কালের খেয়া

কালের খেয়া


আলবেয়ার কামুর ভাষণ

মানুষের সংকট

দূরের সাহিত্য

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯      
 মানুষের সংকট

আলবেয়ার কামু [জন্ম :৭ নভেম্বর, ১৯১৩-মৃত্যু :৪ জানুয়ারি, ১৯৬০

আলজেরীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি সাহিত্যিক আলবেয়ার কামু। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জন্মগ্রহণ করা এই সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক আলোচিত তার অনন্য উপন্যাস 'দ্য আউটসাইডার'-এর জন্য। বিশ্বসাহিত্যের প্রভাব বিস্তারী লেখক আলবেয়ার কামু তার ৪৬ বছরের জীবনে লিখেছেন পাঁচটি উপন্যাস, সাতটি ছোট গল্পগ্রন্থ, ছয়টি নাটকসহ বেশ কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থ। ১৯৪৬ সালে কামু আমেরিকা ভ্রমণ করেন কয়েকটি বক্তৃতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। ওই বছর ২৮ মার্চ কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে 'দ্য হিউম্যান ক্রাইসিস' শিরোনামে দীর্ঘ এক বক্তৃতা দেন। সমাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ও মানব মনের ওপর দুটি বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি হৃদয়গ্রাহী আলোচনা করেন। আলজেরিয়া ও ফ্রাস, দুই রাষ্ট্রের সম্মিলিত সন্তান আলবেয়ার কামুর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী ছিল ৭ নভেম্বর। তার জন্মদিন উপলক্ষে 'দ্য হিউম্যান ক্রাইসিস' বক্তৃতার ভূমিকা অংশ পত্রস্থ হলো। ভাষান্তর করেছেন আহমাদ শামীম

উপস্থিত ভদ্র মহোদয়গণ, আমেরিকায় কয়েকটি লেকচার দেওয়ার জন্য আমাকে যখন আমন্ত্রণ জানানো হয়, সেই মুহূর্তে আমি কিছুটা দ্বিধা ও সন্দেহে ভুগছিলাম। আসলে এরকম লেকচার দেওয়ার মতো বয়স আমার হয়নি, আর আমি কোনো বিষয়ে চিন্তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়ে সোজাসুজি কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর স্বাভাবিক দৃষ্টিতে যেটাকে সত্য বলা হয়, সেই বিষয়ে আমার কোনো ভিন্ন বক্তব্যও নেই। এই দ্বিধার বিষয়ে সবিনয়ে বলতে চাই যে, আমার ব্যক্তিগত এসব মতামতে কারও তেমন কিছু আসে যায় না। এই বক্তৃতায় যেটা হতে পারে, আমি ফ্রান্স নিয়ে কিছু তথ্য দেব, যার মাধ্যমে আমার শ্রোতাদের নিজস্ব একটা মতামত তৈরি হবে। এখানে উপস্থিত দর্শকদের ফরাসি মঞ্চ, ফরাসি সাহিত্য এমনকি ফরাসি দর্শনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বিষয় জানাতে চাই। পুনরায় বলছি, যদি আমি ফ্রান্সের রেল শ্রমিকদের অসামান্য কাজ নিয়ে কিংবা উত্তরের খনি শ্রমিকদের জীবন নিয়ে বলি, তবে সেটা সত্যি আরও বেশি আকর্ষণীয় হতো বলে মনে করি। কিন্তু আমাকে বলা হলো, আর এটা সত্যিও যে, একজনের প্রতিভা নিয়ে আরেকজনের জোর করা উচিত নয় আর যে ব্যক্তি যে বিষয়ে বিজ্ঞ তাকে সে বিষয় নিয়েই আলোচনা করা উচিত। যদিও রেললাইনের সুইচ বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই, এবং আমি সাহিত্য বিষয়ে যে কোনো প্রশ্নের ব্যাপারেই দারুণ আগ্রহী, আর তাই ট্রেনের চেয়ে সাহিত্য নিয়ে কথা বলাই যুক্তিযুক্ত হবে। অবশেষে, আমি এটাই বুঝলাম। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি যা জানি এবং ফ্রান্সে বর্তমানে যা ঘটছে সেটা নিয়ে কথা বলাই কাজের কাজ হবে। সাহিত্য কিংবা মঞ্চ নিয়ে আমরা কথা বলতে না চাওয়ার পেছনে আরেকটি সুস্পষ্ট কারণও আছে। সাহিত্য, মঞ্চ, দর্শন, গবেষণা এবং রাষ্ট্রের সার্বিক প্রচেষ্টা একটি মৌলিক প্রশ্নেরই প্রতিচ্ছবি হয়ে বারবার ফিরে আসে আর সেটা হলো জীবন ও মানিবকতার সংগ্রাম, আর এ প্রশ্নই বর্তমানে আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখছে বলে আমার ধারণা।

ফরাসি জনগণ মনে করে, মানবজাতি এখনও যথেষ্ট হুমকির মুখোমুখি। তাদের মতে, মানবজাতি যে সংকটে উপনীত তা পুরো বিশ্বকেই কবজা করে রেখেছে আর এখান থেকে উত্তরণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রয়োজন। আমার দেশের প্রতি বিশ্বস্ততা থেকেই আমি মানবতার এই সংকট নিয়ে কথা বলব বলে ঠিক করেছি। যদিও আমি যা জানি তা নিয়েই কথা বলব মূলত, বলতে চাই আমার প্রজন্মের মানুষদের নৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে, এ ব্যাপারে একটা পরিস্কার রেখাচিত্র আঁকাটাই সবচেয়ে ভালো হবে। কেননা আমরা দেখছি বিশ্বের সংকট আরও বিস্তৃত হচ্ছে আর এ বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা আলোর মতো বর্ষিত হচ্ছে, এ দুটোই মানবজাতির ভাগ্যে ছিল। আজকের দিনের ফরাসি জনগণের সংবেদনশীলতার কিছু বিষয় নিয়েও বলতে চাই। আলোচনার শুরুতে, প্রথমেই আমি আপনাদের এই প্রজন্মের একটি ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

ফ্রান্স এবং ইউরোপে আমার সমবয়সী, যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে কিংবা যুদ্ধের সময় জন্ম নিয়েছিল, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার ভেতর তারা কৈশোরে উপনীত হয় আর হিটলারের ক্ষমতায় আরোহন করার সময় তাদের বয়স ছিল বিশ বছর। এই মানুষগুলো যখন তাদের লেখাপড়া শেষ করল- তখন শুরু হলো স্পেনের গৃহযুদ্ধ, হলো মিউনিখ চুক্তি, ১৯৩৯ সালে শুরু হয় আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪০ সালে ফ্রান্সের পতন ঘটার পর শত্রুদের দখলে থাকল চার বছর আর চলল আন্ডারগ্রাউন্ড সংগ্রাম। এসব কারণে আমার মতে, এটা সত্যিই এক মজার প্রজন্ম। আপনাদের এটা শুধু আমি-ই না, ফ্রান্সের যে মানুষটির বয়স বর্তমানে ত্রিশ বছর সেও একই কথাই বলবে, তাদের দেশের মতো তাদেরও মন এবং মনস্তত্ত্ব গড়ে উঠেছে এই ভয়ংকর বছরগুলোতে, তারা বড় হয়েছে লজ্জার ভেতর আর বেঁচে ছিল বিদ্রোহের মধ্যে। হ্যাঁ, এরা সত্যিই মজার একটা প্রজন্ম। এদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম এই অদ্ভুত পৃথিবীতে বাস করে হয়ে উঠেছিল কৃত্রিমতায় পূর্ণ, তাদের বিদ্রোহের আকাঙ্ক্ষা ছিল কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট মতের ওপর তাদের বিশ্বাস ছিল না।

বর্তমানে এই সময়কার সাহিত্য সারল্য, বর্ণনামূলক বিবরণ আর বাক্যের স্বাভাবিকতার বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়াল। এই সময়কার চিত্রকর্ম ফিগারেটিভিজম, রিয়েলিজম আর সরলতার বিপরীতে গিয়ে হয়ে উঠল বিমূর্ত। সংগীত হয়ে উঠল সুরহীন। আর দর্শন আমাদের শেখাতে লাগল, সত্য বলে কোনো বিষয়-ই নেই, যা আছে সবই আসলে ঘটমান বিষয়।

... আমাদের প্রজন্মের নৈতিক মনোভাব বলা চলে প্রায় অনাপেক্ষিক। জাতীয়তাবাদ তাদের কাছে অনেকটা আদি সত্যের মতো, ধর্ম পালন ছাড়া আর কিছুই নয়। বিগত ২৫ বছরের আন্তর্জাতিক রাজনীতি আমাদের বিশুদ্ধ ধারণার ব্যাপারে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে আর এই ভাবনার শেষ হয়েছে সবাই সঠিক-ই হয়তো কেননা কেউ-ই এখানে ভুল নয়। আর আমাদের সমাজের পরম্পরাগত নৈতিকতা বিকট ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা, সমাজ যেভাবে চলছে সেভাবে চলে আসছে, কোনো কিছুই এখানে আটকে যায় না। আমরা এই বৈপরীত্যের ভেতরই বাস করছি। যদিও এটা নতুন কিছু নয়। পূর্ববর্তী অন্যান্য প্রজন্ম ও অন্যান্য দেশ ইতিহাসের নানান সময়ে এই অভিজ্ঞতাই ভিন্নভাবে লাভ করেছে। কিন্তু এই সময়ে এসে যা নতুন করে ঘটছে তা হলো, এই মানুষগুলো যারা গতানুগতিক বিশ্বাসের কাছে অপরিচিত ছাড়া আর কিছুই নয় তারা খুন এবং আতঙ্কের মতো বিষয়ের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থা তাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, মানবজাতির সংকট আদতেই চলছে আর এই প্যাঁচ খাওয়া বিরোধিতার মধ্যেই তারা বেঁচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এটা ঘটছে কেননা তারা যুদ্ধের মধ্যে প্রবেশ করছে যা অনেকের কাছে দোজখের মতো। এটা যদিও সত্য, তবু অনেকেই এটাকে অস্বীকারও করবে। তারা যুদ্ধ কিংবা হিংস্রতার কোনোটাই পছন্দ করে না, যদিও তারা যুদ্ধকেই গ্রহণ করছে এবং হিংস্রতার চর্চাই করছে। তারা ঘৃণিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই ঘৃণা করে না আর এই জটিল বিজ্ঞান শিখতেও বাধ্য হচ্ছে। তারা সন্ত্রাসবাদকে মোকাবিলা করছে কিংবা সন্ত্রাসই তাদের মোকাবিলা করে। তারা এই সময়ের স্বাভাবিক মূল্যায়নের বদলে এভাবেই বর্তমান অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আমি ভিন্ন চারটি ঘটনা বা গল্প দ্বারা আপনাদের দেখাতে চাই, যে ঘটনাগুলো সময়ের আবর্তে প্রায় সবাই ভুলেই গিয়েছে কিন্তু এগুলো আমাদের হৃদয়ে এখনও জ্বলজ্বল করছে।

প্রথম ঘটনাটি হলো, ইউরোপিয়ান এক রাষ্ট্রের রাজধানীর একটি ভবন দখল করে আছে গেস্টাপোর সদস্যরা, তাদের সঙ্গে দুই অভিযুক্ত আসামি, পুরো রাতের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকাল বেলায় তারা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। ওই ভবনের পরিচারিকা বেশ শান্ত মনেই সকাল সকাল তার কাজকর্ম শুরু করেছে, এরই মধ্যে সে তার নাস্তাও খেয়ে নিয়েছে। দুই বন্দির একজন তাদের এই দুরবস্থার জন্য যখন তাকে দোষারোপ করছিল, তখন সে বেশ শান্ত কণ্ঠে বলল, 'আমি আমার ভাড়াটিয়ার কোনো ব্যাপারে কখনও নাক গলাই না।'

এবার বলি দ্বিতীয় ঘটনা। লিও শহরে আমাদেরই এক কমরেডকে তৃতীয়বারের মতো যখন তার সেল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়, তখন তার কান মারাত্মকভাবে ছিঁড়ে গিয়েছিল, এটা ছিল আগেরবারের জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফল, তার মাথার চারপাশে ব্যান্ডেজ মোড়ানো ছিল। যে জার্মান অফিসার তাকে জেরা করবে, সে আগেরবারও উপস্থিত ছিল, সেই অফিসার আমাদের কমরেডের কাছে স্নেহভরা উদ্বেগ নিয়ে জানতে চায়, 'তোমার কানের কী অবস্থা'।

তৃতীয় ঘটনা হলো, গ্রিসে আন্ডারগ্রাউন্ড যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এক অভিযান চালানোর পর একজন জার্মান অফিসার তিন ভাইকে বন্দি করল। তাদের বৃদ্ধ মা ওই অফিসারের পায়ে পড়ে তার সন্তানদের মুক্তির জন্য আকুতি জানাতে লাগল। অফিসার অবশেষে এদের থেকে একজনকে ছেড়ে দেবে বলে রাজি হয়। কিন্তু তার শর্ত ছিল, মা তার তিন সন্তানের মধ্য থেকে যার কথা বলবে তাকেই সে বঁ?াচিয়ে রাখবে। মা অবশেষে তার বড় ছেলেকেই বেছে নিল। কারণ তার নিজের পরিবার আছে কিন্তু মায়ের এই বেছে নেওয়াটা অন্য দুই ছেলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। জার্মান অফিসারটিও অবশ্য এমনটাই চেয়েছিলেন।

সবশেষে চতুর্থ ঘটনা, দেশান্তরিত হওয়া ফ্রান্সের একদল মহিলা, যাদের সঙ্গে আমাদের একজন কমরেডও ছিলেন, তারা সুইজারল্যান্ড হয়ে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দেয়। যখন তারা সুইজারল্যান্ডের সীমানায় প্রবেশ করল, তারা দেখল সেখানে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান চলছে। এই দৃশ্য দেখে তারা হিস্ট্রিয়াগ্রস্ত রোগীদের মতো বিকটভাবে হাসতে হাসতে বলতে লাগল, 'আরে এখানে তাহলে মৃতদের সঙ্গে এমন ব্যবহারই করা হয়!'

এই ঘটনাগুলো আমি বেছে নিলাম একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে, আর সেই প্রশ্নটি হলো, আসলেই কি পৃথিবীজুড়ে মানবজাতির সংকটকাল চলছে? আমার উত্তর হলো, হ্যাঁ সংকট চলছে। এই প্রশ্নের উত্তর আমি আবারও দিতে চাই, মানবজাতির সংকট আদতেই চলছে, কেননা আজকের পৃথিবীতে মৃত্যু কিংবা নির্যাতনের বিষয়গুলো আমরা মানুষরাই কখনও উদাসীন মনোভাবে, অমায়িক উদ্বেগ, আবার বৈজ্ঞানিক আগ্রহ নিয়ে কিংবা স্বাভাবিক নিষ্ফ্ক্রিয়তার সঙ্গেই দেখছি এবং গ্রহণ করছি।' আমি আবারও বলছি, মানবজাতির সংকট চলছে। কেননা, একজন মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো নৃশংসতা আর ভয়াবহতা অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা চলে না, তবুও এটাই করছি এবং এটাকে বাধা দেওয়ার মতোও কেউ নেই। মানুষ যেন কষ্টই ভোগ করবে, এক আউন্স মাখনের জন্য যেমন নিয়মিত লাইনে দাঁড়াতে হয়, তেমনি এটাও এখন বেশ বিরক্তিকর আর একঘেঁয়ে হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়গুলোর জন্য সরলভাবে হিটলারকে দায়ী করা হয় আর সবাই বলে, 'ওই জানোয়ারের সঙ্গে তার বিষও দূর হয়ে গেছে।' কিন্তু আমরা ভালোভাবে জানি, ওই বিষ আসলে নিঃশেষ হয়নি, ওটা আমরা প্রত্যেকেই আমাদের হৃদয়ে লালন করে চলেছি। এই বিষয়গুলো আমরা বুঝতে পারি এখনকার রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দলগুলো আর ব্যক্তি মানুষের একের প্রতি অন্যের ব্যবহার ও হিংসার বহিঃপ্রকাশ দেখে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, একটি রাষ্ট্র যেমন বীরদের তৈরি করে তেমনি তৈরি করে বিশ্বাসঘাতকদেরও। আবার এটাও ঠিক যে, এই সভ্যতা বিশেষ করে সাদা মানুষদের তৈরি সভ্যতাই তার অনেক সাফল্যের পাশাপাশি এই বিকৃতিগুলোও তৈরি করেছে। হিটলার এবং তার উত্তরাধিকার যে ভয়ানক অশুভ অবস্থার জন্ম দিয়েছে যা ইউরোপের সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অবশ্যই স্বাভাবিক পন্থায় ওপরের ভাবনাগুলো থেকে আমাদের উত্তর খুঁজে নিতে হবে।