ঈষিকাকে গেট দিয়ে বেরোতে দেখে দ্রুত পা চালাল সায়েম। প্রায় দৌড়ে ধরে ফেলল। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, কেমন আছেন?

ঈষিকা কিছু বলল না। তার মুখ ভাবলেশহীন।

পোকার ফেস বলে একটা টার্ম আছে। যারা প্রফেশনালি পোকার খেলে, তারা হাতে কী কার্ড আছে, সেটা যত্ন করে লুকিয়ে রাখে। চেহারা বা এক্সপ্রেশনে বুঝতে দেয় না। দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিসে এই নির্বিকার চেহারা তারা বানায়। ঈষিকার পারফেক্ট পোকার ফেস। চোখ দুটো সানগ্লাসে ঢাকা। মনের ভেতর কী চলছে, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। ভাবলেশহীন মুখে হাতের ঘড়িতে সে একবার সময় দেখে নিল। এ রকম চেহারা দেখে একটু দমে যেতে হয়।

সায়েম দমল না। সে এত দিনে এটুকু অন্তত শিখেছে, এত অল্পে দমে গেলে চলে না। জীবনে অবহেলা কম পায়নি সে। অবহেলাকে কী করে বুড়ো আঙুল দেখাতে হয়, তার ভালোই জানা আছে।

হাঁটতে হাঁটতে আলাপ জমানোর ভঙ্গিতে সায়েম বলল, আজ আবার দেখা হয়ে গেল, না?

ঈষিকা গম্ভীর মুখে উত্তর দিল, প্রতিদিন বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখা না হয়ে উপায় আছে?

মানে?

আপনি প্রতিদিন আমার জন্য এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন না?

কে বলেছে?

কে বলেছে, সেটা ইম্পর্ট্যান্ট না। থাকেন কিনা?

সায়েম দেখল, ঈষিকা কথাটা বলে মুখ শক্ত করে রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। পোকার ফেস নেই তার এখন আর। স্পষ্ট বিরক্তি ফুটে উঠেছে মুখে। সঙ্গে ডিটারমিনেশন। যেন এই প্রশ্নের উত্তর না পেলে সে এক পা-ও সামনে বাড়াবে না।

সায়েমের মনে হলো, সে লজ্জায় মাটিতে মিশে যাবে। মিনমিন করে বলল, কী বলছেন এসব? আমাদের বাসা একই জায়গায়। এক মাইক্রোতে করে অফিস যাই। একই সময়ে বাসা থেকে বের হই। তাই দেখা হয়ে যায়। আমি কেন আপনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকব?

ওকে, ঈষিকা বলল, আপনি আমার জন্য দাঁড়ান না তাহলে?

না।

মিথ্যা কথা বলা একটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। সবাই পারে না।

সায়েম মাথা নিচু করে রইল।

আপনি এমনিতে মানুষ খারাপ না, ঈষিকা বলল, কেন শুধু শুধু মিথ্যা বলছেন? যেটা পারবেন না, সেটা করার কী দরকার?

কথাটা বলতে বলতে ঈষিকা চোখ থেকে সানগ্লাস নামাল। সে-ই চোখে সায়েম বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না। চোখ দুটো নামিয়ে নিল।

আপনি আমাকে স্টকিং কেন করছেন? ঈষিকা প্রশ্ন করল।

সায়েম অবাক হয়ে বলল, স্টকিং!

করছেনই তো।

ততক্ষণে ঈষিকা আবার হাঁটতে শুরু করেছে। হাঁটতে হাঁটতেই বলল, আমার মার একটা অভ্যাস আছে। সে প্রতিদিন আমাকে দরজা থেকে বিদায় করে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। রাস্তায় যতদূর পর্যন্ত আমাকে দেখা যায়, দেখতে থাকে। আপনি এখন পেছনে তাকালে দেখতে পাবেন, চারতলার বারান্দা থেকে এক মাঝবয়সী মহিলা আমাদের দু'জনের দিকে তাকিয়ে আছে।

সায়েম একবার পেছনে ফিরে তাকাল। ততক্ষণে তারা দু'জন প্রায় পরীবাগ মোড়ে এসে পৌঁছেছে। পেছনে অনেকগুলো বিল্ডিং। ঈষিকার বাসা প্রায় ১০০ মিটার পেছনে। সেখানে চারতলার বারান্দায় কেউ দাঁড়িয়ে আছে কিনা, এখান থেকে বোঝার উপায় নেই।

ঈষিকা বলল, আমার মা কিন্তু আমার মতো বোকা না। আপনার সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হয়, কী করে এই রহস্য সে ঠিকই খুঁজে বের করেছে।

সায়েম মাথা নেড়ে বলল, কী রকম?

সে গত দু'দিন সকাল সাতটা থেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। দেখেছে যে আপনি সাতটা পঁচিশে এসে পরীবাগ মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর আমি গেট দিয়ে বের হলেই ছুটে আসেন।

এই কথার পর সায়েম একেবারে চুপ হয়ে গেল। তার ইচ্ছে হলো, সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে। কিন্তু উপায় নেই। মনে মনে কথা হাতড়াল। কী বলা যায়? কী বললে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতে পারে? পৃথিবীতে এত কথা! কিন্তু সে কোনো কথা খুঁজে পেল না। কোনোরকমে ঢোঁক গিলে বলল, সরি।

ঈষিকা ঠান্ডা চোখে সায়েমের দিকে তাকিয়ে বলল, সরি বলার দরকার নেই। রাস্তাটা সরকারের বানানো। আপনার ইচ্ছে হলে দাঁড়িয়ে থাকবেন। ইচ্ছে হলে বসে থাকবেন। শুয়েও থাকতে পারেন। সেখানে আমার কিছু বলবার নেই। সমস্যাটা হচ্ছে, ইট বদারস মি।

আমি বদার করছি?

হুম। আজ আমার মা মার্ক করেছে। কাল পাশের বাসার আন্টি মার্ক করবে। কথা ছড়াবে। আমাদের হিন্দু ফ্যামিলি। বাপ-মাও কনজারভেটিভ। এগুলো আমার পছন্দ না। বয়স কত আপনার?

আমার?

আমি প্রশ্ন করলে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন কেন? এটা কী অভ্যাস? বয়স কত?

ত্রিশ।

ত্রিশ বছর হয়ে গেছে। এখন একটু রেসপনসিবল হতে শেখেন।

সরি। এ রকম আর হবে না।

বললাম তো, সরি বলার দরকার নেই। আমি কাল থেকে আর অফিস ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করব না। ফ্যামিলি ইউজের জন্য একটা গাড়ি বাসায় আছে। সেটা সারাদিন এমনিই গ্যারেজে পড়ে থাকে। গাড়ি নিয়েই যাব।

সে কী! এটা করতে যাবেন না, প্লিজ। খুব খারাপ লাগবে আমার। আমিই বরং অফিসের ট্রান্সপোর্ট ইউজ করব না।

আমি কোনো ব্যাপারে হুট করে ডিসিশন নিই না। তবে একবার ডিসিশন নিলে সেটায় স্ট্রিক্ট থাকি। সো, আপনি ধরে নিতে পারেন, আমি আর অফিসের ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করছি না।

সায়েম কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু ঈষিকা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, আর আপনাকে একটা ওয়ার্নিং দিয়ে রাখি। ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট ওয়ার্নিং। এরপর যদি আপনি আর কোনো দিন স্টকিং করেন, আমি অফিসে কমপ্লেইন করে দেব। রিটেন কমপ্লেইন। জানেন তো, ফিমেল কলিগদের ব্যাপারে অফিস কতটা সেনসিটিভ?

সায়েম মুখ নিচু করে রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে রইল। সকাল সাতটা বেজে চল্লিশ মিনিট তখন। অফিস যাবে বলে ঢাকা শহরের মানুষ লাইন ধরে রাস্তায় নেমেছে। তারা পিলপিল করে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছে। হাঁটার সময় একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। রাস্তা দিয়ে শোঁ শোঁ শব্দে গাড়ি যাচ্ছে। বাস, মিনিবাস, প্রাইভেট, মাইক্রো, মোটরসাইকেল, সিএনজি। একটা অ্যাম্বুলেন্স পোঁ পোঁ করে সাইরেন বাজিয়ে চলে গেল।

সায়েম কিছুই শুনতে পেল না। তার মনে হলো, সে-ই রাস্তায় কেউ নেই। সে একেবারে একা দাঁড়ানো।



এই যে দৃশ্যটা আপনারা দেখলেন, সেটা বেশ নির্মম। সায়েম একটা ছাপোষা চাকরিজীবী মানুষ। সে কখনও কাউকে ভালোবাসেনি। বা এ কথাও বলা যায়, তার জীবন এতটাই স্ট্রাগলে ভরা যে ভালোবাসার সুযোগ পায়নি।

তার আগের বাসা ছিল নিকুঞ্জে। গত মাসে অনেক ঝামেলা করে সে চলে এসেছে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে। প্রায় দেড় গুণ ভাড়ায় নতুন বাসা নিয়েছে।

তার অফিস টঙ্গী। নিকুঞ্জ থেকে টঙ্গী যেতে সময় অনেক কম লাগে। জ্যাম না থাকলে ১৫-২০ মিনিটই যথেষ্ট। কিন্তু কেবল যাতায়াতের সুবিধাই পৃথিবীর একমাত্র সুবিধা নয়। পৃথিবী অনেক বড় একটা জায়গা। এখানে যে মানুষ কেবল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়, ব্যাপারটা তা নয়। এখানে মানুষ প্রেমেও পড়ে।

আর সে-ই প্রেমকে পোক্ত করতে অনেক উদ্ভট কাণ্ডকারখানা করতে হয়। কেবল অফিস টু বাসা আর বাসা টু অফিস করে সায়েম বেঁচে থাকতে চায়নি। তাই সে ঈষিকার বাসার কাছাকাছি বাসা নিয়েছিল। পরীবাগ জামে মসজিদের প্রায় গা ঘেঁষে ভাদুরী টাওয়ার। ঈষিকা দত্ত এই টাওয়ারে থাকে।

ঈষিকা প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪০-এ অফিসের গাড়িতে ওঠে। তাকে পরীবাগ ওভারব্রিজের নিচ থেকে মাইক্রোবাস পিক করে। সায়েম ইচ্ছে করলে বাংলামটর মোড় থেকে সে-ই একই মাইক্রোতে উঠে পড়তে পারে। তাতে তার সময় বাঁচে। কিন্তু সায়েম সে কাজ করে না। অনেকখানি পথ হেঁটে মোতালিব প্লাজার পেছন দিয়ে সে পরীবাগ যায়। সেখান থেকে মাইক্রোতে ওঠে। হাঁটাহাঁটির অতিরিক্ত কষ্টটুকু করে সে দুটো কারণে।

এক নম্বর কারণ হলো, বাংলামটর স্টপেজ থেকে মাইক্রোতে উঠলে সে ঈষিকার পাশের সিটে হয়তো জায়গা পাবে না। একই গাড়িতে আজমত নামে একটা ছেলে ওঠে। ছেলেটা খুবই ফাতরা টাইপের। সুন্দর মেয়ে দেখলে ছোঁক ছোঁক করবেই। কোনো মাফ নেই। সায়েম যতবার বাংলামটর থেকে উঠেছে, ততবারই দেখেছে আজমত আগেই ঈষিকার পাশের সিট দখল করে বসে আছে।

দুই নম্বর কারণ হলো, ভাদুরী টাওয়ার থেকে পরীবাগ ব্রিজ পর্যন্ত দূরত্বটুকু সায়েম ঈষিকার পাশাপাশি হেঁটে যায়। এমন না যে এ সময় তারা দু'জন খোশগল্প করে। বা এতে প্রেমের খুব সুবিধা হয়। তবে এটুকু পথ একসঙ্গে হাঁটা সায়েম উপভোগ করে। পৃথিবীতে উপভোগের জিনিস কমতে কমতে আ ওয়াক ইন দ্য স্ট্রিটে এসে ঠেকেছে।

মাঝেমধ্যে অফিসের মাইক্রো ঠিক সময়মতো এসে পৌঁছায় না। তখন তারা দু'জন পরীবাগ ওভারব্রিজের পাশে জারুলগাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। খুব যে কথা হয়, সে সময় তা নয়। তবু একসঙ্গে দাঁড়িয়ে কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করার মধ্যে একটা রোমান্টিক ব্যাপার আছে।

আজকাল সায়েম হ্যান্ডব্যাগে ছাতা রাখে। মে মাস থেকে ঝড়বৃষ্টি শুরু হবে। সায়েম ভাবতে ভালোবাসে, একদিন তারা দু'জন দাঁড়িয়ে আছে, এমন সময় ঝুমবৃষ্টি নামবে। তখন সে ঈষিকার মাথার ওপর ছাতা মেলে ধরবে। ঈষিকার ব্যাপারে তার চিন্তার দৌড় মাথার ওপরে ছাতা ধরা পর্যন্ত। এর বেশি এগোনোর সাহস হয়নি।

সায়েম চাকরি করে মেঘনা অ্যাপারেলে। টঙ্গী ব্রিজ থেকে যে রাস্তাটা পুবাইলের দিকে চলে গেছে, সেখানে উঁচু দেয়াল গিয়ে ঘেরা তাদের গার্মেন্টস। বায়িং হাউসও সেখানে। সে কাজ করে প্রোডাকশনে। আর ঈষিকা মার্চেন্ডাইজিংয়ে জয়েন করেছে গত অক্টোবরে। আলাদা সেকশন। দুটো আলাদা বিল্ডিংয়ে তাদের বসার জায়গা। এক সেকশনের সঙ্গে আরেক সেকশনের এমপ্লয়ির যোগাযোগের সে রকম সুযোগ নেই। যেটুকু কথা বলার সুযোগ, তা ভাদুরী টাওয়ার থেকে টঙ্গী পর্যন্ত জার্নিতে।

সায়েমের এই ইতিহাস জানার পর নিশ্চয়ই আপনাদের খুব রাগ হচ্ছে। আফসোস হচ্ছে, ঈষিকার মন একটু নরম হলে কী এমন ক্ষতি হতো? এই পৃথিবীতে সবকিছুই কেন দুইয়ে দুইয়ে চার হতে হবে? অলৌকিক কোনো ডাকপিওন এসে কি সায়েমের না বলা কথাগুলো ঈষিকার মনে পৌঁছে দিতে পারে না? মন্ত্রবলে যদি দৃশ্যটা অন্য রকম হয়ে যেত?

সায়েম যখন হনহন করে হেঁটে এসে ঈষিকাকে বলল, কেমন আছেন... তখন ঈষিকা মিষ্টি হেসে বলতে পারত, আরে আপনি! আজব! আমাদের আজও দেখা হয়ে গেল।

তখন সায়েম সে হাসিতে যোগ দিয়ে হয়তো বলত, হুম। দেখা কি আর এমনি এমনি হয় নাকি? রোজ এসে দাঁড়িয়ে থাকি মসজিদের পাশে। অপেক্ষা করি, আপনি কখন বেরোবেন।

এত ফাজলামি করতে পারেন আপনি? ওহ!

ফাজলামি করলাম! আমি?

করেননি! সত্যি আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন আপনি?

সত্যি।

এটা তো খুব ভয়ের কথা।

ভয়ের কেন? আপনার দু-চারজন অ্যাডমায়ারার থাকতে পারে না? তারা আপনার জন্য পথে-ঘাটে অপেক্ষা করবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। ধরে নিন, আমিও তাদের মধ্যে একজন।

আচ্ছা ধরলাম।

গুট গুট করে গল্প করতে করতে তারা ততক্ষণে চলে এসেছে পরীবাগ ওভারব্রিজের নিচে। অফিসের গাড়ি এখান থেকেই তাদের পিক করবে। সায়েম লক্ষ্য করল, ঈষিকাকে দেখতে একটু অন্য রকম লাগছে। সাধারণত সে সাজগোজ করে না। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, একটু সেজেছে। চোখে শেডের মতো দেওয়া, ঠোঁটে লিপস্টিক। কপালে প্রায় দেখা যায় না এ রকম একটা টিপও আছে।

সায়েম একটু অবাক হয়ে বলল, আজ অন্য রকম লাগছে আপনাকে। কাহিনি কী?

অন্য রকম?

হুম।

সম্ভবত এই কুর্তিটার জন্য। নতুন তো। এই কুর্তিতে আগে দেখেননি আমাকে।

নতুন কুর্তি! বাহ, দারুণ!

গিফট পেয়েছি।

কে দিল?

মা। গতকাল রাত বারোটায় দিয়েছে। সারপ্রাইজ গিফট।

ওয়েট, ওয়েট, ওয়েট... রাত বারোটায়! বাই অ্যানি চান্স, আজ কি আপনার জন্মদিন নাকি?

ঈষিকা লাজুক হাসল।

সায়েম ঈষিকার প্রায় কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, হ্যাপি বার্থডে ঈষিকা। আমি জানতাম না, আজ আপনার জন্মদিন। জানলে কিছু একটা গিফট নিয়ে আসতাম।

দিন তো মাত্র শুরু হলো, ঈষিকা হেসে বলল, পালিয়ে তো আর যাচ্ছে না কোথাও। সে সুযোগ আপনি পাবেন।

আচ্ছা, দ্যাট উইল বি মাই প্লেজার। আপনার মা কিন্তু একটা ব্যাপার মিস করে গেছেন।

কী ব্যাপার?

জন্মদিনে অফিস করা ঠিক না, এটা আপনার মা বলতে পারতেন।

ঠিক না?

না। একেবারেই না। এদিন নিজের মতো করে সময় কাটাবেন। অফিস যাবেন না। অফিস-টফিস খুবই ফালতু ব্যাপার। মনের মধ্যে কালো দাগ পড়ে যায় সেখানে গেলে। এমন দিনে এসব করা উচিত না।

তাহলে কী করা উচিত?

বলতে পারি আপনাকে। বললে করবেন?

বলেই দেখেন। করতেও তো পারি।

চলেন, দু'জনেই অফিস ডাম্প করি আজ।

আমার না হয় বার্থডে বুঝলাম, ঈষিকা বলল, সে কারণে আমি ডাম্প করলাম। আপনি কেন করবেন?

আপনার জন্য বার্থডে গিফট কিনব বলে, সায়েম বলল, তা ছাড়া আর একটা কারণও অবশ্য আছে।

সেটা কী?

আমি অকারণে অফিস ডাম্প করেছি বলে অফিসে গেলেই ঝাড়ি খাব। তখন আপনার খুব মন খারাপ হবে। মনে হবে, আহারে বেচারা আমার জন্য ঝাড়ি খেল! আপনার এই সিমপ্যাথিটুকু আমার খুব দরকার।

রাস্তার মধ্যেই ঈষিকা খিলখিল করে হেসে উঠল।

সকাল সাতটা বেজে আটত্রিশ মিনিট তখন। ভিড়ে ভিড়াক্কার রাস্তা। সবাই অফিস যাবে বলে বেরিয়েছে। তারা গাড়ি করে যাচ্ছে, বাসে করে যাচ্ছে, বাইকে চড়ে যাচ্ছে, সিএনজিতে যাচ্ছে, ফুটপাত দিয়ে হাঁটছে। হাঁটার সময় একজন আরেকজনকে কনুই দিয়ে গুঁতো মারছে। দূরে কোথায় যেন আগুন লেগেছে। ফায়ার ব্রিগেডের একটা গাড়ি বিকট শব্দে সাইরেন বাজিয়ে চলে গেল।

সায়েম কিছুই শুনতে পেল না। তার মনে হলো, পৃথিবীতে ঈষিকার হাসির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।

মন্তব্য করুন