পুলিৎজার ও ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী আমেরিকান লেখক কোলসন হোয়াইটহেডের জন্ম ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। 'দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরোড' ও 'দ্য নিকেল বয়েজ' তার দুটি অনন্য সৃষ্টি। যে দুটি বইয়ের জন্য তিনি পৃথকভাবে দু'বার পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছেন। 'দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরোডে'র জন্য পেয়েছেন আমেরিকান ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার নতুন উপন্যাস 'হার্লেম শাফল'। প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হার্লেম শাফলের নাম চলে আসে নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার তালিকায়। 'হার্লেম শাফল' নিয়ে এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

'হার্লেম শাফল'-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র রে কার্নি। একসময় ভবঘুরে বাউণ্ডুলে জীবন কাটানো একজন মানুষ খোলস পাল্টে বেরিয়ে এসে একটি সুন্দর জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে বেছে নেয় আসবাবপত্রের ব্যবসা। যা দিয়ে স্ত্রী এলিজাবেথকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। এভাবে ভালোভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল তাদের। এক দিন ঘটে যায় এক দুর্ঘটনা। রে কার্নির চাচাতো ভাই ফ্রেডি বন্ধুদের পাল্লায় পরে থেরেসা হোটেল লুট করার পরিকল্পনা করে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী চুরি সম্ভব হয় না। ঘটনাটি প্রকাশ পেয়ে যায়। চলে আসে রে কার্নির নাম। শুরু হয় পুলিশের অনুসন্ধান। একটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ জীবন অতিক্রম করে স্বাভাবিক জীবনে নিজেকে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও সম্ভব হয়ে ওঠে না। মুখোমুখি হতে হয় নানাবিধ সমস্যার।

এই উপন্যাসের কাহিনি মূলত ১৯৬০-এর দশকের সে সময়কার নিউইয়র্ক সিটির প্রেক্ষাপটকে ঘিরে। 'হার্লেম শাফল' একটি পারিবারিক কাহিনি, অপরাধের করুণ বয়ান, হাস্যকর নৈতিকতার উপাখ্যান, অসম ক্ষমতায়ন ও মানুষগুলোর বিচিত্র চরিত্রায়নের সফল শব্দায়ন। সর্বোপরি 'হার্লেম শাফল' একটি মননশীল সামাজিক উপন্যাস এবং হার্লেমের কাছে একটি নির্মল প্রেমের চিঠি, যা পাঠককে নিখাদ আনন্দ দেবে ও সুখপাঠে অনুরণিত করবে।

মন্তব্য করুন