কবি জীবনানন্দ দাশ যে বাংলায় ফিরে আসতে চেয়েছিলেন শালিক বা শঙ্খচিলের বেশে- সে বাংলা, বাংলাদেশ তাকে নিয়ে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশ করে ২০০০ সালের তার জন্মদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি। শততম জন্মবার্ষিকীর এক বছর পর প্রকাশিত চার টাকা মূল্যমানের এ ডাকটিকিটের ডিজাইনার ছিলেন আনোয়ার হোসেন, তার আঁকা জীবনানন্দের এ প্রতিকৃতিটি বেশ জীবন্ত। ডাকটিকিটের সঙ্গে একটি উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর প্রকাশিত হয়। ডাকটিকিটে যেমন বেদনার রং নীল রঙের ব্যবহার বেশি করা হয়েছে, তেমনি উদ্বোধনী খামে জীবনানন্দের প্রিয় প্রকৃতির রং সবুজের আধিক্য লক্ষণীয়। খামটিতে পেনসিল স্কেচে আঁকা জীবনানন্দের আরেকটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। জীবনানন্দের মুখের পেছনে রয়েছে তার কবিতায় উল্লিখিত বাংলার চিরচেনা দৃশ্যপট- ডালপালাযুক্ত একটি গাছের শাখার পেছনে গ্রামবাংলার বাড়ির দৃশ্যপট। ড্রইংটির নিচে কবির কবিতার লাইন লেখা আছে- 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি/ তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর'। উদ্বোধনী খামে ক্যানসেলেশন হিসেবে ঢাকা জিপিওর সিলমোহর দেখা যায়, সেখানে লেখা রয়েছে- 'জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪), ঔরনধহধহধহফধ উধং (১৮৯৯-১৯৫৪)।'

১৯ নভেম্ব্বর ১৯৯৯ ফেলিটেলিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে ডাকটিকিটের প্রদর্শনী 'পিএবিইএক্স-১৯৯৯' উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ খামে জীবনানন্দের মুখাবয়ব ব্যবহার করে একটি সিলমোহর প্রকাশ করেছিল ঢাকা জিপিও।

ভারত থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাংলা সাহিত্যের চার কবি জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে 'পোয়েটস অব বেঙ্গল' নামে একটি উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করে ভারতীয় ডাক বিভাগ। সেখানে এ চার কবির মুখাবয়ব ব্যবহূত হয়েছে। বিশেষ খামটি 'একলা চলো রে :ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট লেভেল ফিলেটেলিক এক্সিবেশন' উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়। খামের পেছন দিকে হিন্দিতে ও ইংরেজিতে চার কবির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ছাপানো রয়েছে। উদ্বোধনী খামটি কলকাতায় অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের প্রধান ডাক কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে ছাপা- এ কথাটিও লেখা রয়েছে।

মন্তব্য করুন