উপন্যাস কিংবা ছোটগল্প যে কোনো আঙ্গিকে বাংলা ভাষার অন্যতম সেরা লেখকের নাম কমলকুমার মজুমদার। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নিরন্তর নিরীক্ষার জন্য তিনি বিখ্যাত। একই সঙ্গে আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন।

তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- অন্তর্জলী যাত্রা, গোলাপ সুন্দরী, অনিলা স্মরণে, শ্যাম-নৌকা, সুহাসিনীর পমেটম, পিঞ্জরে বসিয়া শুক এবং খেলার প্রতিভা। ছোটগল্প গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নিম অন্নপূর্ণা, গল্প সংগ্রহ।

'অন্তর্জলী যাত্রা' তার প্রথম গ্রন্থ যেটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। শুধু তাই নয়, 'অন্তর্জলী যাত্রা'ই কমলকুমারের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস। একটি অল্প পরিচিত পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। সেটির বেশকিছু কপি করে কমলকুমার নিজেই নবীন লেখকদের কাছে বিলি করেছিলেন বলে জানা যায়।

তথাকথিত জনপ্রিয়তার তোয়াক্কা না করে কমলকুমার তার রচনার স্বকীয়তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে অমরত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। অন্তর্জলী যাত্রা কমলকুমারের যুগপৎ প্রথাবিরোধী ও সাড়া জাগানো উপন্যাস। উপন্যাসটির ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, 'এই গ্রন্থের ভাববিগ্রহ রামকৃষ্ণের, ইহার কাব্যবিগ্রহ রামপ্রসাদের। এই গল্প ঈশ্বর দর্শন যাত্রার গল্প, তবু এমত মনে করার কোনো কারণ নেই যে, মানুষ এখানে খাটো হয়ে গেছে। প্রকৃতপ্রস্তাবে এটি মানুষের জীবনেরই এক অসামান্য রূপমণ্ডিত গল্প।

সতীদাহ প্রথার করুণ অমানবিকতার কথা ইতিহাসের দিকে তাকালে বিশদ জানতে পারা যায়। ভারতীয় ইতিহাসের এই কলঙ্কজনক অধ্যায়টি নিয়েই কমলকুমার মজুমদার লিখেছিলেন উপন্যাসটি। যেখানে উঠে এসেছে, হিন্দুদের প্রথা, মানুষের মনের গহনে বয়ে চলা নানা স্রোত। যা, কমলকুমারের কলমে উঠে এসেছে অন্যভাবে। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিত স্ত্রীকেও স্বামীর লাশের সঙ্গে পুড়িয়ে মারার মতো বর্বরতম সামাজিকতার যূপকাষ্ঠে বলি হওয়ার কথাই লেখক এখানে তুলে ধরেছেন।

যশোবতীকে নিয়ে অন্ধশাস্ত্র আর সামাজিক কুসংস্কারের অজুহাতে জ্যোতিষী অনন্তহরি, কুলপুরোহিত কৃষ্ণপ্রাণ আর তারই জন্মদাতা লক্ষ্মীনারায়ণ যে অমানবিক খেলা খেলেছে সেই লোমহর্ষক বাস্তবতার চিত্র লেখক অন্তর্জলী যাত্রাতে লিখে গেছেন।

সতীদাহ প্রথাকে টিকিয়ে রাখার জন্য গোঁড়া সমাজপতিদের নোংরামো আর সীমাহীন স্বার্থপরতার কথা সকলেরই জানা। কিন্তু সেই সতীদাহ নিয়ে এরকম অন্ধকারাচ্ছন্ন, ভয়ংকরতম ভাষাসৌকর্য গড়ে উঠতে পারে- কমলকুমার মজুমদার তার অন্তর্জলী যাত্রায় সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একইসঙ্গে তখনকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন অসাধারণ শব্দগাঁথুনি দিয়ে।

উপন্যাসটির সময়কাল মাত্র কয়েক দিনের, চরিত্রসংখ্যাও হাতেগোনা। কাহিনিপ্রবাহ নিতান্তই সংক্ষিপ্ত। খুব ছোট একটা উপন্যাস হলেও অনুধাবনের সময় লাগে অনেকটা।

একটি সতীদাহকে কেন্দ্র করে শ্মশান ও শ্মশানে উপস্থিত চরিত্র যশোবতী, সীতারাম, লক্ষ্মীনারায়ণ, অনন্তহরি, কৃষ্ণপ্রাণ, বৈজুনাথের ভেতর দিয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর বর্বরতার বাস্তব উপস্থাপন রয়েছে বইটিতে। গ্রন্থটিতে লেখক অন্তর্জলী তথা মৃত্যুযাত্রা নিয়ে গঙ্গাতীরবর্তী শ্মশানঘাটে যে অন্ধকারময়, ভয়ংকরতর ও অবিশ্বাস্যপ্রায় ভাষাস্থাপত্য নির্মাণ করেছেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর। কমলকুমার মজুমদারের আটটি উপন্যাসের মধ্যে সবচেয়ে সার্থক উপন্যাস হিসেবে মনে করা হয় এই 'অন্তর্জলী যাত্রা'কে।

প্রশ্ন

১. 'অন্তর্জলী যাত্রা' কোন প্রকাশনী থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়?
২. শ্মশানঘাট থেকে যশোবতীকে পালাতে বলেছিল কে?
৩. যশোবতীর আবার বিয়ে হয় কার সঙ্গে?

কুইজ-৩ এর উত্তর

১. কাৎলাহার বিল
২. বগুড়া
৩. টেলর

কুইজ-৩ এর জয়ী

নাঈম ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
সানজিদা আক্তার, চকবাজার, চট্টগ্রাম
আফরিদা আলমা আদিতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

নিয়ম

পাঠক কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ২ মার্চ মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।

মন্তব্য করুন