১০ বছরের লিজা চলাফেরা করতে পারে না, পাগুলো বাঁকা, চেয়ারেই সারাক্ষণ বসে থাকে। বাবা সিএনজি চালাতেন, বছরখানেক আগে যাত্রীবশী ডাকাত ওর বাবাকে মেরে লাশ ফেলে রেখে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। মা একটা গার্মেন্টসে ৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। এরকম অনেক পরিবার আছে, করোনায় যাদের জীবন বিপর্যস্ত। কভিড-১৯-এর সৃষ্ট লকডাউনে লেটস ব্রেকস দ্য সাইলেন্স (খইঞঝ) চেষ্টা করছে এমন মানুষের পাশে থাকার জন্য।

'কিছুদিন আগে আমরা বেশ কিছু নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে গিয়েছি। তাদের কথা শোনার চেষ্টা করেছি, তাদের সংগ্রামের কথা আমার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে'- কথাগুলো বলছিলেন স্পেশাল চাইল্ড নিয়ে কাজ করা খইঞঝ এর প্রতিষ্ঠাতা জয়া করিম।

শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরী লিজার মতোই বেশ কয়েকটি পরিবারকে খইঞঝ টিম গেছে সহযোগিতা করতে। শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদান এবং নিজস্ব ফান্ড থেকে সংগঠনটি বেশকিছু পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং হুইলচেয়ার দেয়। চলাচল করতে না পারা কিশোরী লিজা হুইলচেয়ার পেয়ে দারুণ খুশি।

জয়া আরও বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু আমাদের অর্গানাইজেশনটা ছোট, অনেক সীমাবদ্ধতাও আছে, ফান্ড আর ভলান্টিয়ার সংকট; তবুও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অটিস্টিক ও স্পেশাল চাইল্ডদের নিয়ে নিয়মিত আর্টক্যাম্প করি। এপ্রিলে তাদের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর পরিকল্পনা আছে। ২১ মার্চ 'বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম ডে' ও ২ এপ্রিল 'বিশ্ব অটিজম দিবস'। সেই সময়ে সচেতনতা তৈরিতে কর্মশালা করারও পরিকল্পনা আছে। রমজান মাসে আমরা প্রতিদিন ১০০ সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ শিশুদের ইফতার করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।"

পেছনের গল্প বলতে গিয়ে জয়া করিম বলেন, 'আমি একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার, ভাবলাম ডিজঅ্যাবল বাচ্চাদের ওপর একটা ফটোবুক করব। যেখানে তাদের সাফল্যগাথা ফুটে উঠবে। ২০১৮ সালের বইমেলায় খবঃ্থং ইৎবধশ ঞযব ঝরষবহপব নামে আট ডিজঅ্যাবল শিশুকে নিয়ে ফটোবুকটি বের হয়। পরে এ নামেই সংগঠন শুরু করি। যার মূল কাজ বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে ধারণা দেওয়া। শুরুতে একাই কাজ করছিলাম। পরবর্তীতে হাসিব মামুন নামে এক অনুজ যোগ দেয়।

খবঃ্থং ইৎবধশ ঞযব ঝরষবহপব-এর শুরু থেকেই একটাই লক্ষ্য- নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধিতা, অটিজম ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং মাদ্রাসাতে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি প্রতি মাসে চেষ্টা করা হয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাওয়ানোর একটা আয়োজন রাখতে।

মানবিকতার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে নিঃসন্দেহে।

মন্তব্য করুন