কালের খেয়া

কালের খেয়া

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

পরিবর্তনের প্রবল স্রষ্টা

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২০     আপডেট: ১৯ জুন ২০২০

ওবায়েদ আকাশ

পরিবর্তনের প্রবল স্রষ্টা

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর [৯ জানুয়ারি ১৯৩৬-২৩ মার্চ ২০২০] ছবি ::সাজ্জাদ হোসেন

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের মহাপ্রয়াণ মানে বয়সে প্রবীণ অথচ ক্রম উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের দৃশ্যান্তর। আমাদের শিল্প-সাহিত্যের ভরাট ঘনত্বের ভেতর থেকে তাঁর এই অনিবার্য প্রস্থান এক প্রবল ঝাঁকুনিতে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল সময়কে। দীর্ঘ টানা ছয় দশকের সাহিত্যঐশ্বর্যের এক দাপুটে মাঝির দাড় টানার অবকাশজুড়ে আমাদের অনেক হিসেব মেলাবার থেকে গেল। বহুমাত্রিক কিংবা সব্যসাচী এই প্রবল স্রষ্টা আমাদের সাহিত্য-শিল্প ও রাজনৈতিক নির্ঘণ্টের এক নিবিষ্টতর পরিব্রাজকের ভূমিকায় সদা অগ্রসর ছিলেন। আলো ঢেলেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, চিত্রসমালোচনা, রাজনৈতিক বিশ্নেষণ ও সামাজিক গবেষণায়। এতগুলো শাখার কোনোটিতেই তাঁকে দ্বিতীয় ভাবতে পারিনি। সময়কে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য স্বাতন্ত্র্যের সাবলীলতায় তিনি ছিলেন অনন্য। এমন নিভৃত, বিনয়ী অথচ প্রজ্ঞাভারে-শিল্পভারে নুয়ে পড়া বৃক্ষ জীবনে খুব কমই দেখেছি। তাই মাঝে মাঝে জীবনের প্রায় দীর্ঘ একটি সময় তাঁর সান্নিধ্য পেয়ে অনেক সংকীর্ণতা ও অন্ধকার দূর করবার সুবাতাস পেয়েছি, যদিও তাকে কতটা কাজে লাগাতে পেরেছি তা বিবেচ্য বিষয়।

এতটা আধুনিক, এতটা কনটেম্পোরারি, কিংবা উত্তরাধুনিক চিন্তক ও শিল্পস্রষ্টা আমাদের সময়ে বেঁচেছিলেন; এ সৌভাগ্য শুধু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নয়, আমাদের রাজনীতি ও আমাদের 'সোসাইটি'র। মানুষের চিন্তাকে, বিশেষ করে কোনো শিল্পী কিংবা কবি কিংবা রাজনৈতিক ভাষ্যকার কিংবা কোনো বুদ্ধিজীবীর চিন্তাকে কীভাবে নবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও তার জনগণের সমসাময়িক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্বের স্থানে নিয়ে আসা যায়, কিংবা চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অদ্বিতীয় করে গড়ে তোলা সম্ভব- সে ব্যাখ্যা তাঁর বিবিধ রচনায় মূর্তমান। স্থবির চিন্তা কিংবা গতিহীন অদূরদর্শী পঠনপাঠন যে ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্র কিংবা সাহিত্যের কোনো কাজে আসে না, বোধ করি সে নিরিখ থেকেই তিনি নিজেকে সর্বভুক নিষ্ঠ-পাঠকে রূপান্তরিত করতে পেরেছিলেন। এবং সেই আলোর বিচ্ছুরণে নিজেকে যেমন আলোকিত করেছিলেন, তেমনি আহ্বান করেছিলেন বাঙালি ও বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি কিংবা চিন্তাজগৎকে। যে কোনো স্থূলতার বিপরীতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে লিখেছেন কবিতা, তাই তাঁর কবিতা সমসাময়িক হয়েও সময়ের কাব্যভাষাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ছুড়ে দিয়েছে। পরবর্তনকে মেনে নেবার আহ্বান করেছেন পাঠক সমাজের প্রতি। আমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কবিতার এই পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, 'ভাষা পরিবর্তিত হয় বলেই কবিতাও পরিবর্তিত হয়। আমি যেভাবে লেখা শুরু করেছি নিশ্চয়ই আপনারা সেভাবে লেখা শুরু করেননি। এ বিষয়গুলোকে মনে রাখতে হবে। একটা ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সবাইকে যেতে হয়। ভাষাকে যেতে হয়, ভাষা নিয়ে কাজ করেন লেখক, তাদেরও যেতে হয়।' শুধুমাত্র কবিতার সময়তিক্রমী শনাক্তিতে তাঁকে আলাদা করবার ব্যাপার নয়, তাঁকে আলাদা কিংবা ব্যতিক্রমী ভাবতে হয়েছে তাঁর রচনার প্রতিটি শাখা ধরে। যতবার তাঁর সান্নিধ্যে যাবার সুযোগ হয়েছে, তাঁকে আশাবাদী হতে দেখেছি। স্বাধীনতা-উত্তর গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে বর্তমান একুশ শতকের এই প্রথম দুই দশক পর্যন্ত বাংলাদেশ বড় ধরনের কয়েকটি রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, প্রতিটি সংকটেই তিনি আমাদের আশান্বিত করেছেন, প্রতিটি অগ্নিমুহূর্তে তিনি কলম হাতে নিয়েছেন। অপশক্তির পরাজয়ে, শত্রুর সঙ্গে মুখোমুখি হবার কৃতিত্বে তাঁকে বাঙালির মুকুটে এঁকে রাখবার মতো অবদান তিনি রেখেছেন।

অন্ধকারের ভেতর দিয়ে যত দ্রুত আলোর শিখারা বেরিয়ে আসতে পারে সে জন্য তিনি কাটিয়েছেন নিদ্রাহীন। তাঁর সঙ্গী হতে আহ্বান করে আমাদেরও ঘুম ভাঙিয়েছেন। কাছে ডেকে পরামর্শ দিয়েছেন। লিখেছেন দুই হাতে। লেখা তৈরি হওয়ামাত্র টেলিফোন করে জানিয়েছেন।

এ কথা বিশ্বাস করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে, তাঁর সান্নিধ্য আমার মতো অনেক কবিতানিষ্ঠ ও সাহিত্যনিষ্ঠ যুবক কিংবা ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কবিতার নতুন নতুন চিত্রকল্প, সাম্প্রতিকতম ভাষাবিন্যাস, চিত্র সমালোচনার অভিনিবেশ, গদ্যের কুশলতা যারপরনাই সমৃদ্ধ করেছে। দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সাময়িকীকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। সংবাদে আমার এই ১৬ বছরের সম্পাদনার জীবনে খুব কম বিশেষ সংখ্যাই আছে যেখানে তাঁর লেখা ছিল না। আবার আমার সম্পাদিত সাহিত্যের লিটল ম্যাগাজিন 'শালুক'-এরও তিনি নিয়মিত লেখক ছিলেন। ভিন্ন চিন্তা কিংবা প্রথাবিরোধিতার স্পর্ধা তিনি তাঁর রচনায় লালন করতেন। সত্য বলতে কখনও কুণ্ঠিত হতেন না। অকারণ স্তুতি ছিল তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। ইউলিসিস কিংবা ওয়ার অ্যান্ড পিস কিংবা মা কিংবা আউট সাইডার... - বিশ্বসাহিত্যের হেন কোনো ক্ল্যাসিক সাহিত্য নেই, যার ওপর তিনি মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কোনো লেখা তৈরি করে দিতে পারতেন না। তাঁর পাঠ ও জাদুস্পর্শী লেখার এই ক্ষমতার শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবার নয়। প্রকৃত বাস্তবতা হলো, নিত্য পরিবর্তনের উৎসমুখে সরব উপস্থিত হয়ে তিনি সর্বদা নিজেকে বদলে নিতে পারতেন, পাঠককে উপহার দিতে পারতেন কনটেম্পোরারি সাহিত্যের অগ্রসর পাঠ। একই সঙ্গে রচনার সহজাত ক্ষমতা ছিল উপন্যাস, গল্প, চিত্র সমালোচনা, রাজনীতির বিশ্নেষণ ও শিক্ষাবিষয়ক চিন্তানির্যাস। মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, মানিক কিংবা জয়নুল, কামরুল, শাহাবুদ্দিন কেউই বাদ পড়েন না তাঁর দৃষ্টির প্রাখর্য এড়িয়ে।

নিজেকে ফাঁকি দিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের অন্তরালে কেউ তাঁকে লুকাতে দেখেছে, এমন নজির নেই। তাই ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তিনি স্বদেশের বিশুদ্ধতা আবিস্কার করতে প্রত্যয়ী নানামাত্রিক যুক্তিপ্রখর রচনায়।

দেশপ্রেম, স্বাদেশিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন তাঁকে প্রবল তাড়নায় দাঁড় করিয়েছিল সোচ্চার অবস্থানে। তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে দেশের প্রতি, বাঙালি জাতির প্রতি সদা কমিটেড থেকে রচনা করেছেন এ সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি। আমাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রামের এক অগ্রপ্রদর্শক তিনি। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারতেন সতত সংস্কৃতিচর্চার অন্ধকারগুলো কীভাবে অপসারণ করে জাতির মুকুটে উজ্জ্বলতা চিরজাজ্বল্য রূপ পেতে পারে।

সৃজনশীল লেখালেখিতে তাঁর ধ্রুপদি উপস্থিতি তাঁর সময় পেরিয়ে ভবিষ্যতেরও সুদূরতর যাত্রাকে নিস্কণ্টক করতে ক্ষমতাবান, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সন্দেহ নেই তাঁর অন্যান্য রচনার এমনকি রাজনৈতিক কলামেরও তীক্ষষ্টধার যুক্তি এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বকীয়তা অর্জন করে এখনও নতুন নতুন দিক উন্মোচনে প্রয়াসী রয়েছে।

গত ষাট বছরের রাজনীতি যে অঘটনঘটনপটীয়সীতায় কতবার কতভাবে উত্তাল হয়েছে, দিক বদলেছে, বাঙালিকে স্বাধীনতা দিয়েছে আবার গণতন্ত্রের শিক্ষায় বারবার ব্যর্থতা ও পরাজয়ে মুখ লুকিয়েছে, তা তিনি তাঁর সদর্থক ভাবনায় তুলে ধরেছেন বিবিধ প্রবন্ধগ্রন্থে। রাজনীতিতে ইতিহাস, প্রজাতন্ত্র, যুদ্ধাপরাধ, গ্রামাঞ্চল তাঁর লেখালেখির অন্যতম এক অনুষঙ্গ। এসব রচনার গভীরে লুকিয়ে থাকা সত্যে একটি জাতির মানস নির্মাণ সহজ ও সাবলীল হয়ে বিবিধ নন্দন ভাবনায় বহুদূর বিস্তৃত হতে থাকে। রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কিংবা সুশীল সমাজের দায়িত্ববোধকে এক নতুন আলোয় অনিবার্য হতে শিক্ষা দেন। শিক্ষিত করে তোলেন একটি জাতিকে কী করে ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধ থেকে নতুন ইতিহাস নির্মাণে উদ্যমী হতে হয় সে বিষয়ে।

তাঁর সৃজনশীল যে কোনো রচনাও শুধুমাত্র নান্দনিকতা ও শিল্পের জন্য শিল্প নির্মাণে যুক্তিগ্রাহ্য নয়। তাঁর কবিতা-গল্প-উপন্যাস কোনো বিশেষ ভাব, ব্যক্তি বা কোনো একক ভূখণ্ড নয়। তা যেমন বৈশ্বিক তেমনি বহুমাত্রিক তার আবেদন-বিশ্নেষণ।

বিশ্বসাহিত্যের পাঠাভিজ্ঞতা বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরকে আজ একজন বিশ্বমানের লেখক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তাই তাঁর রচনা অন্যদের থেকে যথার্থই পৃথক ও আবেদনময়ী, উপভোগ্য অন্যতর উপস্থাপনে।

কাল গণনায় গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে তিনি লেখালেখিতে একদিন মনের অজান্তে নিজেকে সংযুক্ত করে ফেলেন। মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তাঁর লেখা সর্বকনিষ্ঠ লেখক হিসেবে মুদ্রিত হয় একটি কাব্য সংকলনে। সেই সংকলনের লেখক ছিলেন- শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ প্রমুখ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প-উপন্যাস, সম্পাদনা, অনুবাদ মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ আরও কিছু সম্মাননা। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে।

আগেই বলেছি, শুরু থেকেই লেখালেখিতে এক নতুন ধারার আবিস্কার করেন তিনি। ভাষার নতুনত্ব অন্বেষণ তাঁর আজন্মের ক্ষুধা। প্রতিনিয়ত তিনি তাঁর বিষয়ের নতুনত্বের মতো ভাষার নতুনত্বে অগ্রসর থাকেন। তাঁর উপস্থাপনের নতুনত্ব আজ সর্বস্বীকৃত।

১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার বই 'আমাদের মুখ'। কবি শামসুর রাহমান তাঁর এই কাব্যগ্রন্থ প্রসঙ্গে বলেন, 'তাঁর কবিতা সকলের কবিতা থেকে আলাদা এবং তাঁর কবিতায় তাঁর নিজের উপস্থিতি বিদ্যমান।' দীর্ঘকাল ধরে সাহিত্যে তাঁর আবিস্কৃত পথই তিনি অতিক্রম করে চলেছেন।

কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর রাজনৈতিক সচেতনতা, সমাজ সচেতনতা, স্বাদেশিকতা, মুক্তিযুদ্ধের মতো বিষয়কে তাঁর কবিতায় সর্বদা প্রাধান্য দিয়েছেন। তারও চেয়ে বেশি তিনি যে বিষয়টিকে তাঁর কবিতার মুখ্যঅলংকার করে রাখেন সেটি হচ্ছে প্রেম। তিনি এখানে আরও বেশি ব্যতিক্রম যে, তিনি প্রেমের কথা বলতে বলতে রাজনীতির কথা বলেন, নির্যাতনের কথা বলেন, হত্যার কথা বলেন, শোষণের কথা বলেন। এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে তাঁর প্রিয় মানুষটির প্রতি তাঁর নির্ভরতা, যাকে তিনি ভালোবেসে সব কথা বলেন। আবার নিরেট প্রেমের কথা, শারীরিক সম্পর্কের কথাও তিনি তার কাছেই ব্যক্ত করেন। বলতে বলতে তিনি পাঠককে বোঝান আসলে ভালোবাসা কী। আজকাল যেখানে ভালোবাসার কবিতা তেমন একটা লিখিত হচ্ছে না, ভালোবাসার আয়ু ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে তখন তিনি প্রবল আগ্রহে রচনা করেন প্রেমের কবিতা। ভালোবাসার কবিতার ওপর চাপিয়ে দেন তাঁর বিবিধ চিন্তাসংকলন। ভালোবাসার ঘাড়ে চাপিয়ে দেন বিশ্ব। তিনি মূলত ভালোবাসার ওপর ভর করে ব্যাপৃত হন অসীমের অন্বেষায়। তাই ভালোবাসার বিরোধী যারা, তিনি তাদের পক্ষের মানুষ নন। দেশপ্রেমের বিরোধী যারা তিনি তাদের ঘৃণা করেন, পরিত্যাজ্য জ্ঞান করেন।

তিনি রবীন্দ্রনাথকে যেমন অবলম্বন করেন, তেমনি বিস্তৃত হন নজরুলে, জীবনানন্দে। তিনি বিমোহিত পিট সিগারের গানে। স্বদেশ ছাড়িয়ে অন্য পরিমণ্ডলে তাঁর চেতনার আলোকমালা সমান প্রজ্ঞায় কৌতূহলী। তিনি এলিয়ট, ফ্রয়েড, পাউন্ড কিংবা সক্রেটিস, প্লেটো, সাফো থেকে ফুকো-ফ্রস্টের টালমাটাল পৃথিবীতে প্রবল দাপটে ভারসাম্য ধরে রেখেছিলেন। আজ তাঁর ভেতর দিয়ে আমরা বিশ্বনাগরিক হবার সাহস অর্জন করি।