নাম অভয়, অথচ তার চোখেমুখে ভয় যত রকম হয়, তার সবটাই একদম সেঁটে বসে আছে। সে সাদাসিধে লোক, কোনোরকম ঝুটঝামেলায় যায় না, বরং বিপত্তি দেখলেই আপসে অভয় বুজিয়ে ফেলে চোখ। ভাবখানা এমন- যেন অন্ধ হলেই বিপদ কেটে যাবে, জীবনটা তার শরতের সোনা রোদের মতো ঝিকমিকিয়ে উঠবে।

অভয়ের বয়স খুব বেশি নয়, এই ধরুন বাইশ কি চব্বিশ, অথচ নিন্দুকেরা বলে তার আর একা থাকার বয়স নেই। এবার দেখেশুনে একটা মেয়ে অভয়কে জোটাতেই হবে। কিন্তু আপনারাই বলুন, এই জমানায় সঙ্গে রাখার মতো মেয়ে পাবার কি জো আছে! তাছাড়া আমি আগেই বলেছি, অভয় ওসব উপরি ঝুটঝামেলায় একদম যেতে চায় না। সে শান্তিপ্রিয় মানুষ, সে একা থাকতে পছন্দ করে। যদিও কেউ কেউ বলে, একা আর বোকা নাকি সমান কথা। সে যাই হোক, অভয় তাও একাই থাকবে। তাতে সে সুখ না পাক, শান্তি তো মিলবে।

অভয় কিন্তু একেবারে একা নয়, তার একটা মা আছে। অভয়ের একটা চাকরিও আছে। মা চোখে কম দেখেন, আর অভয়ের যে মালিক, সে টাকাকেই দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় করে দেখে। ফলে অভয়ের কখনও মাইনে বাড়ে না যদিও সেখানে কাজের কিছু কমতি নেই। চা-পানসুপারি আনা থেকে শুরু করে বস্তায় বস্তায় মাল টানা- সবই করতে হয় তাকে। মফস্বল শহরের একটা মোকামে কাজ করে অভয়। রাজু মোরশেদ তার মালিক।

মা চোখে কম দেখেন বটে, তবে একমাত্র ছেলে অভয়কে তিনি ঠিক বুঝতে পারেন। মা জানেন, ছেলেটা তার মোটেও সুখে নেই। বোকা বলে সবাই তাকে যথেচ্ছ খাটিয়ে নেয়, তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করে, আবার ওই যে, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে- অযথা অন্যের দোষ এসে চেপে বসে অভয়ের ঘাড়ে। মুখচোরা অভয় তাতে কিছু বলে না, পারতপক্ষে কারও বিরুদ্ধে সে অভিযোগের আঙুল তোলে না। অভয় জানে, যে সহে সে রহে। টাকা না থাকলে টক্কর দেওয়া যায় না। ফলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বৃথা। কিন্তু আর কত মুখ বুঁজে সহ্য করবে অভয়! কত?

ওই যে, অভয় এদিকেই আসছে। দূর থেকে দেখেই তাকে দিব্যি চেনা যায়।

তার হাঁটার নিজস্ব একটা 'স্টাইল' আছে। সে সামনের দিকে খানিকটা ঝুঁকে হেলেদুলে হাঁটে। কেউ তাকে মর্কট বলে ডাকে, আবার কেউ বলে উল্লুক। প্রায় সময় তার পরনে থাকে হেটো পাতলুন, ঊর্ধ্বাঙ্গে পুরোনো রঙচটা টি-শার্ট মতন কিছু একটা। বহু ব্যবহারে ওটা এতটাই মলিন হয়ে পড়েছে যে, তৈরির সময় তার রঙটা আদতে কেমন ছিল বোঝা দুস্কর। পালা-পার্বণে অভয় যখন মায়ের সঙ্গে কোথাও বেড়াতে যায়, তখন ওর পরনে থাকে ঢোলা পাতলুন, ওই সেই বিবর্ণ টি-শার্ট আর আধখাওয়া বার্মিজ চটি একজোড়া।

কোমরের তুলনায় ওর প্যান্টের কষি এতটাই আলগা যে, পাড়ার দুষ্টু ছেলেছোকরারা মাঝেসাঝে ওর প্যান্টের পা ধরে টানতে ভোলে না। তাতে অভয় বিরক্ত হয় বটে, তবে গলা তুলতে সাহস করে না। কারণ ওই বাউন্ডুলেদের মাঝে তার মালিকের ছেলেটিও রয়েছে যে! সে বোকা বটে, তবে দুনিয়ার হালচাল কিছু জানে। মালিকপক্ষকে খেপিয়ে আর যাই হোক চাকরি করা যায় না, অভয় তা বোঝে।

মায়ের দৃষ্টিক্ষীণতা ক্রমশ বাড়ে, তাতে চিন্তিত হন মা।। আহা, তার একলা বাছা! এভাবে আর কতদিন! তিনি সখেদে সস্নেহে বললেন, অভয়, বাছা আমার, এবার একটা বিয়ে কর। কতকাল আর আর একলা থাকবি বল!

অন্যমনস্ক অভয় বাইরে তাকায়। ঝিঙে জাংলায় একজোড়া ভাতশালিক অকারণ ঝগড়া করে নাকি ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে আদর আদর খেলছে ওরা। অথচ অভয়ের দু'চোখে শূন্যতা খেলা করে। এমনভাবে তাকায় যেন সে শুনতেই পায়নি। মা সব বোঝেন আর মনে মনে হাসেন। তুই আমারে এড়িয়ে যাচ্ছিস বাপ! ভাবছিস আমি কিচ্ছু বুঝি না, না! তোর কানা-বয়রা মা আদতেই এখন অচল রে। তার কথা তুই শুনবি কেন, বাপ!

মা তাও আবার বললেন, কি রে অভয়, বিয়ে করবি না তুই? বাপ আমার!

তাতে মুচকি হাসে অভয়। নিজের মুরোদ সম্পর্কে তার পরিস্কার ধারণা আছে। সে জানে, তার কামাইয়ে শাক-শুক্তো দিয়ে মায়েপোয়ের হয়তো কোনোরকম চলে যায়, কিন্তু বিয়ের পরে একটা বাড়তি মুখ! তারপর আরও! উঁহু, মোটেও উচিত কাজ হবে না। তাই সে সিঁটিয়ে যায়, যেন জোঁকের মুখে নুন পড়েছে। মায়ের কথায় সে একদম কান দেয় না।

অথচ মোকামে মন দিয়ে কাজ করে অভয়। কাজে তার মোটেও ক্লান্তি নেই। মালিক রাজু মোরশেদ ওরফে 'রাজু মোকামি' তাকে বাড়তি খাটিয়ে নেয়, সে বোঝে। অথচ তাকে প্রাপ্য দাম দেয় না, অর্থাৎ ঠকায়। তাতেও মিটিমিটি হাসে অভয়। মালিকের উদ্দেশে বিড়বিড়িয়ে বলে- ও মালিক তুমি জানো না, কাকে ঠকাচ্ছ তুমি! আমারে নয়, নিজেরে ঠকাইতাছো। মরার পরে তো সেই সাড়ে তিন হাত মাটি! এত টেকা তোমার খাইবো কে! অপোগণ্ড পোলা- দুদিনেই একফুঁৎকারে সব উড়াইয়া দিবো। আর তোমার দেহ পোকামাকড়ে খুবলে খাইবো।

মাঝে মাঝে অভয়ের খুব ভয় করে। দিন দিন দেশের মানুষগুলান কেমন জন্তু-জানোয়ার হয়ে উঠতেছে। খবরে জানা যায়, উচ্চশিক্ষিত পোলা তার বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে আসছে। জোর কইরা জমির টিপছাপ নিয়া নিছে দুই সন্তান। আহা রে বাবারা, এইসব কি জোরাজুরির জিনিস! বাপ-মা কত কষ্ট কইরে তোমারে এত বড় করলো, আর এখন তোমরা তাগো নিয়া ফুটবল খেলতাছো। বড়পোলা কয় তুই রাখ, আর ছোটোপোলা তাদের বড় ভাইয়ের দিকে ঠেলে দেয়! বাপ-মায়রে কেউ রাখবার চায় না!

মোকামের মালিক রাজুকে নিয়ে কী কী সব শোনা যায়। কানাঘুষায় অভয় শুনতে পায় যে, কী এক অপরাধে তার মালিক নাকি দিন চারেক জেল খেটে এসেছে। এই কামে নাকি তার পোলা বুলেটও জড়িত ছিল। কী করছে ওরা?

অভয়ের নিরেট মগজে কেসটা ঠিক ধরা খায় না। তবে সে কৌতূহলী হয়ে ওঠে। মালিক এত বড় মানুষ, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আছে তার, তাকে কেন পুলিশে ধরল! অথচ তার লেবাস দেখে বোঝার উপায় যে, সে কোনো অন্যায়-অপরাধ করতে পারে! কিন্তু অভয় তো জানে না, দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষ একেকটা মুখোশ পরে থাকে। পেছন দিকে তাদের একটা করে লেজও আছে, যা কিনা দিনের আলোয় ঠিক দেখা যায় না। রাতের বেলা তাদের মুখোশ খুলে যায়, গজার মাছের মতো লেজ বেরিয়ে পড়ে। আর তারা হয়ে ওঠে একেকটা কামাতুর হায়েনা।

দিনকয়েক মোকাম বন্ধ থাকে। কারণ মোকামের মালিক রাজু মোরশেদ বাড়িতে নেই। কই গেছে তবে? ওই যে, জেলখানায়! কেউ একজন খবরটা দিল। তাতে ভারি চিন্তায় পড়ে যায় অভয়। এই যে সে কাজ করছে না, মোকাম বন্ধ, মালিক তার মাইনে কেটে নেবে না তো! অথচ তার কোনো দোষ নেই। সে কখনও অফিস কামাই করে না। নিত্যই অভয় মোকামে আসে, আশপাশে ঘুরঘুর করে, কিন্তু মালিক বা তার পোলা বুলেটকে কোথাও দেখতে পায় না।

খোঁজ নিতে অভয় তার বাড়ি যায়। মাসমাইনের চাকর হলেও মালিকের প্রতি তার একরকম নিঃশর্ত মায়া পড়ে গেছে, যা কিনা মালিকদের কখনও পড়ে না। ওরা শুধু টাকা চেনে, মুসুম্বির কোয়ার মতো সবটুকু রস নিংড়ে নিয়ে তবে দুই টাকা মাইনে ধরিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে এও বলে- যা যা, পেঁচার মতন মেলা ফ্যাঁচর ফ্যাঁচর করিস না। জানিস তো, ভাত ছড়াইলে কাকের অভাব হয় না। তার মানে অভয় একটা কাক! মনে মনে হাসে অভয়। ওর দাঁত বেরিয়ে পড়ে। সে দাঁড়কাক, নাকি পাতিকাক তা অবশ্য মালিক বলে না। ওর খুব কৌতূহল হয়! খুব জানতে ইচ্ছে করে অভয় যদি মাসমাইনের পাতিকাক হয় তাহলে রাজু মোরশেদ কী! দাঁড়কাক!

গিয়ে দেখে রাজু মোকামির বউ অনেকক্ষণ ধরে কাঁদছে। তার ফোলা ফোলা চোখ দেখেই তা অনুমান করা যায়। তবে এর কারণ কী, এখনও ঠিক বুঝতে পারেনি অভয়। তবে কি বেটা মরলো নাকি! না না, তা নয় নিশ্চয়ই! জোতদার-মালদার মজুতদাররা এত সহজে মরে নাকি! তাছাড়া মালিক না থাকলে শ্রমিকের কী হবে! সে তো তাহলে ধনেপ্রাণে মারা যাবে। যতই তার বাউণ্ডুলে ছেলে তাকে অপমান করুক, অভয় কখনও রাজু মোকামির ক্ষতি চায় না।

মফস্বল শহর, তাই কোনো খবরই বেশিক্ষণ চাপা থাকে না। কেউ না কেউ কানাঘুষায় তা ছড়িয়ে দেবেই। তাছাড়া মানুষ অন্যের নিন্দামন্দ করে একরকম সুখ পায়। বিজাতীয় সুখ। বিকৃত উল্লাসও বলা চলে। এই কাজটা তারা বেশ যত্ন সহকারে করে, একেবারে বিনে পয়সায়। রাজু আর তার ছেলে নাকি কোনো মেয়েলি কেসে ফেঁসেছে। ইয়ে মানে 'রাজি হয় নাই' তাই মেয়েটাকে অ্যাসিড মেরেছে মালিকের ছেলে বুলেট। মেয়েটার নামি শান্তি- অভয়ের খুব চেনা। ওরা উভয়েই কুলি-কামিন শ্রেণির লোক। আহা, শান্তি! কুড়ি বছরের মেয়েটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরায়, আর এদিকে সমানে দেনদরবার চলে- কী করে মোকামি আর তার ছেলে- তাদের দুজনকে ছাড়িয়ে আনা যায়। বা রাষ্ট্রের দেওয়া শাস্তি তারা কোনো ছলছুতোয় অগ্রাহ্য করতে পারে।

শান্তিকে শেষমেশ ওরা অ্যাসিড মারল! অথচ কত শান্ত নরম ওই মেয়েটা! মনে মনে ভাবে অভয়। সহসাই ওর কেমন যেন শীত শীত লাগে। সে বুঝতে পারে, শহরটা ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মনুষ্যত্ব বলে এখানে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। মিডিয়ার বদৌলতে কেসটা নিয়ে কিছুদিন নাড়াঘাঁটা চলল, কিন্তু তাও একসময় জ্যৈষ্ঠের সরোবরের পানির মতো সবকিছু থিতিয়ে গেল। কার এমন গরজ পড়েছে যে, নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবে!

শান্তির জন্য বড় কষ্ট হয় অভয়ের। কিন্তু কেন! শান্তি কে হয় তার! তারা একই পাড়ায় থাকে- এটুকুই যা সম্পর্ক। কখনও সামান্য চোখাচোখি, একটুখানি হাসি- অনর্থক হাসি যাকে বলে। তবে হ্যাঁ, একটা মিল অবশ্য তাদের আছে। তার দুজনেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। তারা খুব ভীতু, কেঁচোর মতন বুকে হেঁটে চলে, খুব শান্তশিষ্ট ওরা, আর কখনও অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না। কী করে করবে! ওদের কি সেই কোমরের জোর আছে! নেই তো। ফলে ওরা যে এখনও বেঁচে আছে, কর্পূরের মতো উবে যায়নি এই ঢের।

শান্তিকে একদিন দেখতে যায় অভয়। মেয়েটাকে সত্যি আর চেনা যায় না। ওর নাক-মুখ প্রায় সব মুছে গেছে, একটা চোখও জ্বলে গেছে অ্যাসিডে। সেই তরল পদার্থ- পানিও তো তাই। পানি জীবন বাঁচায়, আর অ্যাসিড! শান্তির জীবন থেকে সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আর শান্তিটুকু কেড়ে নিয়েছে।

সময় গড়ায়, ছাড়া পায় রাজু, আবারও সে মোকাম খোলে। বেরিয়ে আসে তার অপোগণ্ড ছেলে বুলেটও। কোর্ট তাকে ছেড়ে দিয়েছে, এই কেসের জুতসই সাক্ষী জোটেনি তাই। আদালত শুধু সাক্ষী আর সাবুদ চেনে, আর কিছু নয়। উল্টো একজন নাকি এও বলেছে যে, ঘটনার সময় রাজুর অতি সভ্য ছেলে বুলেট তার দ্বিতীয় বিয়ের বরযাত্রী গেছিল, ফলে বুলেট এ কাজ করতেই পারে না। তার পক্ষে শক্ত অ্যালিবাই আছে। কোর্ট এই অজুহাতটি আমলে নিয়ে বস্তুত হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন।

হাসি পেয়ে যায় অভয়ের। কত সহজে শুধু টাকা আর ভয় দেখিয়ে দিনকে রাত আর রাতকে দিন করা গেল! একেই বুঝি বলে টাকার তেলেসমাতি! ক্ষমতার বাহাদুরি!

অভয় অবশ্য এই প্রথম একটুখানি সাহসের পরিচয় দিল। তার নামের সঙ্গে সুবিচার করল বলা যায়। রাজু মোরশেদের মোকামের চাকরিটা সে ছেড়ে দিল, যদিও অনাগত দিন সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। সে জানে না, কাল কী খাবে! কীভাবে মায়ের দৃষ্টিক্ষীণতার চিকিৎসা করাবে সে!

আরও একটা কাজ করে বসলো অভয়- অনেকটা ঝোঁকের বশেই। তাতে সে বেশ করতালিও পেল।

কী কাজ- শুনি!

মাকে গিয়ে বলল, মা, আমার না খুব ভয় করছে।

কীসের ভয়, বাছা?

একলা থাকার ভয়। আমি আর একলা থাকতে চাই না, মা। কেউ এসে যদি একলা পেয়ে আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়! সঙ্গী চাই আমি, সাক্ষী চাই।

কথাটা মায়ের বেশ মনে ধরল। বাছা তাহলে এতদিনে বিয়ে করতে চাইছে। বেশ তো। মেয়ে আনো, ঘরে তুলে নিই। অভয়ের মা মুচকি হেসে বললেন।

তাতে একটা অদ্ভুত কথা বলল অভয়। ভাবনা কীসের মা, শান্তি আছে না! বউ খুঁজতে বাইরে যেতে হবে কেন!

শান্তি! অ্যাসিড খাইছে যে! মায়ের বুক ধড়ফড় করে। তার তো শুনছি নাক-চোখ আর কিছু নাই। সব মুইছ্যা গেছে। আন্ধারে মানুষ তারে দেখলে ডরায়। শান্তিরে বিয়া করবি বাপ, আর মাইয়া পাইলি না?

তাতে উপর-নিচে মাথা নাড়ে অভয়। হ মা, তাই করুম। মানুষ খালি ভাঙতে জানে, আমি উল্টাডা করুম। শান্তিরেই আমি বিয়া করতে চাই। তাছাড়া যারা তারে দেইখা ডরায় তাদের তো মনের চোখ নাই, সব আন্ধা।

মা কী বুঝলেন কে জানে। তিনি ভালো দেখতে পান না, কানেও কম শোনেন। বিড়বিড় করে কিছু একটা বললেন- আর তাকেই অভয় সম্মতি বলে ধরে নিল। পরদিন হাসপাতাল থেকে শান্তিকে সোজা নিজের ছাপরায় এনে তুলল অভয়- জীবনে একটা অন্তত সাহসের পরিচয় দিল সে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, শান্তির সকল মনঃকষ্ট সে ভালোবাসা দিয়ে সারিয়ে তুলবে।

মন্তব্য করুন