকে না কিছুই, সামনে শুধুই সাদা দেয়াল।

বড় ঘোরে, উন্মাদনায় দিন কাটল, জ্ঞান-বুদ্ধি কাজ করল না, এ কী আবেগ, এ কী আচ্ছন্নতা, স্থির হতে পারলাম না, এক লক্ষ্যহীন, গন্তব্যহীন ছুটে চলা শুধু, কে আমাকে এভাবে তাড়িয়ে নিলো, এই উন্মাদগ্রস্ততা কখন কীভাবে জন্ম নিলো আমার মধ্যে ভেবে পাই না, যতই ভাবি ততই অবসন্ন হয়ে পড়ি, বিষাদ আর মনোবেদনা চেপে বসে, এই নিরর্থক আক্ষেপ কেবলই ব্যথিত করে। আমার কাছে জীবন এরকমই। এখন আমি যে মগটিতে চা খাই তাতে একটি অসামান্য উক্তি লেখা আছে- 'গড গ্রান্ট মি দ্য সিরিনিটি টু অ্যাকসেপ্ট থিংস আই ক্যান নট চেঞ্জ'। আহার, নিদ্রা, সংসার ভুলে এই যে কবিতা লিখে লিখে খাতা ভরলাম, কবিতার মোহে কী করতে কী-না করলাম, কিছুই হলো না, আজ মনে হয় সব নিষ্ম্ফল। সান্ত্বনা অর্থহীন। আমি তো আমার ব্যর্থতার কথা জানি। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, 'তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই', কেন এই সোনার হরিণ চাওয়া, কেন, প্রশ্ন। তার চেয়ে কি ভালো ছিল না ধুলোমাটিজলের জীবন, হেসে খেলে বেড়ানো জীবন? কী মধুর সে জীবন, 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই'।

ঢাকায় ফিরে এসে কবিতায় আরও মেতে উঠি। সে বয়সটাই ছিল তাই'। সকালে উঠেই শরীফ মিয়ার ক্যান্টিন। আহমদ ছফা প্রায় নিয়মিত আসে। তার সঙ্গী-সাথি অনেক। শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে সেই লম্বা হাই বেঞ্চ পুরো একটা জুড়ে বসে তারা। আমি একা একা বসে থাকি। কিছুক্ষণ পরে হয়তো হাসান আসে, হাসানের সাথে কোনো কোনো দিন মাহফুজ। একটু পরেই নির্মলও আসে। তাজুল ও মলয়ও আসে মাঝে মধ্যে। তাজুলের সাথেও তার বন্ধুরা থাকে, এর মধ্যে একদিন মুহম্মদ নূরুল হুদা ও হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সাথে দেখা হলো। সুকান্ত চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজে পড়ে, কিন্তু চলে আসে শরীফ মিয়ায়। অসীম সাহার সাথেও এখানেই দেখা হয়। ম. হামিদও শরীফ মিয়ায় তখন প্রায় নিয়মিত আসে। মামুনর রশীদও আসে কোনো কোনো দিন। স্বাধীনতার পর শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে আরও নতুন নতুন মুখ, সকাল থেকেই একেবারে জমজমাট। কোনো কোনো দিন বসার জায়গাই পাওয়া যায় না। হেলাল হাফিজ, আবিদ আজাদ, শিহাব সরকার, ফিউরি খন্দকার এরাও আসা শুরু করেছে। অল্প দিনের মধ্যেই আবিদ, শিহাব, ফিউরি, নির্মল, হাসান ও আমার বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল। শরীফ মিয়ার আড্ডায় আমরা তখন প্রায় নিয়মিত উপস্থিত থাকি। ছ'আনায় এক প্লেট তেহারি, চা বোধহয় এক আনা, এক কাপ চা নিয়ে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ার দখল করে বসে থাকি। শরীফ মিয়া চেঁচামেচি করে, আমরা পাত্তা দিই না, আমাদের উপদ্রব সহ্য করে। তর্ক-বিতর্ক, আড্ডা, গল্প, সময় যেন উড়ে চলে যায়। কোনো কোনো দিন রাতে লেখা নতুন কবিতা পকেটে, শরীফ মিয়া থেকে সোজা চলে যাই দৈনিক বাংলা অফিসে, হাবীব ভাইয়ের কাছে। সে সময় রফিকুল ইসলাম সম্পাদিত আধুনিক কবিতার সংকলনটি বাংলাদেশের আধুনিক কবিতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংকলন। এর আগে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর প্রকাশিত হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত সংকলনটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে কবিতার প্রভাব ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। মানুষ কবিতার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। বিস্ময়করভাবে কবিতা ও কবিতার বইয়ের প্রতি মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। কবিতার প্রসারে স্বাধীনতার স্বপ্ন ও আবেগ যে বিশেষভাবে কাজ করে, তা নতুন নতুন কবিতার বই প্রকাশ ও তার বিক্রি থেকেই বোঝা যায়।

দশকে দশকে পশ্চিমের সাহিত্য আন্দোলনের ঢেউ এসে লাগে বাংলা কবিতায়। তিরিশের আধুনিকতা তার বড় প্রমাণ। ইউরোপীয় আধুনিক চিন্তা তিরিশের কবিতাকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে, তা আর কোনো দশকেই দেখা যায়নি। ষাট দশকে বিট জেনারেশনের কবিরা যে আদর্শ প্রচার করে, তাকে ডেকাডেন্স বা অবক্ষয় না বলে উপায় নেই। এই জেনারেশনের প্রধান কবিরা হলেন গিন্সবার্গ, ফার্লিং ঘাত্তি, করসো। তাঁদের প্রচারিত সাহিত্য দর্শন কেবল ভয়ংকরই নয়, আত্মধ্বংসী। সর্বতোভাবে নেগেটিভ জীবন দর্শনই প্রতিফলিত হয়ে ওঠে তাদের ম্যানিফেস্টোতে। সমস্ত প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ অস্বীকার করে যে নেতিবাদী চিন্তার প্রচার করে তাঁরা, তা জীবনকে প্রত্যাখ্যানেরই নামান্তর। স্যাড জেনারেশন, হাংরি জেনারেশন, অ্যাংরি জেনারেশন নামের জেনারেশনগুলোর দর্শন হচ্ছে জীবনকে অস্বীকার করা। নেশা, অ্যালকোহল, অমিতাচার, অনৈতিক জীবনাচরণ যে রুগ্‌ণ জীবন উপহার দেয়, তাকে ভয়ংকর ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। বলাবাহুল্য, এই পথে কোনো মহৎ সৃষ্টি সম্ভব নয়। একমাত্র গিন্সবার্গ ছাড়া এই দশকের আর কোনো বড় কবিরও তেমন সাক্ষাৎ মেলে না। আপাতরম্য এই সব উক্তি সে সময় আমাদেরও যে আকর্ষণ না করে তাও নয়। কিন্তু এ পথ যে কবির পথ নয় তা বুঝতে আমার বেশি সময় লাগেনি। এই ধারায় প্রথমে কিছুটা মোহগ্রস্ত হলেও আমি এই ধারায় মাত্র একটি কবিতাই লিখেছিলাম, আগেই বলেছি 'নৈশচিন্তা' নামের সেই কবিতাটি আমি কোনো কাব্যগ্রন্থে নিইনি। আমি অচিরেই বুঝতে পারি ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে নয়, ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করেই কেবল কবিতা লেখা সম্ভব। সে জন্য কবিতায় জীবন ও সমাজই মুখ্য হয়ে ওঠে আমার কাছে। আর সে কারণেই এমন অবিরলভাবে কবিতা লেখা সম্ভব হয়েছে। ভাবি, এত কবিতা লিখলাম কীভাবে, এই রহস্যের উত্তর একটাই, কবিতা পেয়েছি জীবনের কাছ থেকে। এভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, তবু সেই উন্মত্ততা, সেই বিকৃতি, সেই অনাচার সুস্থ জীবনের অনেক ক্ষতিও করে ফেলেছে, সেসব অসুস্থ চিন্তা কতভাবেই তো প্রভাবিত করেছে জীবন। শুদ্ধতা হারালে জীবনের যে আর কিছুই থাকে না এই সত্য বুঝতে বুঝতে চলে যায় জীবনের বেশিরভাগ সময়। আর তখন যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই যায়। ইয়েটস নাকি বলেছিলেন, একেবারে বিশুদ্ধ জীবন কবিতা পছন্দ করে না। আমার মনে হয়, ইয়েটসের মতো মহৎ কবি এমন কথা ঠিক এভাবে বলতেই পারেন না, আমরা কথাটার অপঅর্থ করেছি, জীবনের অপচয় কাম্য হতে পারে না কখনও। না হলে কোলরিজ কেন বলবেন, কবি যখন মানুষ হিসেবে খারাপ হয়ে যায়, তখন সে ভালো কবিতাও লিখতে পারে না, কথাটা খুব মূল্যবান।