পর্ব-৩

পূর্বে প্রকাশিতের পর

পাকিস্তান একটা অবাস্তবতা। এ নিয়ে আমি মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাহলে এ ব্যাপারে শেখ সাহেব কী বলেছিলেন? তিনি বললেন, শেখ সাহেব বলেছিলেন এটা কোনো রাষ্ট্র হচ্ছে না; পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের একটা কলোনি হচ্ছে।

যে শেখ মুজিবুর রহমান বলছেন, পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের একটা কলোনি হচ্ছে, সেই শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন- এ কথা ভাবা কতটা বাস্তবিক হতে পারে!

পাকিস্তান স্টেট ডিপার্টমেন্টের গোপন নথিপত্রে আমি দেখেছি সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানকে তারা খুব পরিস্কারভাবেই বলছে যে, তারা কী করতে চায়, না করতে চায়। তাই শেখ সাহেব খুব ভালো করেই বিষয়টা জানতেন। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতাটা আমরা রক্ষা না করে আমরা তৈরি করেছি ভিন্ন আরেকটি ধারাবাহিকতা। সেখানে পাকিস্তানকে আমরা হালাল ধরে নিয়েছি।

পাকিস্তান যে আমাদের মানুষ ভাবত না- এ কথাটা আমরা কেন গ্রহণ করতে পারি না? এর একটা কারণ ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলটা একটা দখলকৃত অঞ্চল। দখলদারদের জন্য এ অঞ্চল সবসময়ই লাভজনক। মোগলদের যে এত প্রতিপত্তি- তাদের বিত্ত তো তৈরি হয়েছে বঙ্গ থেকে। কিন্তু আমরা সেটা কোনোদিন বলি না। আমরা তাজমহল নিয়ে এত মাতামাতি করি, সেই তাজমহলের টাকা তো গেছে বাংলাদেশ থেকেই। বরিশালের টাকায় যে তাজমহল হয়েছে, এ কথাটা আমরা ভাবতেই পারি না। মোগল আমলের কৃষিতে যে এত অসাধারণ উন্নতি হয়েছে, সেই উন্নতি হয়েছে তো বঙ্গে। রিচার্ড ইটনের বইটা দেখলেও তো এটা পরিস্কার হয়ে যায়। কিন্তু আমরা সেটা দেখতে চাই না, আমরা হুজুর হুজুর করতে চাই ফর্সা রঙের মানুষদের। যেমন ইংরেজ ও পাকিস্তানিদের। এই যে ফর্সাপ্রীতি আমাদের দেশে তার ঐতিহাসিক ভিত্তিও এটাই। আর্যদের বইতে এখানকার মানুষকে অসুর বলা হতো, মানে কালো রঙের মানুষ। আর্যরা তো ছিল ফর্সা। ইংরেজরাও ফর্সা। ঐতিহাসিকভাবে আমরা সেই ফর্সা মানুষদের দালাল হিসেবে বেঁচে থাকতেই পছন্দ করে আসছি। দালাল হিসেবে বেঁচে থাকার ইচ্ছা থেকেই এত পাশ্চাত্য বা ফর্সাপ্রীতি।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন


তবে এই দালালিটা কৃষক বা সাধারণ শ্রেণির মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম; এবং এই কম থাকার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্রোহটা তারা করতে পেরেছে। এই বিদ্রোহের ইতিহাসটা যদি আমরা পড়তে চাই, তাহলে আমরা দেখতে পাবো, ১৯৪০ থেকে ১৯৪৬ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিজের কথা কতবার কতরকমভাবে পরিবর্তন করেছেন। তবু কেন জিন্নাহর ওপর একটা বইও লেখা হয়নি যাতে লেখা আছে যে, তিনি কতটা বিভ্রান্তকারী লোক ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি সব বাংলাদেশি রাজনীতিবিদকে খারাপ চোখে দেখতেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পেছনে অনেক বেশি তেলবাজি করতেন। সে কারণে ১৯৪৬ সালে দুটি পাকিস্তানের বদলে একটি পাকিস্তান করার যে প্রস্তাব, তাতে যুক্ত হয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী। কিন্তু তাতেও তার অবস্থানের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি দলে। আবুল হাশিমের বইটা পড়লে এ ব্যাপারটা সম্পর্কে আমরা পরিস্কার হতে পারি।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ কে ফজলুল হককে রীতিমতো অপছন্দ করতেন। তবে ফজলুল হকও তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন না। জিন্নাহর সঙ্গে এক সাক্ষাতে মাওলানা ভাসানী আসামের মানুষের কষ্টের কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছিলেন। জিন্নাহ বলেছিলেন, এ ধরনের কান্নাকাটি করা লোক আমার একদম পছন্দ না; লুঙ্গি পরে কীসব কান্নাকাটি করে! ওপরতলার চোখ দিয়ে জিন্নাহ মোটেই সাধারণ মানুষকে ভালো চোখে দেখতেন না। আমাদের যে অপছন্দ করেন, সেই লোকটা কীরকম তা তো বোঝা যায়। আসলে লোকটা কী রকম তার চেয়েও এখানে বড় তার ইতিহাসটা কীরকম। ব্যক্তির পেছনের ইতিহাসটাই আসল। মানুষটা হিন্দু না মুসলমান, আমার সঙ্গে তার ধর্মের মিল আছে কি নেই তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ তার ইতিহাসটা আমার সঙ্গে মেলে কিনা।

মোগল আমলের কৃষিতে যে এত অসাধারণ উন্নতি হয়েছে, সেই উন্নতি হয়েছে তো বঙ্গে

পাকিস্তান আন্দোলনের একটা ধারাবাহিকতা আছে, সেটি শুরু হয়েছে এই 'পাকিস্তান' কথাটা থেকেই। সেই চৌধুরী রহমত আলীর পাকিস্তানটা কোথায় আছে! আর সেই পাকিস্তানের মধ্যে বাঙালির বাংলাদেশটাই বা কোথায়?

আমাদের মূলধারার ইতিহাসবিদরা এ ব্যাপারটি নিয়ে তেমন একটা ভাবেন না। তারা কেবল সাতচল্লিশ আর বায়ান্ন থেকেই আলোচনাটা শুরু করতে পছন্দ করেন। কিন্তু দুশো বছরের ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের মানুষ যে লড়াই করেছে, কৃষক লড়াই করেছে, শ্রমিক লড়াই করেছে- তা নিয়ে তেমন আলোচনা করতে দেখা যায় না। আমি বলছি বায়ান্ন সাল অবশ্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন তো মধ্যবিত্ত শ্রেণির আন্দোলন। ঐতিহাসিকভাবে বায়ান্ন সালের ভূমিকা মধ্যবিত্তকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, সাধারণকে তেমনভাবে স্পর্শ করেনি। তবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে নিম্নবর্গের মানুষের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করতে এ আন্দোলন অনেক সহায়তা করেছে।

সাধারণ মানুষ তো জীবিকার জন্য লড়াই করে, জীবিকার জন্য বিদ্রোহ করে। জীবিকার জন্য মধ্যবিত্তও লড়াই করে। বায়ান্ন সালে যে ব্যাপারটি দাঁড়িয়েছিল যে, চাকরিতে গেলে উর্দু শিখতে হবে। উর্দু না শেখা পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা তো চাকরিতে সুবিধা পাবে না। তাই ভাষা আন্দোলনের মূল বিষয়টি তো ছিল চাকরি বা অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া। সংস্কৃতি একটি অংশ অবশ্যই, কিন্তু মূল ছিল যে, তাদের পরীক্ষা দিতে হবে উর্দুতে। তাহলে তো তারা আবার বাদ পড়ে যাবে। যে কারণে তারা পাকিস্তান করেছে, অর্থাৎ চাকরির সুবিধার জন্য; এবং যেটার জন্য ১৮৫৭ সাল থেকে বঙ্গের এই বাঙালি মুসলমান উঠতি দালাল শ্রেণি বা উঠতি মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি চেষ্টা করে আসছে। এখন সেই চাকরি-বাকরির সুযোগটাই যদি না পায়, তাহলে আর লাভটা কী হলো পাকিস্তান করে। সেই কারণেই এত দ্রুতই তারা ভাষা আন্দোলনে নামল। কিন্তু একাত্তরের আন্দোলনটা তো সাধারণ মানুষের আন্দোলন, কৃষকের আন্দোলন। তারাই সবচেয়ে বেশি এ আন্দোলনটা করেছে। মধ্যবিত্ত সঙ্গে ছিল।

সাতচল্লিশে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানকে কোনোদিনই টিকিয়ে রাখা যেত না। কারণ এটি বাস্তবে ছিলই না। আর পাকিস্তানের দলিলপত্র ঘাঁটলেও দেখা যাবে যে, এই রাষ্ট্রের মূল বিষয়টি ছিল ভারতের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা। সেই পুরোনো উত্তর ভারতের দ্বন্দ্ব। মোগলদের সঙ্গে এবং মোগলদের আগে যারা ছিল তাদের দ্বন্দ্ব। কিন্তু তার সঙ্গে আমাদের তো কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের মূল দ্বন্দ্ব তো হচ্ছে পাকিস্তান। আর পাকিস্তানের মূল দ্বন্দ্ব ভারত। সুতরাং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে কীভাবে একটা একক রাষ্ট্র হয়! এটি কোনোদিনই একক রাষ্ট্র ছিল না। আর যাকে তারা একক রাষ্ট্র বলছে, তার সঙ্গেই তো আমাদের দ্বন্দ্ব। ইতিহাসবিদরা যতই একে হালাল ধরে নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করুক।

মার্ক্সবাদী পাকিস্তানি সমাজবিজ্ঞানী হামজা আলাভি বলেছিলেন, চাকরির সুবিধার জন্য পুরো পাকিস্তান আন্দোলনটি হয়েছে। কিন্তু হামজা আলাভি যেটা জানেন না যে, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস তো আলাদা। পূর্ববঙ্গে কৃষক বিদ্রোহ হয়েছে, পশ্চিম পাকিস্তানে তো তা হয়নি! সেখানকার ইতিহাসে তো কোনো কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাস নাই-ই প্রায়। পূর্ববঙ্গের মানুষের ভিত্তিই হচ্ছে কৃষকদের দ্বারা। ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের কথাই বলি আর ফরায়েজি আন্দোলনের কথাই বলি, এমন অসংখ্য আন্দোলন হয়েছে যার মূলশক্তি কৃষক। এমনকি আমি মনে করি আমাদের ইতিহাসে আলাদাভাবে 'কৃষক বিদ্রোহ' পড়ানো উচিত যে, কীভাবে কৃষকরা ইতিহাসের এই নির্মাণটা তৈরি করেছে, যেখান থেকে বাংলাদেশের জন্ম।

মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে যৌথভাবে তারা একের পর এক এই আন্দোলনটা করে গেছে, এবং এই যৌথতা নিয়েও কোনো আলাপ হতে দেখা যায় না। আমরা গোটা মধ্যবিত্তকে স্বতন্ত্র অবস্থায় রেখে ভাষা অন্দোলনকে দেখি। কারণ এভাবে দেখলে কেবল পাকিস্তানকে হালাল করাটাই হয়, ইতিহাস নয়। আমাদের ইতিহাসের বয়স ১৯৪৭ সালের চাইতেও অনেক বেশি।

মুক্তিযুদ্ধ :১৯৭১

খেয়াল করলে দেখা যাবে ধারাবাহিকতার দিক থেকে এই কৃষকদের আন্দোলন তো থামেনি কোনোদিন। বিদ্রোহও তো চলেছে একের পর এক। এবং একাত্তর সালে সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ প্রকাশিত হয়েছে এই কৃষকদের থেকেই। ইংরেজদের সঙ্গে আন্দোলন করে কৃষকদের লড়াইয়ের যে ইতিহাস দাঁড়িয়েছে, তা বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্ন সময়ে এসে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। এবং শেষ পর্যন্ত তার সফলতম প্রকাশ ঘটেছে একাত্তরে। এমনকি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের দিকে তাকালেও দেখা যায়, সেখানে শহরের মানুষের ভোট কত ছিল আর গ্রামের মানুষের ভোট কত ছিল। এই হিসাব করলেই দেখা যায় যে, কার ভোটে বাংলাদেশের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছে? এটা কোনোদিনই মধ্যবিত্তের ভোটে তৈরি হয়নি। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট, ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট, এমনকি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে এবং সর্বশেষ ১৯৭০ সালে সাধারণ মানুষ হচ্ছে মেজরিটি। মেজরিটি যেদিকে বলেছে, ইতিহাস সেই দিকেই গেছে। এই কারণে পাকিস্তানের ভেঙে যাওয়াটা অবধারিত ছিল না, পাকিস্তান ছিলই না। বলা যেতে পারে জোর করে অপকৌশল প্রয়োগ করে একটা রাষ্ট্র বা প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু সেটা ছিল অবাস্তব। সেই অবাস্তবতা অবধারিতভাবেই শেষ হয়ে যায়, কারণ পাকিস্তান ছিল একটি সেনাবাহিনী-নির্ভর ভারতবিরোধী রাষ্ট্র, তার বেশি কিছু নয়। এবং আজও সেটাই আছে। সে কারণেই পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের ইতিহাসের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পায় না। আমরা কৃষকের ইতিহাসকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে মধ্যবিত্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। সেই ইতিহাসের সঙ্গে পাকিস্তানের ইতিহাসের কী সম্পর্ক থাকতে পারে? যেটা হয়েছে- কৌশলগতভাবে নির্যাতিত শ্রেণি হচ্ছে কৃষক। আর তার মধ্যে সবচেয়ে নির্যাতিত বাঙালি মুসলমান ও হিন্দু কৃষক। আর হিন্দু কৃষকের কোনো মধ্যবিত্ত শ্রেণি নেই। বাঙালি মুসলমান কৃষকের সঙ্গে বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিজেকে যুক্ত করেছে সুবিধা পাওয়ার জন্য। সুবিধা পেয়েছেও। এটাই হচ্ছে ইতিহাসের সূত্র। দুটি শ্রেণি লাগে। তবে যেহেতু একটা শ্রেণির মধ্যবিত্ত ছিল, আরেকটা শ্রেণির মধ্যবিত্ত ছিল না, প্রথম শ্রেণিটির নেতৃত্ব তৈরি হয়ে গেছে তাদের মধ্যে যারা ইংরেজদের সঙ্গে বেশি দালালি করেছে তাদের মাধ্যমে। আরেকটা শ্রেণি ছিল যারা মূলত বিদ্রোহটাই করেছে। এর ভিত্তিতেই আমাদের আজকের বাংলাদেশ।

পাকিস্তান মাঝখান থেকে যখন এসেছে, ততদিনে বাংলাদেশ হওয়ার অন্তত তিনটা প্রচেষ্টা হয়ে গেছে। ১৯০৫ থেকে ১৯১১ পূর্ববঙ্গ হচ্ছে উপরাষ্ট্র। ১৯৪০ সালে তো একেবারে ঘোষণাই করা হয়েছে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে। এবং ১৯৪৭ সালে চেষ্টা করা হয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার। সুতরাং এখানে পাকিস্তানের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি ছিল না। মানুষের পরিচয় সে কোন ধর্মে বা কোন ভাষায় জন্মগ্রহণ করেছে সেটা নয়, সে কোন ইতিহাসে জন্মগ্রহণ করেছে। সে জন্য আমাদের ইতিহাসটা যতদিন না বুঝব, সে পর্যন্ত নিজেদের কোনোদিন জানতে পারব না। ততদিন পর্যন্ত পাকিস্তান থেকেই আমরা জন্মেছি, এ অবাস্তব কথাটাই আমাদের বলে যেতে হবে। আমাদের যে স্বাধীন স্বতন্ত্র সত্তা আছে, ইতিহাস আছে- তা আমাদের জানতে হবে নিজেদের আবিস্কার করার জন্যই।

[এই প্রসঙ্গ সমাপ্ত]

মন্তব্য করুন