কালের খেয়া

কালের খেয়া


তুমুল গাঢ় সমাচার

পুনশ্চ প্যারিস

ধারাবাহিক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২০      

বিনায়ক সেন

পর্ব ::৪০

[পূর্বে প্রকাশিতের পর]

ইউরোপ যা কিছু করে দেখিয়েছে তাকে আমরা বুঝতে চেষ্টা করি, তাকে আমরা উচ্চ মূল্যায়ন করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ভারতবর্ষ যা তৈরি করেছে তাকে আমরা পরিত্যাজ্য বলে ভাবব। আমরা যেমন তোমাদের বিষয়ে করি, সেভাবে তোমরা যদি আমাদের সংগীতকলা নিয়ে পড়াশোনা করতে, তাহলে দেখতে তোমাদের সংগীতে যেমন, আমাদের সংগীতেও সুরের, ছন্দের, তালের কোনো কিছুরই কমতি নেই। আর তোমরা যদি আমাদের কবিতা, আমাদের ধর্ম, আমাদের দর্শন নিয়ে চর্চা করতে তাহলে দেখতে পেতে যে তোমরা যা ভাবছ সেরকম কোনো বর্বর বা তস্কর কোনোটাই আমরা নই। আমরা ততটুকুই জানি, আমাদের কাছে ততটুকুই অজ্ঞেয়, যতটুকু তোমরা জানো বা তোমাদের কাছে যা অজ্ঞেয়। হয়তো অজ্ঞেয় সম্পর্কে আমাদের ধারণা তোমাদের চেয়ে আরেকটু গভীরতর।'

দ্বারকানাথের মর্মদাহ ম্যাক্সমুলার সম্ভবত শেষ বয়সে কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তা নইলে কথাগুলো এত সবিস্তারে তার স্মৃতিচারণায় তিনি উল্লেখ করার তাড়না অনুভব করবেন কেন? তার স্মৃতিচারণামূলক বইটি প্রকাশ পায় ১৮৯৯ সালে। এর পরের বছরই ম্যাক্সমুলারের মৃত্যু হয়। ততদিনে উপনিবেশের শাসন-শোষণ আরও বর্বরতর হয়েছে আফ্রিকায়, আর সূক্ষ্ণতর হয়েছে এশিয়ায় বা এই উপমহাদেশে। এক কথায়, ঔপনিবেশিক শোষণ-শাসন আরও নির্দয় হয়েছে বিশ্বব্যাপী। উপনিবেশ দখলের ও ভাগবাটোয়ারার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে ১৯০০ সালের পরবর্তী পৃথিবীতে। এ সময়েই রবীন্দ্রনাথ লিখবেন 'নৈবেদ্য' কাব্যগ্রন্থের প্রফেটিক পঙ্‌ক্তিমালা : 'শতাব্দীর সূর্য আজি রক্তমেঘ-মাঝে / অস্ত গেল, হিংসার উৎসবে আজি বাজে/ অস্ত্রে অস্ত্রে মরণের উন্মাদ রাগিণী/ ভয়ংকরী। দয়াহীন সভ্যতানাগিনী/ তুলেছে কুটিল ফণা চক্ষের নিমিষে/ গুপ্ত বিষদন্ত তার ভরি তীব্র বিষে।' পদ্মাপাড়ের নির্জন ভুবনে ঢুকে পড়েছে ঔপনিবেশিক রূঢ় বাস্তবতা।

দ্বারকানাথের মুখ দিয়ে যদিও বলানো হচ্ছে কিন্তু কথাগুলো ততদিনে ম্যাক্সমুলারেরও বলার কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং সেই কথাগুলো তিনি বলেছেন যুধ্যমান পাশ্চাত্যকে। শুধু নিজের জানাই জানা নয়, অপরের জানাও জানা। আধুনিকতার ঐতিহ্যের প্রতি সবারই অধিকার কি প্রাচ্যের, কি পাশ্চাত্যের। শুধু পাশ্চাত্য জ্ঞানের আহরণ করবে, আর আমরা কেবল তার ক্রমাগত ভোগ করে চিরস্থায়ীভাবে ঋণী থেকে যাব- এরকম অসম-সম্পর্কে দ্বারকানাথের আস্থা ছিল না। পাশ্চাত্যকে অস্বীকার যেমন করব না, তেমনি প্রাচ্যকেও অস্বীকৃতির অপমানে থাকতে দেব না। দ্বারকানাথের ক্ষোভমিশ্রিত তিরস্কার বাণী বহুকাল পর্যন্ত শেল হয়ে বেজেছে ম্যাক্সমুলারের বুকে। তিনি শেষাবধি স্বীকার করেছেন : ‘He was not far wrong'- দ্বারকানাথ সেদিন ১৮৪৪ সালের প্যারিসে বসে তাহলে খুব একটা ভুল বলেননি!

বিত্তবৈভবের মধ্যে দিন কাটালেও দ্বারকানাথের জীবনের শেষ বছরগুলো অর্থনৈতিকভাবে সুখের ছিল না। কিন্তু পতনের দিকটি তিনি যথাসম্ভব আড়ালেই রেখেছিলেন। শুধু ফ্রান্সের রাজা লুই ফিলিপ নন, ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গেও তার সখ্য হয়েছিল। ১৮৪২ সালে যখন তিনি নিজের জাহাজে করে লন্ডনে যান, ততদিনে ইংল্যান্ডের রানী হয়েছেন তরুণী ভিক্টোরিয়া। ১৮৩৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভিক্টোরিয়া রানী হিসেবে অভিষিক্ত হন। ইংল্যান্ডে পা রাখার পরপরই দ্বারকানাথের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী হন রানী। ২৩ বছর বয়সী সম্রাজ্ঞীর মনে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে আসা বিদেশি দ্বারকানাথকে নিয়ে কৌতূহলের অন্ত ছিল না। রানী তাকে তার ব্যক্তিগত প্রতিকৃতি সম্বলিত মোড়ক উপহার দেন। তবে দুর্ভাগ্য, ১৮৪৫ সালে দ্বারকানাথের ব্যবসায় এক দুর্বিপাক নেমে আসে। ১৮৪৭ সালের স্টক মার্কেটের বিপর্যয়ের ফলে তার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। এই ১৮৪৫-৪৭ পর্বে বিশ্বজোড়াই মন্দা নেমে এসেছিল। তখনও 'লিমিটেড কোম্পানি' আইন প্রবর্তিত হয়নি ইউরোপে বা ভারতবর্ষে। এর ফলে অনেক উদ্যোক্তা, শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী দেউলিয়াত্ব বরণ করেন। হয়তো এই অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাবেই দ্বারকানাথ লন্ডনে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং ১৮৪৬ সালে তার মৃত্যু হয়। ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে দ্বারকানাথ তারা বন্ধু রাজা রামমোহন রায়ের স্মরণে ব্রিস্টল শহরে তার কবরের ওপরে একটি সমাধি নির্মাণ করেছিলেন। তবে তিনি নিজেও যে ইংল্যান্ডের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন- এ কথা হয়তো কখনও ভাবেননি। আমি যখন ২০১২ সালে লন্ডনের 'কেনসাল গ্রিন' কবরস্থানে দ্বারকানাথের সমাধি দেখতে যাই, তখন বারবার এ কথা মনে হয়েছিল আমাদের দেশের আধুনিকতার দুই পথিকৃৎ বিদেশের মাটির নির্জনেই থেকে গেলেন।

দ্বারকানাথ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। ভারতবর্ষে আধুনিক কয়লা খনির ব্যবসা তার হাত দিয়েই শুরু; আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবসায় তিনি সেকালের বাঙালি-ভারতীয়দের মধ্যে অগ্রগণ্য; দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে বাষ্পচালিত স্টিমার ও আন্তঃমহাদেশীয় জাহাজ খাতেও তার স্থান সবার ওপরে। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও রাজনীতির ক্ষেত্রে তার ছিল স্বচ্ছন্দ পদচারণা। সংগীতে তার অনন্যসাধারণ দখল ছিল। ভারতীয় রাগ-সংগীতের বিষয়ে ম্যাক্সমুলারের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এমনও ইঙ্গিত করেছিলেন যে, গণিতের ক্ষেত্রে শূন্যের অবদান যেমন যুগান্তকারী, তেমনি 'সংগীত-রত্নাকর'-এর মতো 'ট্রেজারি অব সিম্ম্ফোনি' প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের ইতিহাসেই এক অতি বিরল সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের সংগীতকলা হয়তো প্রাচ্যের সংগীতকলার কাছেই ঋণী। দ্বারকানাথের যুক্তি আমতা আমতা করে মেনে নিচ্ছেন বা অনেকটাই স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন জার্মানির এই তরুণ সংস্কৃতজ্ঞ। ম্যাক্সমুলার বলছেন, পাশ্চাত্যকে এ রকম ঋণ স্বীকার করতে হতেই পারে একদিন। সংগীতের ক্ষেত্রে এ রকম হওয়াটাও আদৌ বিচিত্র নয় : ‘In itself such a borrowing has nothing incredible in it, for we know that our figures, not excluding the naught, traveled on the same road, from the Indian to the Persians, the Arabs, the Spaniards, and the Italians’,  এবং এটুকু বলে তার দ্বিধার জায়গাটুকু স্পষ্ট করছেন : "ভারতীয় সংগীতের 'সা রে গা মা পা ধা নি'- এই সাতটি 'নোট' যে কালক্রমে ইতালীয় সংগীতে এসে 'দো রে মি ফা সল লা সি' ধারার সাতটি 'নোটে' পর্যবসিত হয়েছে, তার জন্য আরও ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ দিতে হবে।" যেন দ্বারকানাথকে খণ্ডন করার জন্যই বলছেন : 'শূন্যের আবিস্কারের জন্য ওই মহান দেশটির প্রতি গণিতবিদ মাত্রেরই অপার কৃতজ্ঞতা রয়ে গেছে। শূন্যের এই আবিস্কার গণিতশাস্ত্রের সবচেয়ে বড় আবিস্কারের একটি। পাশ্চাত্যের প্রতি এটা প্রাচ্যের দান, সন্দেহ নেই। তবে বিঠোফেনের সিম্ম্ফোনির পেছনে ভারতীয় [সংগীত-রত্নাকরের] দান রয়েছে কি-না তার উত্তরের জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।'

এই তর্কালাপের সত্য-মিথ্যা, তথ্য বা তত্ত্ব আলোচনা করা আমার সাধ্যের বাইরে। কিন্তু কথাগুলো উঠেছে দ্বারকানাথের সঙ্গে ম্যাক্সমুলারের সংগীত নিয়ে বাহাসের সূত্রে, সেটাই আরেকবার মনে করিয়ে দেওয়া। ম্যাক্সমুলার যখন মারা যান, তখন তার কাছে তরুণ রবীন্দ্রনাথ প্রায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তিত্ব। তার স্মৃতিচারণায় রবীন্দ্রনাথের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ তার মৃত্যুর ১৩ বছর পরেই রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাবেন। দ্বারকানাথের সংগীত-প্রতিভা তার কনিষ্ঠতম নাতির মধ্যে বহুগুণে লালিত হয়ে বিকশিত হবে। ম্যাক্সমুলারের অবশ্য সেই পরিচয় পাওয়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু দ্বারকানাথ-ম্যাক্সমুলারের আলাপের অংশবিশেষ শোনার পর রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর উত্থান আর অতটা বিস্ময়কর ঠেকে না আমাদের কাছে।

তবে একটি কথা না বললেই নয়। যে প্রসঙ্গ আগেই তোলা উচিত ছিল সম্ভবত, সেই 'রুমের ভেতরের বড় হাতিটার' [বিগ এলিফ্যান্ট ইন দ্য রুম] কথাই বেমালুম ভুলে ছিলাম। দেবেন্দ্রনাথ আত্মজীবনীতে তার বাবা দ্বারকানাথের দুই-তিনবার উল্লেখ করেছেন। সেই বর্ণনা থেকে পিতার প্রতি উচ্ছ্বাসের পরিচয় পাওয়া যায় না; তবে নিষ্ঠাবান বড় ছেলের দায়িত্ববোধের একটা ছবি ফুটে ওঠে। এর বেশি কিছু নয়। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, 'আমি পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র। কোন কার্য্যোপলক্ষে নিমন্ত্রণ করিবার জন্য আমাকেই বাড়ী বাড়ী যাইতে হইত।' অথবা অন্যত্র বলেছেন, 'শৈশবকাল অবধি আমার রামমোহন রায়ের সহিত সংশ্রব। আমি তাহার স্কুলে পড়িতাম। তখন আরও ভাল স্কুল ছিল... কিন্তু আমার পিতা রামমোহন রায়ের অনুরোধে আমাকে ঐ স্কুলে দেন।' এসব বিবরণে কচিৎ-কদাচিৎ দ্বারকানাথের প্রসঙ্গ চলে এলেও তার সঙ্গে সম্পর্কের অতিরিক্ত কোনো ঘটনা, সংলাপ বা মানবিক আদান-প্রদানের মুহূর্ত দেবেন্দ্রনাথের আত্মজীবনীতে নেই। রামমোহন রায়কে নিয়ে একটি গোটা পরিচ্ছেদ লেখা হয়েছে। তার স্বর্গত দিদিমা অলকা সুন্দরীর সঙ্গে মধুর সম্পর্কের বিবরণী তার আত্মজীবনীর শুরু; তার আধ্যাত্মিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে বিভিন্ন ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতের চমৎকার উল্লেখ রয়েছে; কিন্তু কোথাও দ্বারকানাথের সশরীরী উপস্থিতি নেই। যেন তার কোনো পারিবারিক জীবন ছিল না, যেন পুরোটাই তিনি ছিলেন 'বাইরের জগতের মানুষ'।

অথচ বহির্বিশ্ব তাকে কী চোখে দেখত তার সামান্য পরিচয় আমি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা 'দানবীর', 'দয়ার সাগর' ইত্যাদি অভিধা প্রয়োগ করি হাজী মুহম্মদ মহসীন বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কে। কিন্তু অন্য সব গুণের বা অর্জনের কথা বাদ দিলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা বা দানের প্রশ্নে দ্বারকানাথের তুলনা সেকালে (এবং একালেও) খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। দ্বারকানাথ অপব্যয়ী ছিলেন না- উদ্যোক্তা ছিলেন। কিন্তু উদ্যোক্তা হয়েও সামাজিক দায়বদ্ধতা সারাজীবন নীরবেই পালন করে এসেছেন। এ নিয়ে ঢাকঢোল পেটানোর কোনো ইচ্ছে ছিল না তার। ১৮৪২ সালে দ্বারকানাথের বিলাতযাত্রার সময়ে (যেবার তিনি তরুণী সম্রাজ্ঞী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন) তার দানশীলতার প্রশংসা করে 'ফ্রেন্ডস অব ইন্ডিয়া' পত্রিকাটি যা লিখেছিল, তা আমাদের সবার জানা প্রয়োজন। পত্রিকাটি ব্রিটিশ শাসকদের স্বার্থরক্ষা করত এবং ভারতীয়দের প্রতি সাধারণভাবে বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ ও প্রচার করত। এহেন 'ফ্রেন্ডস অব ইন্ডিয়া' যা লিখেছিল, তাতে করে দ্বারকানাথের একটি অনালোচিত দিক ফুটে ওঠে। পুরো উদ্ৃব্দতিটি আমি তুলে ধরতে চাই :

'To describe Dwarkanath’s public charities would be to enumerate every charitable institutions in Calcutta... Nor must we forget that he has taken lead in every institution, those to Christian Missionaries perhaps excepted, which has been established with a view to the improvement of the country; that he has been foremost in promoting education, more especially is fostering the Medical College, by the bestowal of prizes on the most successful students. He has not only therefore given largely but wisely.’ শেষের লাইনটি বিশেষভাবে লক্ষ্য করার মতো।

কলকাতার পাবলিক লাইব্রেরি- যা এখন 'ন্যাশনাল লাইব্রেরি' রূপে পরিচিত- প্রতিষ্ঠায় পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন দ্বারকানাথ। ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজের দু'জন ছাত্রকে প্রতি বছর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষায় পাঠানো ও পড়ানোর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার তিনি বহন করেন। ডিস্ট্রিক্ট চ্যারিটেবল সোসাইটিকে ১৮৩৮ সালের মূল্যে এক লাখ টাকা [দশ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং] দান করেন তিনি; এর কাজ ছিল দেশি-বিদেশি নির্বিশেষে সব অন্ধ-আঁতুড়দের সাহায্য করা।

[ক্রমশ]