আপনি কেন লেখেন?- কবি/লেখকদের জন্য এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন। লেখার শিরোনাম যদি এমন হয়- কী লিখছি কেন লিখছি তো প্রশ্নটি একই রকম থেকে যায়। প্রশ্নটি সাধারণ হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই আমরা অসাধারণ ব্যাখ্যা পাই। পাঠকও জানতে চান তার প্রিয় কিংবা পরিচিত লেখক কেন লেখেন তার বিস্তারিত বিবরণ। নানা মাপের কবি-লেখকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাদের লেখালেখির ইতিহাস। 'অরণি' পত্রিকার ছয়টি সংখ্যা থেকে 'কেন লিখি' শিরোনামে তাঁরা যা লিখেছেন তারই একটি সংকলন। এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল ৭২ জন কবি-লেখককে। তাঁরা তাঁদের লেখালেখির পেছনের ঘটনাকে অকপটে তুলে ধরেছেন।

কবি সম্পাদক মাহমুদ কামাল ও মোহাম্মদ আবদুল মাননান সম্পাদিত 'কেন লিখি' এমন তিনশ বিরানব্বই পৃষ্ঠার একটি বই অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ এ আত্মপ্রকাশ করেছে। এখানে কবি-লেখকরা নির্দি্বধায় তাঁদের লেখালেখির শুরু থেকে অদ্যাবধি লেখালেখির আদ্যপান্ত সবিস্তারে বলেছেন। প্রত্যেকেই লিখতে আসার শুরুটা বিচিত্র অভিজ্ঞতায় ব্যক্ত করেছেন। কেউ লেখক হওয়ার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে শুরু করেছেন, এমনটা নয়। এই লিখতে লিখতে, না লিখে আর পারি না, লিখলেই ভালো থাকি, সমাজের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে লিখি- গোছের কথকতাই বেশি উঠে এসেছে তাদের ব্যক্তিগত অভিমতের মধ্য দিয়ে।

কেউ কিশোর বয়সে স্কুলের ম্যাগাজিন, দেয়ালিকায় হাতে খড়ি নিয়েছেন। কেউ-বা কিশোরীর পায়ের ঘুঙুরের ছন্দ ধরতে গিয়ে তাকে ছন্দ শিখতে হয়েছে। কেউ ছন্দ না শিখেই ছন্দহীন যাত্রা শুরু করে পরে ছন্দ শিখে নিয়েছেন। আবার অনেকেই পরিবারের বড়দের বই পড়তে দেখে নিজেও বই পড়ে ভেবেছেন, এমন করে তো আমিও লিখতে পারি। সেই থেকে শুরু করে আজ তাঁদের বেশিরভাগই দেশবরেণ্য কবি-লেখক হয়েছেন। আমরা তাঁদের বিচিত্র অনুভব অনুভূতির সংস্পর্শে আসব যদি এ গ্রন্থটি পাঠ করি।

এখানে লেখা স্থান পেয়েছে বয়সের ক্রম অনুসারে। লিখেছেন- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হোসেন উদ্দিন হোসেন, বাদল মেহেদী, মতিন বৈরাগী, মাকিদ হায়দার, আনোয়ার উল আলম, আরেফিন বাদল, অসীম সাহা, মুহম্মদ নূরুল হুদা, আলী ইমাম, শিহাব সরকার, আল মাহমুদ, রশীদ হায়দার, জুলফিকার মতিন, সাযযাদ কাদির, মাহবুব সাদিক, সৈয়দ আহমদ আলী আজিজ, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, খায়রুল আলম সবুজ, চপল বাশার, নূরুল করিম নাসিম, মুজিবুল হক কবীর, নাসরীন নঈম, বিমল গুহ, নাসির আহমেদ, সুজন হাজারী, নিতাই সেন, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, ইমদাদুল হক মিলন, আলম তালুকদার, গোলাম কিবরিয়া পিনু, সোহরাব পাশা, মনজু রহমান, কামাল চৌধুরী, রফিকুর রশীদ, রোকেয়া ইসলাম, আনোয়ারা আজাদ, হাফিজ রশীদ খান, মোহাম্মদ আবদুল মাননান, আনোয়ার কামাল, শফিক ইমতিয়াজ, আমিনুল ইসলাম, জাকির তালুকদার, রাশেদ রহমান, মনি হায়দার, খান মাহবুব, সায়ীদ আবু বকর, ফারুক মাহমুদ, মাহবুব বারী, আব্দুল মান্নান সরকার, জাফরুল আহসান, তাহমিনা কোরাইশী, আলমগীর রেজা চৌধুরী, হাসান হাফিজ, জুলফিকার হায়দার, ফরিদ আহমদ দুলাল, মোহন রায়হান, আবু মাসুম, মাহমুদ কামাল, আসলাম সানী, আহমদ আজিজ, মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, দীলতাজ রহমান, রহিমা আখতার কল্পনা, কারুজ্জামান জাহাঙ্গীর, স্বপন মোহাম্মদ কামাল, শামীম আরা, তপন বাগচী, মাসুদুল হক, শিবলী মোকতাদির, জাকির আবু জাফর ও রাকিবুল রকি।

উৎসর্গ করা হয়েছে কবি আল মাহমুদ, কবি সাযযাদ কাদির ও কবি কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে। যারা অরণি পত্রিকায় 'কেন লিখি' শিরোনামে লিখেছিলেন। আজ তাঁরা না ফেরার দেশে চলে গেছেন। এখানে অনেক লেখকের মর্মবেদনার কাতর অনুভূতি চোখ ভিজিয়ে দেবে। একজন লেখক কীভাবে লেখক হয়েছেন তাও জানা যাবে। লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে কবি মাহমুদ কামাল সম্পাদিক 'অরণি' পত্রিকায় ছাপা হলেও একমলাটে পাওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। উন্নতমানের বাঁধাই, মানসম্পন্ন প্রচ্ছদ ও ঝকঝকে ছাপা সুসম্পাদিত গ্রন্থটি সংগ্রহে রাখার মতো। এর ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি।

মন্তব্য করুন