কালের খেয়া

কালের খেয়া


জীবনানন্দ দাশ: আট বছর আগের একদিন

নির্যাস

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯      
জীবনানন্দ দাশ: আট বছর আগের একদিন

জীবনানন্দ দাশ [১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯-২২ অক্টোবর, ১৯৫৪]

শোনা গেলো লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে-ফাল্কগ্দুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হলো তার সাধ।

ধারণা করা হয় জীবনানন্দ দাশ আত্মহত্যা করেছিলেন। কেননা গত একশত বৎসরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কোলকাতায় মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র একটি। তিনি আর কেউ নন, কবি জীবনানন্দ দাশ। ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যু, পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত জীবনানন্দই একমাত্র উদাহরণ।

জীবনানন্দ গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দসহ অনেকেই ধারণা করেছেন, আত্মহত্যা স্পৃহা ছিল দুর্ঘটনার মূল কারণ। জীবনানন্দ গবেষক ডা. ভূমেন্দ্র গুহ মনে করেন জাগতিক নিঃসহায়তা কবিকে মানসিকভাবে কাবু করেছিল এবং তাঁর জীবনস্পৃহা শূন্য করে দিয়েছিল। মৃত্যুচিন্তা কবির মাথায় দানা বেঁধেছিল। তিনি প্রায়ই ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর মতে এ সময় দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে ট্রামলাইন পার হচ্ছিলেন কবি। আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই হাতে দুই থোকা ডাব নিয়ে গৃহে ফেরার সড়কে ওঠার জন্য ট্রামলাইন পাড়ি দেওয়া খুব গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়।

যদি আত্মহত্যাই হয়ে থাকে- তবে এভাবে নিজ মৃত্যুকে বেছে নেওয়ার চেষ্টাই বা তিনি করবেন কেন?

তিনি কেন বারে বারে মৃত্যুচিন্তা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন- তার কবিতা পড়লে এ চিন্তা যে কোনো পাঠকের মনেই উদয় হতে পারে। প্রেম, প্রকৃতি, জীবনবোধের সাথে সাথে মৃত্যু এবং মৃত্যু সাধ- জীবনানন্দ দাশের কবিতার আরেকটি অন্যতম উপাদান।

তার 'আট বছর আগের একদিন' কবিতাটি কেবল মৃত্যু নয়, আত্মহননের তীব্র ইঙ্গিতবাহী।

বধূ শুয়ে ছিল পাশে, শিশুটিও ছিল;
প্রেম ছিল, আশা ছিল জ্যোৎস্নায়, তবু সে দেখিল
কোন্‌ ভূত? ঘুম কেন ভেঙে গেল তার?
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল, লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার।