'গাজী রাকায়েত স্যারের প্রশ্ন ছিল- অভিনেতা হিসেবে তোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী? উত্তরে আমি বলেছিলাম, স্যার আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমার ফিটনেস, আমার আউটলুক। আমি দেখতে মোটেও সুন্দর নই। স্যারের উত্তর ছিল- কে বলেছে অভিনেতা হতে হলে সুদর্শন হতে হবে? তাহলে হুমায়ুন ফরিদী এত বড় অভিনেতা হতেন না। বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে কেউ কখনও অভিনেতা হতে পারে না। আমার মন বলছে, তুই যদি লেগে থাকিস একদিন খুব ভালো জায়গায় যাবি'- কথাগুলো স্বপ্নিলের। স্বপ্নিলের পরিচয়টা বলে শেষ করতেই লেগে যাবে খানিকটা সময়, তাই তো সবাই নামের পাশে জুড়ে দিয়েছে 'অলরাউন্ডার' শব্দটি। একাধারে নিজেকে গড়ে তুলেছেন হরেক পরিচয়ে। 'অভিনেতা', 'ক্রীড়াবিদ', 'লেখক' ছাপিয়ে আরও গোটাকয়েক। পুরো নাম স্বপ্নিল চৌধুরী। জন্ম বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানীখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেই। সেখানেই কেটেছে শৈশব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তর লক্ষ্মীপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও আশুগঞ্জ সার কারখানা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিবিএ এবং এমবিএ সম্পন্ন করা এই তরুণ বর্তমানে কাজ করছেন দেশের স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। শিক্ষাজীবন থেকেই ছিলেন খেলাধুলা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ছিলেন স্কাউট টিমের কমান্ডার, স্কুলভিত্তিক ক্রিকেট এবং ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন। যেমন মাঠ কাঁপিয়েছেন, তেমনি কাঁপিয়েছেন মঞ্চ নাটকের স্টেজও। 'চারুনীড়ম' থিয়েটারের হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত মাতিয়েছেন মঞ্চ নাটকেও। যেমন অভিনয় করেছিলেন টিভি নাটকে, তেমনি খেলেছেন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট এবং ফুটবল টুর্নামেন্টও; তাই তো শিক্ষকদের ভাষায় 'অলরাউন্ডার'। এতেই শেষ নয়, লেখক পরিচয় যে বাকিই রয়ে গেল। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অকালপ্রয়াত প্রতিভাবান অলরাউন্ডার মানজারুল ইসলাম রানাকে নিয়ে লিখেছেন তার জীবনীগ্রন্থ 'জার্সি নম্বর ৯৬'। শুধু তাই নয়, বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেছেন দেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ১০ সদস্যের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইউশি কালচারাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় গিয়েছিলেন ১৪ দিনের জাপান সফরে।

এই দীর্ঘ পথচলায় স্বপ্নিলের অর্জন? স্কুলভিত্তিক সব আয়োজনে প্রথম স্থান ছাড়াও ক্যারম, ড্রামা কম্পিটিশন, কেস স্টাডিসহ ইত্যাদি আয়োজনেও আছে পুরস্কারের বিশাল জুড়ি। চারুনীড়ম থিয়েটারের বার্ষিক অভিনয় প্রতিযোগিতায় করে নিয়েছেন শীর্ষস্থান। ২০১৯ সালের স্বপ্নিলের অভিনীত প্রামাণ্যচিত্র 'ভালোবাসার বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রতিযোগিতায় স্থান করে নিয়েছিল শীর্ষ ১০-এর তালিকায়। বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন ড. তৌফিকুল ইসলাম (মিথিল) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'আঁধারে আলো' নামে একটা সামাজিক সংগঠন এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেতা ও পরিচালক গাজী রাকায়েত হোসেন পরিচালিত 'চারুনীড়ম থিয়েটার'সহ জাপানের ইউশি ইয়াকি-এর 'চ্যালেঞ্জ ওয়ার্ক' নামে একটি প্রোগ্রামের সঙ্গে।

এই দীর্ঘ পথচলায় যেন ভুলতে চান না পেছনের মানুষগুলোর অবদান। ধন্যবাদ জানাতে চান নিজের পরিবারকে, যাদের মাধ্যমে নিজেকে ভিন্নভাবে খুঁজে পেয়েছেন এই ব্যস্ত জীবনের স্বার্থে কাজ করতে। আগামীর লক্ষ্যটা কী- জানতে চাইলে জানিয়ে দেন, সবার ভাষায় অলরাউন্ডার স্বপ্নিল পদবিটি ধরে রাখতে চান নিজ যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে।

মন্তব্য করুন